kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ২২:৫২



নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের স্বপ্নযাত্রা শেষ হলো ইংল্যান্ডের নিষ্ঠুর ব্যাটিংয়ে। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখা কিউইরা দিল্লির সেমিফাইনালে মুখ থুবড়ে পড়লো। বুধবার তাদের স্পিন যাদুতে কাজ হলো না। ওপেনার জ্যাসন রয়ের অসাধারণ ৭৮ রান জয়ের পথ ইংল্যান্ডের জন্য সহজ করে দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ১৭ বল হাতে রেখে খেলা শেষ করেছে ইংলিশরা। ৩ এপ্রিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সের ফাইনালে ইংলিশরা খেলবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে।

আসরের একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে সেমিফাইনালে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। ১২৬, ১৪২ ও ১৪৫ রান করেও বেশ সহজে জিতেছে গ্রুপ পর্বে। এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ৮ উইকেটে ১৫৩ রান করলো তারা। কিন্তু এই ইংল্যান্ডই গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার দেয়া ২৩০ রানের টার্গেট রেকর্ড গড়ে জয় করেছিল।

এদিন ওপেনার রয় ৪৪ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৮ রান করেছেন। তাতে বেশ সহজেই জিতেছে ইংলিশরা। ১৭.১ ওভারে ১৫৯ রান করেছে তারা। রয় ম্যাচের সেরা।  

পেসার কোরি অ্যান্ডারসনকে প্রথম ওভারেই ৪টি বাউন্ডারি মেরেছেন রয়। ইংলিশদের আগ্রাসী মেজাজ ওখানেই স্পষ্ট। প্রথম বল থেকে আক্রমণের নীতিতে গেছে তারা। রয়ের সাথে দ্রুতই আক্রমণে যোগ দিয়েছেন অ্যালেক্স হেলস। নিউজিল্যান্ডের সফল স্পিনার মিচেল স্যান্টনারও এসে রয়ের হামলার মুখে পড়েছেন। বিস্ফোরক ব্যাটিং করেছেন রয়। প্রথম ৬ ওভারের মধ্যেই কিউইদের সংগ্রহটা ছোটো মনে হতে শুরু করে। পাওয়ার প্লেতে ৬৭ রান এসেছে কোনো উইকেট না হারিয়ে। ২৬ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটা বিশ্বকাপেই করলেন রয়। এই ফিফটিতে ৯টি চার ও একটি ছক্কা।

ব্রেক থ্রুটা নিউজিল্যান্ড পায় নবম ওভারে। স্পিনারেই। স্যান্টনারকে তুলে মেরে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ২০ রান করা হেলস। নবম ওভারে ৮২ রানে প্রথম উইকেট পড়েছে ইংল্যান্ডের। ইন ফর্ম জো রুটকে সাথে নিয়ে রয় দলের রান ১০০ পার করিয়েছেন ১১তম ওভারেই। জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে ৫৬ রানের দরকার পড়ে ইংলিশদের।

কিন্তু লেগ স্পিনার ইশ সোধি ম্যাচে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন নিউজিল্যান্ডকে। ১৩তম ওভারে তার জোড়া আঘাতে ফিরে গেছেন বিপজ্জনক রয় ও অধিনায়ক এউইন মরগ্যান। হ্যাটট্টিকটা হয়নি সোধির। যে সোধি ম্যাচে ফেরার আশা দেখিয়েছিলেন সেই তার করা ১৭তম ওভারেই ম্যাচটা পকেটে পুরে নেয় ইংল্যান্ড। শেষ ২৪ বলে ২৩ রান দরকার। সোধিকে জশ বাটলার দুটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি মারলেন। রুট মারলেন এক বাউন্ডারি। এই ওভার থেকে আসলো ২২ রান! খেলা টাই! পরের ওভারের প্রথম বলে স্যান্টনারকে ছক্কা মেরে খেলাটা ইংলিশদের ফাইনালে নিয়ে গেলেন বাটলার। ১৭ বলে ৩২ রানে বাটলার অপরাজিত থেকেছেন। রুট অপরাজিত ২২ বলে ২৭ রান করে। অবিচ্ছিন্ন এই চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৪৯ রান এসেছে ২৯ বলে। কিউইদের আর আশা থাকেনি।      

এর আগে টস হেরেও ব্যাটিং পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। মার্টিন গাপ্টিল পেসার ডেভিড উইলিকে প্রথম ওভারে দুটি বাউন্ডারি মেরে খেলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৫ রান করেই উইলির বলে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। এরপর ৭৪ রানের জুটিতে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস গড়েছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও কলিন মুনরো। শুরুর চাপ ঝেড়ে ফেলে এই জুটি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। তারা খোলসমুক্ত হওয়ার পর আঘাত হানেন মঈন আলি। এই স্পিনারকে তুলে মেরে তাকেই ক্যাচ দিয়েছেন উইলিয়ামসন। ২৮ বলে ৩২ রান দিয়ে গেছেন ক্যাপ্টেন।

ইংলিশ বোলাররা কিউইদের চাপে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্পিনার আদিল রশিদ মার খেলেন। পেসার লিয়াম প্লাঙ্কেটও। তবে প্লাঙ্কেটই তুলে নিয়েছেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা মুনরোকে। ৩২ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ রান করে ফিরেছেন মুনরো। এখান থেকেই আসলে পথ কিছুটা হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ১০৭ রানে নিউজিল্যান্ড তৃতীয় উইকেট হারায়। কোরি অ্যান্ডারসন দায়িত্ব নিয়ে খেললেন। দ্রুত রান তুলেছেন। কিন্তু পর পর দুই ওভারে তিন উইকেট হারায় কিউইরা। রস টেলরে (৬) স্বস্তায় ফিরেছেন। বেন স্টোকস হ্যাটট্টিকের সুযোগ তৈরি করেছিলেন লুক রনকি (৩) ও অ্যান্ডারসনকে (২৮) ফিরিয়ে দিয়ে। ১৭.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৯। সেখান থেকে দেড়শো পেরিয়েছে অনেক কষ্টে। অথচ ১০ ওভারে ৮৯ রান ছিল তাদের। পরের ১০ ওভারে তুললো মাত্র ৬৪। স্টোকস ৪ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বোলাররা আটকে রেখেছিলেন কিউই ব্যাটসম্যানদের। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা ঝড় তুলে সহজ জয়ে দলকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে।     

 


মন্তব্য