kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় নিউজিল্যান্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ২২:২৩



ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় নিউজিল্যান্ড

ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে নিউজিল্যান্ডকে এখন অসাধারণ কিছুই করতে হবে। এবং লেগ স্পিনার ইশ সোধি দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করছেন দলকে।

দুই ইংলিশ ওপেনারের ব্যাটিংয়েই কিউইদের অনেকটা ছিটকে ফেলে ইংল্যান্ড। প্রথম দশ ওভারের মধ্যে ৯৮ রান তুলে ফেলে তারা। জ্যাসন রয়ের তাণ্ডবে নিউজিল্যান্ডের ৮ উইকেটে গড়া ১৫৩ রানের সংগ্রহকে ছোটোই মনে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রয়কে ব্যক্তিগত ৭৮ রানে বিদায় করা গেছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় ১৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৭ রান ইংল্যান্ডের। দিল্লির সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে উঠতে তাদের ৪২ বলে ৩৭ রান দরকার। জো রুট ১৬ ও জশ বাটলার ১ রানে ব্যাট করছেন।  

পেসার কোরি অ্যান্ডারসন প্রথম ওভারেই জ্যাসন রয়ের আক্রমণের শিকার। তাকে ৪টি বাউন্ডারি মেরে দিয়েছেন রয়।

বোঝা গেছে, প্রথম বল থেকে আক্রমণের নীতি ইংলিশ ব্যাটসম্যানদেরও। তারাই দক্ষিণ আফ্রিকার দেয়া ২৩০ রানের টার্গেট তাড়া করে রেকর্ড গড়ে জিতেছিলেন। তাহলে এটা নয় কেন? রয়ের সাথে দ্রুতই যোগ দিয়েছেন অ্যালেক্স হেলস। নিউজিল্যান্ডের সফল স্পিনার মিচেল স্যান্টনারও এসে রয়ের হামলার মুখে পড়েছেন। বিস্ফোরক ব্যাটিং করেছেন রয়। প্রথম ৬ ওভারের মধ্যেই কিউইদের সংগ্রহটা ছোটো মনে হতে শুরু করেছে। পাওয়ার প্লেতে ৬৭ রান এসেছে কোনো উইকেট না হারিয়ে। ২৬ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটা বিশ্বকাপেই করলেন রয়। এই ফিফটিতে ৯টি চার ও একটি ছক্কা।

ব্রেক থ্রুটা নিউজিল্যান্ড পায় নবম ওভারে। স্পিনারেই। স্যান্টনারকে তুলে মেরে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ২০ রান করা হেলস। নবম ওভারে ৮২ রানে প্রথম উইকেট পড়েছে ইংল্যান্ডের। ইন ফর্ম জো রুটকে সাথে নিয়ে রয় দলের রান ১০০ পার করিয়েছেন ১১তম ওভারেই। জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে ৫৬ রানের দরকার পড়ে ইংলিশদের।

কিন্তু লেগ স্পিনার ইশ সোধি ম্যাচে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন নিউজিল্যান্ডকে। ১৩তম ওভারে তার জোড়া আঘাতে ফিরে গেছেন বিপজ্জনক রয় ও অধিনায়ক এউইন মরগ্যান। ৪৪ বলে ৭৮ রান করে বোল্ড হয়েছেন রয়। পরের বলেই এলবিডাব্লিউর শিকার মরগ্যান। হ্যাটট্টিকটা হয়নি সোধির।     

এর আগে টস হেরেও ব্যাটিং পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। মার্টিন গাপ্টিল পেসার ডেভিড উইলিকে প্রথম ওভারে দুটি বাউন্ডারি মেরে খেলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৫ রান করেই উইলির বলে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। এরপর ৭৪ রানের জুটিতে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস গড়েছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও কলিন মুনরো। শুরুর চাপ ঝেড়ে ফেলে এই জুটি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। তারা খোলসমুক্ত হওয়ার পর আঘাত হানেন মঈন আলি। এই স্পিনারকে তুলে মেরে তাকেই ক্যাচ দিয়েছেন উইলিয়ামসন। ২৮ বলে ৩২ রান দিয়ে গেছেন ক্যাপ্টেন।

ইংলিশ বোলাররা কিউইদের চাপে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্পিনার আদিল রশিদ মার খেলেন। পেসার লিয়াম প্লাঙ্কেটও। তবে প্লাঙ্কেটই তুলে নিয়েছেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা মুনরোকে। ৩২ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৬ রান করে ফিরেছেন মুনরো। এখান থেকেই আসলে পথ কিছুটা হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ১০৭ রানে নিউজিল্যান্ড তৃতীয় উইকেট হারায়। কোরি অ্যান্ডারসন দায়িত্ব নিয়ে খেললেন। দ্রুত রান তুলেছেন। কিন্তু পর পর দুই ওভারে তিন উইকেট হারায় কিউইরা। রস টেলরে (৬) স্বস্তায় ফিরেছেন। বেন স্টোকস হ্যাটট্টিকের সুযোগ তৈরি করেছিলেন লুক রনকি (৩) ও অ্যান্ডারসনকে (২৮) ফিরিয়ে দিয়ে। ১৭.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৯। সেখান থেকে দেড়শো পেরিয়েছে অনেক কষ্টে। অথচ ১০ ওভারে ৮৯ রান ছিল তাদের। পরের ১০ ওভারে তুললো মাত্র ৬৪। স্টোকস ৪ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।        


মন্তব্য