kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে ওঠার লড়াই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ২০:০৬



ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে ওঠার লড়াই

ভারতীয়রা কিভাবে রুখবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে? ক্যারিবিয়ানরা মাঠে নামে নির্মল বিনোদন তুলে নিতে। বিনোদন দিতে। ইচ্ছে-স্বাধীন তাদের খেলা। ক্রিস গেইলদের সেই খেলার মধ্য লুকিয়ে থাকে ভয়ঙ্কর সুন্দর। ভারতীয়রা শক্তিতে এই সময়ে এক নম্বর। কিন্তু গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হারের পর প্রত্যেক ম্যাচ হয়ে উঠেছিল নক আউটের মতো। সেই ঝড় সামলে উঠেছে সেমিফাইনালে। দল হিসেবে তারা জ্বলে উঠতে পারছে কি না তা নিয়ে খোদ টিম ডিরেক্টর রবি শাস্ত্রির মনেও প্রশ্ন। কিন্তু লড়াইয়ের জন্য তৈরি দুই দলই। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামও তৈরি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটায় মুখোমুখি ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অতীতের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখবেন এই ম্যাচ এক দলের এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। আগের চার ম্যাচে দুটি করে জিতেছে দুই দল। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারার কারণে বড্ড অনিশ্চয়তা পাড়ি দিতে হয়েছে ২০০৭ এর চ্যাম্পিয়ন ভারতকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে গিয়েছিল। বিরাট কোহলির বিরোচীত ব্যাটিংয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ভারত। ২০১২ এর চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেমিফাইনালে উঠতে তেমন কোনো রুদ্ধশ্বাস প্রহর পেরুতে হয়নি। প্রথম তিন ম্যাচে জিতেই শেষ চারে উঠেছে। শেষ ম্যাচে তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারলেও তাদের ক্ষতি হয়নি।

এই সেমিফাইনালকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি বলছেন 'ডেভিড ও গোলিয়াথ' এর লড়াই। খেলাটা ভারতে। স্টেডিয়ামের একজন দর্শকেরও সমর্থন পাবেন না। ভারতের আছে শত কোটি মানুষের সমর্থন। এসব বিবেচনায় নিজেদের পুচকে ডেভিডই ভাবছেন স্যামি। তবে অসম লড়াইয়ে শেষে ডেভিড জেতে, এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে পেমেন্ট নিয়ে দলটিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের সাথেও লড়তে হয়েছে। স্যামি মনে করেন, তাতে তার দল আরো একজোট হয়েছে। তার বিশ্বাস, গোটা বিশ্বের সাথে লড়েই এই পর্যন্ত এসেছেন। আরো মনে হচ্ছে, এই টুর্নামেন্টটা ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই হতে পারে। ক্রিস গেইলদের দলের ম্যাচে উইনারের অভাব নেই। প্রথম ম্যাচটা গেইল দানবীয় সেঞ্চুরিতে জিতিয়েছিলেন। পরের দুই ম্যাচ জিতিয়েছেন অন্যরা।

ভারতীয় দলের সমস্যা কি? আসলে দল হিসেবে জ্বলে উঠতে পারছে না তারা। টি-টোয়েন্টিতে গোটা দলের খেলার দরকার পড়ে না। কিন্তু তারা অনেক বেশি কোহলি নির্ভর। শাস্ত্রি তাই দলের অন্য ব্যাটসম্যানদের জেগে ওঠার ডাক দিয়েছেন। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়নাদের সেমিফাইনাল থেকে রান করতে বললেন। পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি মূল্যবান জুটিতে ছিলেন যুবরাজ সিং। কিন্তু অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে গোড়ালির ইনজুরিতে। আইপিএল হিরো ব্যাটসম্যান মনিশ পান্ডের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু সেমিফাইনালের একাদশে তিনি না আজিঙ্কা রাহানে না পবন নেগি খেলবেন তা বলা যাচ্ছে না।



টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন গেইল দাঁড়িয়ে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাজটা হয়ে যায় সহজ। ব্যাটিংয়ে তাদের গভীরতাও আছে। ডোয়াইন ব্রাভোর মতো অল রাউন্ডারকে চাইবেন যে কোন অধিনায়ক। তিন বিভাগেই অসাধারণ। আন্দ্রে রাসেল আরেক দুর্দান্ত অল রাউন্ডার। ক্যাপ্টেন স্যামিও অল রাউন্ডার। ব্যাটিংয়েও প্রত্যেকের জেতানোর সামর্থ্য আছে। ভারতের কন্ডিশনে স্পিনে স্যামুয়েল বদ্রি ও সুলিমান বেন কাজে আসছেন। বদ্রি টি-টোয়েন্টি বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা বোলার।

ভারত স্পিনে আক্রমণ করতে চাইবে ক্যারিবিয়ানদের। দুই পেসার আশিস নেহরা ও জসপ্রিত বুমরাহকে যথার্থই সহায়তা করছেন তরুণ হার্দিক পান্ডিয়া। ডেথ ওভারের বোলারও হয়ে উঠেছেন পান্ডিয়া। আর স্পিনের রবিচন্দ্রন অশ্বিন পুরোপুরি সফল না হলেও যে কারো জন্য হুমকি। সাথে রবিন্দ্র জাদেজা ধারাবাহিক। আফগানদের বিপক্ষে গেইল খেলেননি। কিন্তু ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের স্পিনের বিপক্ষে খেই হারাতে দেখা গেছে। ভারতও সেই সুযোগটা নিতে চাইবে।  

বাজিকররা ভারতকে ফেভারিট বলছে। আসলে কি তাই? যে কোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলার অসম্ভব ক্ষমতার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পিছিয়ে রাখবেন কিভাবে?


মন্তব্য