kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

মুস্তাফিজের বীরত্বের পর ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২১



মুস্তাফিজের বীরত্বের পর ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়

কি কাণ্ডটাই না করলেন মুস্তাফিজুর রহমান! তার বাঁ হাতের মুঠিতে যেন বিস্ময়ের ভাণ্ডার! সেখান থেকে বের করা যাদুতে বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়লেন। ৪ ওভারে ২২ রানে ৫ উইকেট! এই বাঁ হাতি পেসারের আঘাতে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে করলো মাত্র ১৪৫ রান।

বিশ্বকাপের নিজেদের শেষ ম্যাচে জয়ের যৌক্তিক একটা সম্ভাবনাই মুস্তাফিজ দিয়েছিলেন দলের সামনে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ভয়াবহ ব্যর্থতায় নিদারুণ চাপের মধ্যে বাংলাদেশ। তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়েছে ব্যাটিং লাইন আপ। দলীয় সর্বনিম্ন ৭৮ রান এখন চোখ রাঙ্গাচ্ছে টাইগারদের। ১১ ওভারে ৬ উইকেটে ৪৫ রান টাইগারদের। বাংলাদেশের মান বাঁচানোই দায়! মাহমুদ উল্লাহ ৪ ও শুভাগত হোম রানে ব্যাট করছেন। ১১ ওভারের পর ফ্লাড লাইট বিপর্যয় হয়। সব আলো না নিভলেও আলো কমে যায়। দুই দলের খেলোয়াড়রা ডাগ আউটে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যে আবার মাটে ফিরেছেন। এসেই আরেক উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ মিথুনের সাথে বাজে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়েছেন তামিম ইকবাল (৩)। এরপর ২৫ রানের জুটি হলো মিথুন ও সাব্বির রহমানের মধ্যে। কিন্তু আঘাত হানলো নিউজিল্যান্ড। ১৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেললো বাংলাদেশ। বোল্ড হয়েছেন মিথুন (১১)। এই উইকেট পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাঘানের। পরের চার উইকেট স্পিনারদের। সাকিব আল হাসান (২) তুলে মেরে ক্যাচ দিয়েছেন। ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাব্বিরও (১২)। সৌম্য সরকার (৬) স্টাম্পিংয়ের শিকার। মুশফিকুর রহিম (০) বোল্ড। ৪৪ রানে ৬ উইকেট নেই বাংলাদেশের।

আগের ম্যাচে ভারত ১৪৬ রান করার পর বাংলাদেশ হেরেছে ১ রানে। আর নিউজিল্যান্ড প্রথম ম্যাচে ভারতকে ১২৬ রানে আটকে ফেলেও জিতেছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৪২ রান করেও জয় তুলে নিয়েছিল।

এর আগে টস হেরে প্রথম ৪ ওভারে ৪ বোলার আনলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার ট্রাম্প কার্ড কাটার বিস্ময় মুস্তাফিজ এই তালিকার চার নম্বর বোলার। চতুর্থ ওভারে আঘাত হেনেছেন এই বাঁ হাতি পেসারই। মার্টিন গাপ্টিলের জায়গায় খেলতে নামা হেনরি নিকোলসকে (৭) কাটারে বোকা বানিয়ে বোল্ড করে দিয়েছেন মুস্তাফিজ। উইকেট মন্থর। বল ঠিক মতো ব্যাটে যায় না। ব্যাটসম্যানদের কাজটা কঠিন। কিউই ব্যাটসম্যানরা লড়ছিলেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তারা পেয়েছে ৩৯ রান।

মুস্তাফিজ প্রথম ওভারে ২ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। নবম ওভারটি ছিল তার দ্বিতীয়। উইলিয়ামসন মুস্তাফিজের ওপর চড়াও হতে চেয়ে পারেননি। দারুণ বৈচিত্রে হাবুডুব খাচ্ছিলেন। বুঝতেই পারছিলেন না। আরেকটি স্লোয়ারে উইলিয়ামসন (৪২) বোল্ড! কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাকিব আল হাসানের ঘরের মাঠ ইডেন। এখানে তাকে খেলাও কঠিন। নিপুণ বোলিংয়ে কিউইদের আটকে রাখছিলেন তিনিও। কলিন মুনরোকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেছিলেন। জোরালো আপিল ছিল। কিন্তু নিশ্চিত আউটেও আম্পায়ার সাড়া দিলেন না!    

তবে বোলিং হচ্ছিল দারুণ। ৬ থেকে ১৪ ওভারের মধ্যে মাত্র ১টি বাউন্ডারি মারতে পারলো নিউজিল্যান্ড। এই ৮ ওভারে রান এলো ৪৩ মাত্র। ১৩ ওভারে ৭৮ রান তোলার পর ব্যাটসম্যানদের আক্রমণ করা ছাড়া উপায় ছিল না। প্রথম ২ ওভারে মাত্র ৮ রান দেয়া আল-আমিন ১৫তম ওভারে কলিন মুনরোর হাতে ছক্কা খেলেন। কিন্তু মুনরোকে (৩৫) বোল্ড করে দিয়ে শোধ তুললেন আল-আমিন। ভাংলো ৪২ রানের জুটি। পরের ওভারে মাশরাফির বলে আল-আমিনই রস টেলরের (তখন ৯ রানে) সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন। এই ওভারেই মাশরাফির স্লোয়ারে বোল্ড হয়েছেন কোরি অ্যান্ডারসন (০)।

ডেথ ওভারের জন্য ২ ওভার ছিল মুস্তাফিজের। প্রথম ২ ওভারে ৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন কাটার। তার তৃতীয় ওভারের একটি অফ কাটার খেলতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ তুলেছেন গ্র্যান্ট ইলিয়ট (৯)। শুভাগত হোম চমৎকার ক্যাচ নিয়েছেন। টেলরকে (২৮) জীবন দেয়ার দায় আল-আমিন শোধ করেছেন তাকে তুলে নিয়ে। যদিও বাড়তি ১৯টা রান হয়ে গেল! এই ওভারের শেষ বলে লুক রনকির ক্যাচ ছেড়েছেন তামিম ইকবাল।

শেষ ওভারে মুস্তাফিজ আবার বোল্ড করেই উইকেট নিয়েছেন। এবার আউট মিচেল স্যান্টনার (৩)। এবং পরের বলেই আবার বোল্ড ন্যাথান ম্যাককালামও (০)! হ্যাটট্টিকের সুযোগ মুস্তাফিজের সামনে! কিন্তু তাকে ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংস শেষ করেছেন মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান! ২২ রানে ৫ উইকেট মুস্তাফিজের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে পঞ্চম সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরা বোলিং। আর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে যা দ্বিতীয় সেরা বোলিং। ১৭ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। আল-আমিন ২৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। ৩ ওভারে ২১ রানে ১ উইকেট অধিনায়ক মাশরাফির। তবে বোলিংয়ে দিনটা মুস্তাফিজের।

 


মন্তব্য