kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপ কাঁপালেন মুস্তাফিজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৫৪



৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপ কাঁপালেন মুস্তাফিজ

মুস্তাফিজুর রহমান ক্রিকেট বিশ্বের কাছে এক রহস্য। মাত্র ২০ বছর বয়সেই বিশ্ব ক্রিকেটে কাটার বিশেষজ্ঞ হিসেবে ভিন্ন এক জায়গা করে নেয়া বোলার মুস্তাফিজ। যার বোলিং দেখতে ক্রিকেট গ্রেটরাও অপেক্ষায় থাকেন। তাকে বলা হয় ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা। এখনো বাঁ হাতি এই পেসারের বলের রহস্যজট খুলতে পারেনি কেউ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখনো ১ বছর পুরো হয়নি। কিন্তু এখনই বিশ্বের নানা প্রান্তের টি-টোয়েন্টি লিগেও মুস্তাফিজ চাহিদার শীর্ষে। আর এই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট, সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা নিউজিল্যান্ডের সাথে যা করলেন মুস্তাফিজ তাতে আরো একবার বিস্ময়ে হতবাক বিশ্ব। বিশ্বকাপ কাঁপিয়ে সবার আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে এখন মুস্তাফিজ।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ৪ ওভারে ২২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। নিজের সেরা তো বটেই। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এটাই সেরা বোলিং রেকর্ড। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সেরা। মুস্তাফিজের আগে কেবল স্পিনার ইলিয়াস সানি ৫ উইকেট নিতে পেরেছিলেন। সেটা ১৩ রানে। তবে বিশ্বকাপে এটাই কোনো বাংলাদেশি বোলারের ৫ উইকেট শিকারের প্রথম গৌরব। ইতিহাসের পাতায় সে কারণেই উজ্জ্বল থাকবে মুস্তাফিজের নাম। বিশ্বকাপের ইতিহাসে পঞ্চম সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এখন মুস্তাফিজের। বিশ্বকাপে ৫ বা তার বেশি উইকেট নেয়া বোলারের সংখ্যাই মুস্তাফিজকে নিয়ে মাত্র ৭ জন! মাত্র ৪ ওভারে ৫ উইকেট নেয়া সাধারণ কোনো প্রতিভার পক্ষে তো সম্ভব না মোটে। কিউই ব্যাটসম্যান কলিন মুনরো তাদের ইনিংস শেষ করার পর মুস্তাফিজ সম্পর্কে বললেন, "A hell of a bowler."

কিউই ব্যাটসম্যানরা যে ৮ উইকেটে ১৪৫ রানে আটকে গেল, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে যে জয়ের সম্ভাবনার সামনে দাঁড়ালো তা তো মুস্তাফিজের জন্যই! চতুর্থ ওভারে বল হাতে পেয়েছেন। প্রথম ২ ওভারে ৭ রান দিয়েছেন। চমৎকার দুই কাটারে দুই ওভারে বোল্ড করে দিয়েছেন হেনরি নিকোলস (৭) ও ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে (৪২)।

৫৭ রানে নিউজিল্যান্ড ২ উইকেট হারিয়েছে। দুটিই মুস্তাফিজের শিকার। ডেথ ওভারে আবার ফিরেছেন। ৩ উইকেট নিয়েছেন ১৫ রানে। এখানেও দুটি বোল্ড। পেয়েছিলেন হ্যাটট্টিকের সুযোগও। শেষ ৪ উইকেট কিউইরা হারিয়েছে ১৭ রানে। এর ৩টি মুস্তাফিজের। কিউইরা শেষে তাই রানের ফোয়ারা ছোটাতে পারেনি। ১৮তম ওভারে মুস্তাফিজের অফ কাটারে তুলে মারতে গিয়ে গ্র্যান্ট ইলিয়ট (৯) ক্যাচ দিয়েছেন। ইনিংসের শেষ ওভারে পরপর দুই বলে ফিরিয়েছেন মিচেল স্যান্টনার (৩) ও ন্যাথান ম্যাককালামকে (০)। কিউইদের পথ রোধ করে মুস্তাফিজই হিরো। ১৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার তার। ১৩.৯৫ গড় ও আকর্ষণীয় ৫.৯৮ ইকোনোমিতে তার শিকার ২২ উইকেট। এবারের বিশ্বকাপে ইনজুরি কাটিয়ে শেষ দুই ম্যাচের পর এটি খেললেন মুস্তাফিজ। ৩ ম্যাচে তার শিকার ৯ উইকেট!   

২০১৫ সালেই ক্রিকেটের বিস্ময় হয়ে এসেছেন মুস্তাফিজ। গত এপ্রিলে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে দলে নেয়া হয়েছিল। সেই ম্যাচে তিনি শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজের উইকেট নিয়েছিলেন। এর দুই মাস পর জুনে তাকে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। মুস্তাফিজ জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান ভিটোরির পর ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ৫ উইকেট শিকারী দ্বিতীয় বোলার হন। ৩ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশ দল ভারতকে সিরিজ হারিয়েছিল ২-১ এ। ৯ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ার তার। নিয়েছেন ২৬ উইকেট। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই রেকর্ড ৩ বার ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এখনো নবীন মুস্তাফিজের যে অনেক কিছুই দেখানো বাকি তা তো বোঝাই যায়!


মন্তব্য