kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

পাকিস্তানকে বিদায় করে দিলো অস্ট্রেলিয়া

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০৯



পাকিস্তানকে বিদায় করে দিলো অস্ট্রেলিয়া

খেলা শেষ। শহীদ আফ্রিদি বিমর্ষ হয়ে বসে আছেন। দলের কেউ কেউ তাকে স্বান্তনা দিচ্ছেন। হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটা খেলে ফেললেন আফ্রিদি। আর সেই ম্যাচে হারই হলো সঙ্গী। সাথে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার যন্ত্রণাও। আফ্রিদির দলকে শুক্রবার মোহালিতে ২১ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাতে বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় হয়ে গেছে। ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পরের ম্যাচটি আক্ষরিক অর্থেই কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে গেলো। ওই ম্যাচে জেতা দল গ্রুপের দ্বিতীয় হিসেবে চলে যাবে সেমিফাইনালে।

টস জিতে আগে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে তুলেছিল ১৯৩ রান। তাতে বড় অবদান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের অপরাজিত ৬১, শেন ওয়াটসনের অপরাজিত ৪৪ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ৩০ রানের। এরপর ৮ উইকেটে ১৭২ রান তুলে থামতে হয় পাকিস্তানকে। মিডিয়াম পেসার জেমস ফকনার টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ৪ ওভারে ২৭ রানে ৫ উইকেট তার। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরার রেকর্ড এটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা পঞ্চম সেরা বোলিং ফিগার।

জবাব দিতে নেমে ৪০ রানে দুই ওপেনারকে হারায় পাকিস্তান। এরপর উমর আকমল ও খালিদ লতিফ ৪৫ রানের জুটি গড়েন। ২০ বলে ৩২ রান করে ফিরেছেন উমর। এরপর অধিনায়ক আফ্রিদি ২ ছক্কায় ১৪ রান করে ফেরার সময়ও ম্যাচে ছিল পাকিস্তান। খালিদ ও শোয়েব মালিক আশা ধরে রেখেছিলেন। শেষ ১৮ বলে ৪৯ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। এই সময় ফকনার জোড়া আঘাত হানেন। ৪৬ রান করা খালিদের পর তুলে নেন ইমাদ ওয়াসিমকেও। এই ওভারের মতো শেষ ওভারেও হ্যাটট্টিকের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ফকনার। তা না হলেও পাকিস্তানের বিশ্বকাপ শেষ করায় রাখলেন বড় ভূমিকা। ২০ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থেকে যাওয়া শোয়েবের কিছু করা হলো না আর।

এর আগে বোলিংয়ে পাকিস্তানের শুরুটা ভালোই ছিল। দুই ম্যাচ পর ফিরলেন ওয়াহাব রিয়াজ। চতুর্থ ওভারে বল পেলেন তিনি। তাকে একটি ছক্কাও হাঁকিয়ে দিলেন উসমান খাজা। উসমানকে ২১ রানে বোল্ড করে প্রতিশোধ নিলেন ওয়াহাব। পরের ওভারে ফিরেই প্রথম বলে বিপজ্জনক ডেভিড ওয়ার্নারকে (৯) শিকার করে ফেললেন ওয়াহাব। তার গতির কাছে হেরে বোল্ড ওয়ার্নার। ৪২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ৫৭ রানে গিয়ে আরেকটি ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচে ফেরা অ্যারন ফিঞ্চকে (১৫) তুলে নিয়েছেন স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম।

পরের ৬.২ ওভার একসাথে খেলেছেন স্টিভেন স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ওভার প্রতি প্রায় ১০ এর কাছাকাছি রান তুলেছেন তারা। ৬২ রান করে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন তারা। ম্যাক্সওয়েলে ১৮ বলে ৩০ রান করে গেছেন। পঞ্চম উইকেটে শেন ওয়াটসনকে সঙ্গী করে স্মিথ গড়েছেন ৭৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ওভারে প্রায় ১২ রান তুলেছেন তারা। স্মিথের চেয়ে বেশি আগ্রাসী ছিলেন ওয়াটসন। ২১ বলে ওয়াটসন ৪৪ রান করেছেন। মেরেছেন ৩টি ছক্কা ও ৪টি চার। স্মিথ ইনিংস সর্বোচ্চ ৬১ রানে অপরাজিত থেকেছেন। ৪৩ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি ৭টি। শেষ চার ওভারে ওয়াটস-স্মিথ জুটি ৫৮ রান তুলেছে। হয়তো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি। ৪ ওভার বল করে ২৭ রান দিয়েছেন। উইকট পাননি। দুটি করে উইকেট ওয়াহাব ও ইমাদের। সবচেয়ে খরুচে পেসার মোহাম্মদ সামি। ৪ ওভারে দিয়েছেন ৫৩ রান। অন্য বোলাররাও সামলাতে পারেননি রানের গতি। সেটাই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সর্বনাশের কারণ।


মন্তব্য