kalerkantho

বুধবার । ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ । ১২ মাঘ ১৪২৩। ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

জয়ের পথেই আছে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ২৩:০১



জয়ের পথেই আছে বাংলাদেশ

বোলাররা মঞ্চ তৈরি করে গেছেন। ৭ উইকেটে ১৪৬ রান ভারতের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুর এই ম্যাচে টাইগারদের হাতে ভারত বধ হবে তো? এই প্রশ্নটাকে সামনে রেখে ব্যাটসম্যানরা লড়াইয়ে নেমে সঠিক পথেই আছেন। অর্ধেক কাজ হয়ে গেছে। ১১.১ ওভারে ৪ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮৭ রান। জিততে বাকি ৫৩ বলে বাংলাদেশের দরকার ৬০ রান। সাকিব আল হাসান ১৫ রানে ব্যাট করছেন। তার সাথে যোগ দিয়েছেন মাহমুদ উল্লাহ।

সৌম্য সরকারের জায়গায়ে ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী হলেন মোহাম্মদ মিথুন। কিন্তু ১ রান করেই রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে উইকেট দিয়ে এসেছেন এই ওপেনার। তামিমের এদিন ভাগ্য ভালো। ৬ রানে আশিস নেহরা ও ১৫ রানে জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ ছাড়লেন। তামিমও নতুন জীবনের ফায়দা নিলেন। ষষ্ঠ ওভারে বুমরাহকে ৪টি বাউন্ডারি মেরে দিলেন। কিন্তু ৩২ বলে ৩৫ রান করে থামতে হলো তাকে। রবিন্দ্র জাদেজাকে নেমে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার তিনি। ৫৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারালো বাংলাদেশ। তামিম আউট হলেও ভালো একটা শুরু দিয়ে গেছেন। সাব্বির রহমানের সাথে তার জুটি ৪৪ রানের। খুব ঠাণ্ডা মাথায় খেলছিলেন সাব্বির। কিন্তু মুহূর্তের অসর্তকতায় ধোনির তৎপরতায় স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে গেলেন ১৪ রান পর। ১৫ বলে মূল্যবান ২৬ রান দিয়ে গেছেন তিনি। মাশরাফি ৫ নম্বরে নেমে একটি ছক্কায় ৬ রান করে ফিরে গেছেন।

টস জিতে মাশরাফি প্রথম ওভার করেছেন। এরপর টানা চার ওভারে চার বোলার এনেছেন। একে একে এসেছেন অফ স্পিনার শুভাগত হোম, আল-আমিন হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসানকে। ভারতের দুই ওপেনার ঝুঁকি নিতে পারেননি। ৫ ওভারে রান এসেছে ২৭। বাউন্ডারির মার তিনটি। গত বছর ভারতের বিপক্ষেই কাটার বিশেষজ্ঞ মুস্তাফিজের আবির্ভাব। এদিন ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে দুই ওপেনার তাকে দুই ছক্কা হাঁকালেন। কিন্তু ওভারের শেষ বলে শোধ নিলেন মুস্তাফিজ। রোহিত শর্মা (১৮) মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। পরের ওভারে সাকিব এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন অন্য ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে (২৩)।

এরপর মাশরাফি আবার ফিরলেন। ফিরলেন শুভাগতও। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪২ রান তোলা ভারতকে রানের জন্য খাটতে হচ্ছিল। বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়না উইকেটে। কিন্তু সাকিব-মাশরাফি-শুভাগত পরের ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৭ রান। ১০ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৫৯ রান ভারতের। স্বাগতিকদের বড় রান করার চেষ্টাটা বড় ধাক্কা খেয়েছে তো বটেই।

সবাই ভেবেছেন রায়না-কোহলি জুটি ঝড় তুলবে। কিন্তু তাদের খেলতেই দিচ্ছিলেন না বোলাররা। ১২ ওভারের মধ্যে নিজের ৪ ওভার শেষ করেছেন মাশরাফি। উইকেট পাননি। কিন্তু রান দিয়েছেন মাত্র ২২। চমৎকার! সাকিবও দারুণ বল করে যাচ্ছিলেন। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়েছেন। ১ উইকেট নিয়েছেন। ২২ বল পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি এই সময়ের সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান কোহলি। শুভাগতকে ১৪তম ওভারে ছক্কা মারলেন। পরের বলে বিপজ্জনক কোহলিকে (২৪ বলে ২৪) বোল্ড করে দিয়েছেন শুভাগত। যুবরাজ-ধোনির আগেই নেমেছেন হার্দিক পান্ডিয়া। সাকিবকে দুটি বাউন্ডারি মারলেন। ৪ ওভার শেষে তবু সাকিবের বোলিং ফিগার চমৎকার : ৪-০-২৩-১।

১৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১১২ রান করা ভারত তো মারবেই। কিন্তু ৪ ওভার পর ফিরেই জোড়া আঘাত হেনেছেন আল-আমিন। বিপজ্জনক রায়না (২৩ বলে ৩০) মারতে গিয়েই সাব্বিরকে ক্যাচ দিলেন। ভাঙ্গে ৫০ রানের জুটি। পরের বলে বাউন্ডারি লাইনে সৌম্য সরকার অনেকদিন মনে রাখার মতো একটি ক্যাচ নিলেন। আড়াআড়ি দৌড়ের পর ডাইভ দিয়ে বল ধরেছেন। পান্ডিয়া (১৫) আউট। হ্যাটট্টিক হলো না আল-আমিনের। পরের চার বলের তিনটি ডট দিলেন।

মাশরাফি ১৭তম ওভারে একটি বারের জন্য ডাকলেন মাহমুদ উল্লাহকে। শুভাগত আগের ওভারে মার খেয়েছেন বলে। কাজ হলো। যুবরাজ (৩) পুল করতে গিয়ে জীবন দিয়ে এলেন। ৪ রানে ১ উইকেট মাহমুদ উল্লাহর। ডেথ ওভারেও দারুণ বাংলাদেশ। মুস্তাফিজ ১৮তম ওভারে দিলেন ৫ রান। ১৯তম ওভারে ধোনি-জাদেজার ৩ বাউন্ডারি। আল-আমিন ১৪ রান দিলেন। তারপরও আল-আমিনের বোলিং ফিগার: ৪-০-৩৭-২।

শেষ ওভারের প্রথম বলেই মুস্তাফিজ উপড়ে দিয়েছেন রবিন্দ্র জাদেজার (১২) উইকেট। ধোনি ছিলেন। তারপরও মাত্র ৯ রান দিলেন মুস্তাফিজ। ৪ ওভারে ৩৪ রানে ২ উইকেট তার। ১২ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন ধোনি। শেষ ১০ ওভারে ৮৭ রান তুলেছে ভারত। হারিয়েছে ৫ উইকেট। স্বাধীনভাবে ভারতের ব্যাটসম্যানদের খেলতে দেননি বোলাররা। তাতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পেয়েছে জয় করার মতো একটি স্কোর।    


মন্তব্য