kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ইংলিশদের কাঁপিয়ে দিয়েও পারলো না আফগানরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০৮



ইংলিশদের কাঁপিয়ে দিয়েও পারলো না আফগানরা

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল আফগানিস্তান। এবার দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় বল হাতে তারা কাঁপিয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। তাদের স্পিনারদের সামলাতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড টেনেটুনে ৭ উইকেটে ১৪২ রান করেছিল। ইংলিশরা ৬ উইকেট হারিয়েছিল ৫৭ রানে। এরপর মঈন আলির অপরাজিত ৪১ রানে ইংলিশরা পায় লাইফ লাইন। ম্যাচের সেরা মঈনই। আফগানরা ইংলিশ পেসারদের সামনে ৩৯ রানেই হারালো ৫ উইকেট। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৪ রানও করা হয়নি। ৯ উইকেটে ১২৭ রানে থেমেছে। হেরেছে ১৫ রানে। তিন ম্যাচে ২ জয় নিয়ে সেমিফাইনালে খেলার আশা টিকিয়ে রাখলো ইংল্যান্ড।

আফগানদের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ। ওই ওপেনার ৪ রান করে প্রথম ওভারেই আউট হয়েছেন। পরের দুই ওভারে অধিনায়ক আসগার স্তানিকজাই ও গুলবাদিন নাইবও নেই। ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে আফগানদের গতি থমকে যায়। অষ্টম ও নবম ওভারে আবার হামলার শিকার তারা। আরো দুই উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ নবি ও সামিউল্লা শেনওয়ারির ওপর পড়লো দায়িত্ব। ২৫ রানের জুটি হলো। কিন্তু নবি ১২ রানে বিদায় নিলেন। শেনওয়ারি লড়ে গিয়ে ২২ রান করে হার মানলেন। ৯ নম্বর ব্যাটসম্যান শফিকুল্লার শেষ চেষ্টা করেছেন। ২০ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৫ রানে অপরাজিত থেকেছেন। কিন্তু মঈনের মতো কাজ করা হয়নি তার।    

এর আগে আফগানিস্তানের চার স্পিনার মিলে চেপে ধরেছিল ইংল্যান্ডকে। তাতে দেখতে না দেখতে ১৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে দারুণ বিপদে পড়ে যায় ইংলিশরা। ৫৭ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ব্যাটসম্যান বলতে ছিলেন কেবল মঈন। ৭ নম্বরে ব্যাট করা এই ব্যাটসম্যানই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে লড়ার মতো স্কোর দিয়েছেন! যখন ইংলিশদের ১০০ করা নিয়ে প্রশ্ন তখন রুখে দাঁড়ান মঈন। ৩৩ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থেকেছেন তিনি। ক্রিস জর্ডান ও ডেভিড উইলি মিলে দিয়েছেন ৩৫ রান।

দিল্লিতে অনেক গরম। তবু টস জিতে ব্যাট করতে নেমেছে ইংল্যান্ড। আর তৃতীয় ওভারে তাদের প্রথম ধাক্কাটি দেয় আফগানিস্তান। বাঁ হাতি স্পিনার আমির হামজা বোল্ড করে দেন জ্যাসন রয়কে (৫)। ইংলিশ টপ অর্ডার ভেঙ্গে পড়ে ষষ্ঠ ওভারে। অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবির এই ওভারে ৩ উইকেট হারায় ইংলিশরা। পরপর দুই বলে নবি ফিরিয়ে দেন জেমস ভিন্স (২২) ও অধিনায়ক এউইন মরগ্যানকে (০)। হ্যাটট্টিক হয়নি বটে। কিন্তু ওভারের শেষ বলে বেন স্টোকসের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে যান জেসন রয় (১২)।

৪২ রানে দাঁড়িয়ে ৩ উইকেট হারানোর পর ইংল্যান্ডের ইনিংস মেরামত খুব দরকারী ছিল। কিন্তু সামান্য এগিয়েই লেগ স্পিনার সামিউল্লা শেনওয়ারির বলে জস বাটলার (৬) ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। ইংলিশদের লেজটা এরপর বেরিয়ে যায় এই বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় লেগ স্পিনার রাশিদ খান পরের ওভারে বেন স্টোকসকে (৭) বোল্ড করে দিলে। ৫৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে ইংল্যান্ড।

মঈন আলি ছিলেন ইংলিশদের শেষ ভরসা। তার ওপর ভর করেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে থাকে দল। শেষের দিকে সেই খোড়ানোটা বেশ একটা দৌড়ে পরিণত হয়েছে। প্রথমে ক্রিস জর্ডানের (১৫) সাথে ২৮ রানের জুটি গড়েছেন মঈন। জর্ডান রাশিদের দ্বিতীয় শিকার হলে আসেন ডেভিড উইলি। শেষ ৫.৩ ওভারে দ্রুত ছোটার চেষ্টা করেছে ইংল্যান্ড। অষ্টম উইকেটে হয়েছে ৫৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ওভার প্রতি দশের একটু বেশি রান তুলে মঈনরা লড়ার জায়গা তৈরি করেছেন। উইলি ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন। আফগানদের ছিল বিপজ্জনক ব্যাটিং লাইনআপ। কিন্তু এই ম্যাচে ক্লিক করেনি তা।


মন্তব্য