kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

খর্ব শক্তির দল নিয়ে পারলো না বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৪১



খর্ব শক্তির দল নিয়ে পারলো না বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে খুব! অস্ট্রেলিয়ার জন্য বাংলাদেশের দেয়া ১৫৭ রানের টার্গেটটা খুব বড় ছিল না। কিন্তু শেষের দিকে সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান ২ উইকেট তুলে নিলেন। ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লো অস্ট্রেলিয়া। ২২ বলে ২২ রান দরকার অস্ট্রেলিয়ার। এই অবস্থায় গ্লেন ম্যাক্সওয়েল দুটি ছক্কা হাঁকালেন মুস্তাফিজকেই। ১৮তম ওভারে সাকিব আরো দুই উইকেট নিলেন। কিন্তু শেষ দুই ওভারে ৫ রান দরকার অস্ট্রেলিয়ার। তাদের আর ঠেকানো যায়নি। খর্বশক্তির বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারালো ৯ বল হাতে রেখে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার আশা টিকিয়ে রাখলো অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয় তাদের। আর টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ছিটকে পড়লো টাইগাররা। শেষের দিকে লড়াই করেও পারলো না তারা।  

মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে জ্যোতি আগে থেকেই ছিল। এই ম্যাচে শেষ তিন ওভারে তার ক্ষুরধার ব্যাট অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের কাছ থেকে মূল্যবান কিছু রান ছিনিয়ে নিলো। ২৯ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। সাকিব দিয়েছিলেন ২৫ বলে ৩৩ রান। তাতে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খুব লড়ার মতো না। কিন্তু আশা ছিল। উসমান খাজার (৫৮) প্রথম ফিফটি, ম্যাক্সওয়েলের ২৬ ও ছোটো তিনটি ইনিংস জিতিয়ে দিলো অস্ট্রেলিয়াকে।

বেঙ্গালুরুতে এই ম্যাচে বাংলাদেশ খেলতে নামে তিন ধাক্কার ধকল নিয়ে। তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি নিষিদ্ধ। টসের সময় মাশরাফি বিন মর্তুজা জানালেন, তামিম ইকবাল অসুস্থ। খেলতে পারবেন না। তাও ব্যাট হাতে লড়েছে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে কাটার বিশেষজ্ঞ মুস্তাফিজ ফিরেছেন। ষষ্ঠ ওভারে শেন ওয়াটসনের (২১) ক্যাচ উঠেছিল তার বলে। মিড অনে মোহাম্মদ মিথুন মিস করেছেন। কিন্তু সেই ক্যাচ আসলে মাশরাফি নিতে পারতেন! অবশ্য খানিক পরে ওয়াটসন রান আউট হয়েছেন। সাকলাইন সজিব ও শুভাগত হোম প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়া সাবলীলভাবে এগিয়েছে। কিন্তু মুস্তাফিজ দ্বাদশ ওভারে প্রতিপক্ষের অধিনায়ক স্টিভ স্মিথকে (১৪) বোল্ড করে আশার আলো জ্বাললেন। ১১৫ থেকে ১১৯ রানে খাজা ও ডেভিড ওয়ার্নারকে (১৭) হারালো অস্ট্রেলিয়া। শেষ ৩০ বলে অস্ট্রেলিয়ার ৩৬ রান দরকার। এরপর মুস্তাফিজের কাটারে মিচেল মার্শের বিদায়। কিন্তু ম্যাক্সওয়েলের ১৫ বলের ২৬ রান শেষ ব্যবধান গড়েছে। পারেনি বাংলাদেশ। সাকিব ৩, মুস্তাফিজ ২ ও আল-আমিন হোসেন ১ উইকেট নিয়েছেন।  



এর আগে টস হেরে ব্যাট করে টাইগাররা। ১৭ ওভারে ৫ উইকেটে ১১২ রান ছিল। রান আসছে না। কিন্তু শেষের তিন ওভারে ঝড় তুললেন মাহমুদ উল্লাহ। সঙ্গী ছিলেন মুশফিকুর রহিম। ৪৪ রান আসলো তিন ওভারে। ২৮ বলে গড়া ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি হলো মাহমুদ উল্লাহর জন্যই। জুটির ৩৫ রান তার। মুশফিক অপরাজিত ১৫ রানে। শেষ ৩ ওভারে ৬টি বাউন্ডারি মেরেছেন মাহমুদ উল্লাহ। দুটি করে চার মেরেছেন ফকনার, ওয়াটসন ও কল্টার-নাইলের ওভারে।

শুরুতে তামিম না থাকায় সৌম্য সরকারের (১) ওপর বর্তেছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই ফিরেছেন সৌম্য। সাব্বির রহমান তাতে ওপেনারই হয়ে গেলেন। তিন ওভারে দলের রান ১০। এই সময়ে পেসার জন হাস্টিংসকে দুটি বাউন্ডারি মেরে প্রায় ভাঙা মনের বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন সাব্বির। কিন্তু দলের ২৫ রানে ব্যক্তিগত ১২ রানেই আউট সাব্বির।

গতিতে ভর করে শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাব এসেছে এরপর। সাকিব আল হাসান প্রথম বলেই ওয়াটসনকে বাউন্ডারি মেরেছেন। তবে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৩৩। ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন পেসার মিচেল মার্শ আসতেই গ্যালারি নাচিয়ে দিলেন। চার মারার পর ছক্কায় মার্শকে পাঠালেন গ্যালারিতে। অফ স্পিনার ম্যাক্সওয়েলকে এরপর সাকিব বাউন্ডারি মারার পর ছক্কা হাঁকালেন। অন্য প্রান্তে তরুণ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা বল হাতে নিতেই সফল। তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েছেন মিথুন। ২২ বলে করেছেন ২৩। সাকিবের সাথে তার ৩৭ রানের মূল্যবান জুটিটা ভাংলো।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই শুভাগত হোমের ওপর ছিল কিছু করে দেখানোর দায়িত্ব। জাম্পাকে একটি করে চার ছয় মেরে আশা জাগালেন। এবং ১৩ রান করে ফিরে গেলেন ওই বোলারেরই শিকার হয়ে। মাহমুদ উল্লাহ দ্রুত রান তুলতে জানেন। হাস্টিংসকে চার ও ছক্কা মেরে তার শুরু। ১৫তম ওভারে ১০০ পার হয় বাংলাদেশ।

তবে জাম্পাই এদিন হন্তারক। তার শেষ ওভারে সাকিব ক্যাচ দিয়েছেন শর্ট থার্ড ম্যানে। ২৫ বলে ৩৩ রান দিয়ে গেছেন সাকিব। নিজের চতুর্থ ম্যাচে এসে উইকেট পেয়েছেন জাম্পা। ৪ ওভারে ২৩ রানে তার শিকার ৩ উইকেট। ১৬তম ওভারে ফিরেছেন সাকিব। শেষ ৪ ওভারে মাহমুদ উল্লা-মুশফিককে মারতেই হতো। কিন্তু ওয়াটসন মাত্র ৪ রান দিলেন। পরের তিন ওভারে এই দুই ব্যাটসম্যান লড়াই করে লড়ার মতো একটি স্কোর দিলেন বাংলাদেশকে। আসলে সবার চোখে লেগে থাকলো মাহমুদ উল্লাহর অসাধারণ ব্যাটিং। ম্যাচটা বাংলাদেশ হারলো। কিন্তু দারুণ কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মসমর্পন না করার গৌরব থাকলো তাদের।


মন্তব্য