kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

উইকেট হারালো অস্ট্রেলিয়া

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ২২:৩২



উইকেট হারালো অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে শক্তি দারুণ। তার ওপর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার আশা ধরে রাখতে বাংলাদেশকে হারাতেই হবে তাদের। হারলে বাংলাদেশেরও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় প্রায় হয়ে যাবে। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছেন কাটার বিশেষজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমান। ষষ্ঠ ওভারে সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু মোহাম্মদ মিথুন শেন ওয়াটসনের ক্যাচটা মিস করেছেন। তবে এক ওভার পরে ওয়াটসনকে (২১) রান আউট করেছে বাংলাদেশ। ১৫৭ রানের টার্গেট তাড়া করে ৮ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৬৬ রান অস্ট্রেলিয়ার। উসমান খাজা ৬৬ ও অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ১ রানে ব্যাট করছেন।  

এর আগে ১৭ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১১২ রান ছিল বাংলাদেশের। রান আসছে না। কিন্তু শেষের তিন ওভারে ঝড় তুললেন মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম। আসলে মাহমুদ উল্লাহই। ৪৪ রান আসলো তিন ওভারে। এই দুই ব্যাটসম্যানের ২৮ বলে গড়া ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ১৫৬ রান করেছে খর্ব শক্তির টাইগাররা। মাহমুদ উল্লাহ ২৯ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থেকেছেন। মুশফিক অপরাজিত ১৫ রানে। শেষ ৩ ওভারে ৬টি বাউন্ডারি মেরেছেন মাহমুদ উল্লাহ। দুটি করে চার মেরেছেন ফকনার, ওয়াটসন ও কল্টার-নাইলের ওভারে। মুশফিকের সাথে জুটির ৩৫ রানই মাহমুদ উল্লাহর।

বেঙ্গালুরুর এই ম্যাচ বাংলাদেশ শুরু করেছে একের পর এক ধাক্কা খেয়ে। তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানিকে আগেই হারিয়েছে। টস করতে এসে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা জানিয়েছেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল অসুস্থ। খেলতে পারছেন না। এই তিন আঘাত সয়েই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়ে গেছেন টাইগার ব্যাটসম্যানরা।

তামিম না থাকায় সৌম্য সরকারের (১) ওপর বর্তেছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই ফিরেছেন সৌম্য। সাব্বির রহমান তাতে ওপেনারই হয়ে গেলেন। তিন ওভারে দলের রান ১০। এই সময়ে পেসার জন হাস্টিংসকে দুটি বাউন্ডারি মেরে প্রায় ভাঙা মনের বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন সাব্বির। কিন্তু দলের ২৫ রানে ব্যক্তিগত ১২ রানেই আউট সাব্বির।

গতিতে ভর করে শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাব এসেছে এরপর। সাকিব আল হাসান প্রথম বলেই ওয়াটসনকে বাউন্ডারি মেরেছেন। তবে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৩৩। ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন পেসার মিচেল মার্শ আসতেই গ্যালারি নাচিয়ে দিলেন। চার মারার পর ছক্কায় মার্শকে পাঠালেন গ্যালারিতে। অফ স্পিনার ম্যাক্সওয়েলকে এরপর সাকিব বাউন্ডারি মারার পর ছক্কা হাঁকালেন। অন্য প্রান্তে তরুণ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা বল হাতে নিতেই সফল। তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েছেন মিথুন। ২২ বলে করেছেন ২৩। সাকিবের সাথে তার ৩৭ রানের মূল্যবান জুটিটা ভাংলো।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই শুভাগত হোমের ওপর ছিল কিছু করে দেখানোর দায়িত্ব। জাম্পাকে একটি করে চার ছয় মেরে আশা জাগালেন। এবং ১৩ রান করে ফিরে গেলেন ওই বোলারেরই শিকার হয়ে। মাহমুদ উল্লাহ দ্রুত রান তুলতে জানেন। হাস্টিংসকে চার ও ছক্কা মেরে তার শুরু। ১৫তম ওভারে ১০০ পার হয় বাংলাদেশ।

তবে জাম্পাই এদিন হন্তারক। তার শেষ ওভারে সাকিব ক্যাচ দিয়েছেন শর্ট থার্ড ম্যানে। ২৫ বলে ৩৩ রান দিয়ে গেছেন সাকিব। নিজের চতুর্থ ম্যাচে এসে উইকেট পেয়েছেন জাম্পা। ৪ ওভারে ২৩ রানে তার শিকার ৩ উইকেট। ১৬তম ওভারে ফিরেছেন সাকিব। শেষ ৪ ওভারে মাহমুদ উল্লা-মুশফিককে মারতেই হতো। কিন্তু ওয়াটসন মাত্র ৪ রান দিলেন। পরের তিন ওভারে এই দুই ব্যাটসম্যান লড়াই করে লড়ার মতো একটি স্কোর দিলেন বাংলাদেশকে। আসলে সবার চোখে লেগে থাকলো মাহমুদ উল্লাহর অসাধারণ ব্যাটিং।

এই ম্যাচে মুস্তাফিজ ফিরেছেন। বিশ্বকাপে এটা তার প্রথম ম্যাচে। তাসকিন ও সানির জায়গায় দলে যোগ দেয়ার একদিন পরই মাঠে নেমে পড়ছেন শুভাগত হোম ও সাকলাইন সজিব। বাঁ হাতি স্পিনার সাকলাইনের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে। বাংলাদেশের বোলারদের হাতে এখনো কিছু করে দেখানোর সুযোগ আছে।


মন্তব্য