kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৭ রানের চ্যালেঞ্জ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ২১:৪১



মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৭ রানের চ্যালেঞ্জ

১৭ ওভারে ৫ উইকেটে ১১২ রান বাংলাদেশের। রান আসছে না।

কিন্তু শেষের তিন ওভারে ঝড় তুললেন মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম। আসলে মাহমুদ উল্লাহই। ৪৪ রান আসলো তিন ওভারে। এই দুই ব্যাটসম্যানের ২৮ বলে গড়া ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ১৫৬ রান করেছে খর্ব শক্তির টাইগাররা। মাহমুদ উল্লাহ ২৯ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থেকেছেন। মুশফিক অপরাজিত ১৫ রানে। শেষ ৩ ওভারে ৬টি বাউন্ডারি মেরেছেন মাহমুদ উল্লাহ। দুটি করে চার মেরেছেন ফকনার, ওয়াটসন ও কল্টার-নাইলের ওভারে। মুশফিকের সাথে জুটির ৩৫ রানই মাহমুদ উল্লাহর।

বেঙ্গালুরুর এই ম্যাচ বাংলাদেশ শুরু করেছে একের পর এক ধাক্কা খেয়ে। তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানিকে আগেই হারিয়েছে। টস করতে এসে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা জানিয়েছেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল অসুস্থ। খেলতে পারছেন না। এই তিন আঘাত সয়েই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়ে গেছেন টাইগার ব্যাটসম্যানরা।

তামিম না থাকায় সৌম্য সরকারের (১) ওপর বর্তেছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই শেন ওয়াটসনের বলে পয়েন্টে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ক্যাচিং প্র্যাকটিস করিয়েছেন সৌম্য। টানা ৬ ইনিংসে ব্যর্থ তিনি। সাব্বির রহমানকে তাই একরকম ওপেনারের ভূমিকায়ই নামতে হয়েছে। প্রথম তিন ওভার শেষে বাংলাদেশের রান মাত্র ১০। চতুর্থ ওভারে পেসার জন হাস্টিংসকে দুটি বাউন্ডারি মেরে প্রায় ভাঙা মনের বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন সাব্বির। ষষ্ঠ ওভারে ফেরা ওয়াটসনের প্রথম বলেই উইকেটে নেমে তুলে মারতে গিয়ে সাব্বির জায়গা করতে পারেননি। মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় সাব্বিরের সাথে ১২ রান। ২৫ রানে দলের দ্বিতীয় উইকেটের পতন।

অস্ট্রেলিয়াকে গতির জবাব দিতে হতো। সাকিব আল হাসান এসে প্রথম বলেই ওয়াটসনকে বাউন্ডারি মেরেছেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৩৩ রান বাংলাদেশের। ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন পরের ওভারে স্টেডিয়াম নাচিয়ে দিয়েছেন। প্রথমে নতুন বোলার মিচেল মার্শকে বাউন্ডারি মারলেন। এরপর ছক্কা মেরে পাঠিয়ে দিলেন গ্যালারিতে।  
 
নবম ওভারে অফ স্পিনার ম্যাক্সওয়েলকে এনেই ঝড়ের মুখে অস্ট্রেলিয়া। চমৎকার এক বাউন্ডারির পরের বলেই লং অনের ওপর দিকে ছক্কা হাঁকিয়েছেন সাকিব। কিন্তু লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা পরের ওভারেই তুলে নিলেন মিথুনকে। তুলে মেরেছিলেন মিথুন। পুরো জোর ছিল না শটে। বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েছেন। তার আগে ২২ বলে ২৩ রান করে গেছেন তিনি।

মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহর আগেই নেমেছেন শুভাগত হোম। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে জাম্পাকে একটি করে চার ছয় মেরে আশা জাগালেন। এবং ১৩ রানের ফিরে গেলেন ওই বোলারেরই শিকার হয়ে। মাহমুদ উল্লাহ দ্রুত রান তুলতে জানেন। হাস্টিংসকে চার ও ছক্কা মেরে তার শুরু। ১৫তম ওভারে ১০০ পার হয় বাংলাদেশ। তবে জাম্পা এদিন সফল। তার শেষ ওভারে সাকিব ক্যাচ দিয়েছেন শর্ট থার্ড ম্যানে। ২৫ বলে ৩৩ রান দিয়ে গেছেন সাকিব। নিজের চতুর্থ ম্যাচে এসে উইকেট পেয়েছেন জাম্পা। ৪ ওভারে ২৩ রানে তার শিকার ৩ উইকেট। শেষ ৪ ওভারে মাহমুদ উল্লা-মুশফিককে মারতেই হতো। কিন্তু ওয়াটসন মাত্র ৪ রান দিলেন। পরের তিন ওভারে এই দুই ব্যাটসম্যান লড়াই করে লড়ার মতো একটি স্কোর দিলেন বাংলাদেশকে। আসলে সবার চোখে লেগে থাকলো মাহমুদ উল্লাহর অসাধারণ ব্যাটিং।

এই ম্যাচে কাটার বিশেষজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমান ফিরেছেন। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্সে জেতা ম্যাচের পর আবার ফিরছেন তিনি। ইনজুরিতে ভুগছিলেন এই বাঁ হাতি পেসার। বিশ্বকাপে এটা তার প্রথম ম্যাচে। তাসকিন ও সানির জায়গায় দলে যোগ দেয়ার একদিন পরই মাঠে নেমে পড়ছেন শুভাগত হোম ও সাকলাইন সজিব। বাঁ হাতি স্পিনার সাকলাইনের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে। এবার বাংলাদেশের বোলারদের কিছু করে দেখানোর পালা।


মন্তব্য