kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আইসিসির আইনেই তাসকিনকে নিষিদ্ধ করা যায় না!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০১৬ ২০:২০



আইসিসির আইনেই তাসকিনকে নিষিদ্ধ করা যায় না!

তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও বলছেন, পেসার তাসকিনের অ্যাকশন বৈধ।

এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দায়িত্ব দিয়েছে আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খানের ওপর। তিনি বিষয়টি পর্যালোচনার পর একটি রিপোর্ট তৈরি করে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। সেই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, তাসকিনকে বলির পাঠা বানানো হয়েছে! আইসিসির আইনেই তাকে নিষিদ্ধ করা যায় না! মুস্তাফিজুরের সেই পোস্টের অনুবাদ করে দেয়া হলো।

তাসকিন ও সানির বিরুদ্ধে রিপোর্ট হওয়ার পর বিসিবি এই বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে। প্রথমে দেখলাম ৯ মার্চ পরীক্ষা দেয়ার জন্য জোরাজুরি করছে আইসিসি। কিন্তু প্রাথমিক ম্যাচগুলোর পরও পরীক্ষা দেয়া যায়। বিসিবিকে এই কাজে সহায়তা করলাম। তাসকিন আয়ারল্যান্ড ও ওমানের বিপক্ষে খেলতে পারলেন।
বিসিবির পাঠানো তাসকিনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট দেখলাম। অবৈধ অ্যাকশনের জন্য রিপোর্টেড বোলারদের জন্য আইসিসির নিয়ম কানুন বা এই সংক্রান্ত রেগুলেশনে চোখ বুলালাম।
সেই সাথে আগে দেখা ম্যাচ অফিসিয়ালের রিপোর্ট আরেকবার দেখলাম।
অ্যাসেসমেন্টে তাসকিনের স্টক ও ইয়র্কার ডেলিভারিতে অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি। তাকে করতে বলা ৯টি বাউন্সারের ৩টি অবৈধ হিসেবে ধরা পড়েছে। তবে উতসুক হওয়ার মতো কিছু বিষয় আছে।

প্রথমত, রেগুলেশন ২.২.৬ বলছে, "ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাসেসমেন্টে বোলার যে অ্যাকশনের জন্য রিপোর্টেড হয়েছে সেই বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা হবে। " তাসকিনের বোলিং অ্যাকশনের ফুটেজ আছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ম্যাচে বাউন্সার দেননি তাসকিন। একটিও না। তাহলে বাউন্সার দেয়ার জন্য রিপোর্টেড হতে পারেন না। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষের ম্যাচে ম্যাচ অফিসিয়ালদের রিপোর্টে কোনো নির্দিষ্ট ডেলিভারির কথা বলা হয়নি। খালি বলা হয়েছিল "অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ আছে"। তাই যদি হয় বাউন্সারের জন্য তো তিনি রিপোর্টেড হননি।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাসেসমেন্টে ৯টি বাউন্সার দিতে বলা হয় তাসকিনকে। আইসিসির স্ট্যান্ডার্ড অ্যানালিসিস প্রোটোকল কিন্তু ৬টি বাউন্সার করার অনুমতি দেয়। কিন্তু তিনি বাউন্সারের জন্য রিপোর্টেড হননি বলে এই বাউন্সার আমলে আনা যায় না। রেগুলেশন ২.২.৬ তাই বলে। এই ক্ষেত্রে রেগুলেশন ও প্রোটোকলের সংঘাত হচ্ছে। রেগুলেশনই আগে। প্রোটোকল না।

তাসকিনের অ্যাকশনে গুড লেংথ (স্টক) ও ইয়র্কার ডেলিভারি বৈধ পাওয়া গেছে। যে ম্যাচে তিনি রিপোর্টেড হয়েছিলেন সেটিতে এই বলগুলোই করেছিলেন। এটা পরিস্কার যে, যে ম্যাচের কথা বলা হচ্ছে সেটিতে অবৈধ অ্যাকশনে কোনো বল তাসকিন করেননি। তাই তাকে নিষিদ্ধ করা যায় না। কারণ, ম্যাচ অফিসিয়ালদের তাকে রিপোর্ট করাই ছিল ভুল। রেগুলেশন করা হয়েছে খেলোয়াড় ম্যাচে কোনো অবৈধ বোলিং করেছেন কি না তা নিশ্চিত করতে। রেগুলেশনে পরীক্ষার সময় করা অবৈধ ডেলিভারির জন্য কাউকে নিষিদ্ধ করা যায় না। কারণ এই ডেলিভারি ম্যাচে করা হয়নি।

এটাও দেখতে হবে যে অ্যাসেসমেন্টের সময় তাসকিনকে খুব দ্রুত বাউন্সারগুলো করতে বলা হয়েছে। ৩ মিনিটে ৯টি! ম্যাচ পরিস্থিতিতে এমনটা তিনি করতেন না। টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে একজন বোলার ১টি বাউন্সার দিতে পারে। রিপোর্ট বলছে, ৯ বাউন্সারের ৩টি ছিল অবৈধ। এগুলো সবচেয়ে ধীর গতিরও ছিল। তাসকিন লম্বা সফর করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনটা ম্যাচ খেলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি পেয়ে বসেছিল। তাই অল্প সময়ে ৯টি বাউন্সার দিতে বলায় এই ডেলিভারিতে টেকনিকে সমস্যা হতেই পারে।

দ্বিতীয়ত, রেগুলেশন ২.১.১ বলছে, ম্যাচ অফিসিয়ালরা বিস্তারিতভাবে জানাবেন "সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের বোলিং অ্যাকশন সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ। জানাবেন খেলোয়াড়ের বোলিং অ্যাকশনের পুরোটায় সন্দেহ নাকি এক বা একাধিক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ। " তাসকিনের ব্যাপারে রিপোর্টে সাদামাটাভাবে বলা, 'ম্যাচ অফিসিয়ালরা তার বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে উদ্বিগ্ন'। কিন্তু ম্যাচ অফিসিয়ালের তো তাদের উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করার কথা ছিল। তাসকিনের ব্যাপারে যার কোনো উল্লেখ নেই। এ কারণেই প্রশ্ন ওঠে ম্যাচ অফিসিয়ালদের রিপোর্ট যথাযথ কি না আর তার ভিত্তিতে অ্যাসেসমেন্ট করা যায় কি না।

তৃতীয়ত, রেগুলেশন ২.২.১৩ বলছে "ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাসেসমেন্টে যদি প্রমাণিত হয় যে নির্দিষ্ট এক ধরনের ডেলিভারিতে অ্যাকশন অবৈধ এবং স্টক ডেলিভারিতে সমস্যা না থাকে তাহলে খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করে যেতে পারবে। তবে যে ডেলিভারি অবৈধ পাওয়া গেছে তা করার ব্যাপারে তাকে সতর্ক করে দিতে হবে। কারণ তাতে দ্বিতীয়বার প্রতারণার সুযোগ থাকে। " তাসকিনের স্টক ডেলিভারি যেহেতু বৈধ প্রমাণিত হয়েছে এবং ৯টি বাউন্সারের ৩টি অবৈধ হিসেবে ধরা পড়েছে তাতে তো তাকে শুধু সতর্ক করা যেতে পারে, নিষিদ্ধ না।

তাসকিনের ওপর তো অবিচার করা হয়েছে। আমি বিসিবিকে বলেছি রেগুলেশন ২.৩.১ এ এটি রিভিউ করতে এবং পরে তা বিচারের জন্য সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে তুলতে।

 


মন্তব্য