kalerkantho

26th march banner

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

প্রোটিয়াদের কাঁপিয়ে দিয়ে আফগানদের হার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০১৬ ১৯:১৪



প্রোটিয়াদের কাঁপিয়ে দিয়ে আফগানদের হার

সম্মানজনক হার বলে কোনো কথা নেই। কিন্তু প্রোটিয়াদের বিপক্ষে আফগানিস্তান যা করলো তাকে কি বলবেন? আক্ষরিক অর্থেই বীরের মতো লড়াই করে হেরেছে আফগানরা। দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ঝড়ে ৫ উইকেটে ২০৯ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই আগের ম্যাচে ২২৯ রান করেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল প্রোটিয়ারা। তাদের ব্যাট হাতে হুমকি দিয়েছিল আফগানরাও। লম্বা সময় ম্যাচেই ছিল তারা। কিন্তু ম্যাচের সেরা ক্রিস মরিস ৪ উইকেট নিয়ে রুখেছেন তাদের। ২০ ওভারে ১৭২ রানে অল আউট হয়ে ৩৭ রানে হেরেছে আফগানরা। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারলো তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম জয় পেলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

আসলে আফগানিস্তান হেরে গেছে অভিজ্ঞতার কাছে। ৫ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রান তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আফগানিস্তান ১ উইকেটে তুলেছে ৬০ রান। ১০ ওভারে প্রোটিয়াদের রান ছিল ২ উইকেটে ৯২। আফগানদের ২ উইকেটে ১০২ রান! চমকই বটে। কিন্তু এক পর্যায়ে ৪ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। এরপর শেষ ৫ ওভারে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পথ হারিয়েছে।

আফগানদের ওপেনিং ব্যাটসম্যান শাহজাদ মোহাম্মদীর তাণ্ডবে চমকের শুরু। মাত্র ১৯ বলে বেদম পিটুনিতে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৪ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। তাকে ফিরিয়েছেন মরিস। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে শাহজাদকে হারালেও আফগানরা পেয়ে যায় ৫২ রান! দারুণ শুরু। এই শুরু ধরে রাখেন পরের ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক আসগার স্তানিকজাই (৭) বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। মরিসের শিকার তিনি।

কিন্তু ঝামেলা বাধে এরপর। ১০৫ থেকে ১০৯ রানে দুই সেট ব্যাটসম্যান গুলবাদিন নাইব (২৬) ও ওপেনার নুর আলি (২৫) ফিরে যান। কক্ষচ্যুত হতে থাকে আফগানিস্তান। মোহাম্মদ নবি (১১) ও সামিউল্লা শেনওয়ারি (২৫) দলকে ১৪০ পর্যন্ত নিলেন। ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছে আফগানিস্তান। ৪ ওভারে ২৭ রানে ৪ উইকেট মরিসের। কাইল অ্যাবট, কাগিসো রাবাদা ও ইমরান তাহির নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।  



এর আগে ডি ভিলিয়ার্স ফিফটি করেছেন তাণ্ডবলীলা করে। কুইন্টন ডি কক ও অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস দিয়েছেন ৪০ পেরোনো ইনিংস। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দুইশো পেরিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬ ওভারে ৩ উইকেট ১৩৮ রান দক্ষিণ আফ্রিকার। এবি ডি ভিলিয়ার্সের ২০ বলে ২৯ রানে। টুর্নামেন্টের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় লেগ স্পিনার রাশিদ খান পরের ওভারটি করলেন। এরপর থেকে ডি ভিলিয়ার্স নিশ্চয়ই এই তরুণের দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরবেন! প্রথম ৫ বলে ৪টি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি হাঁকালেন ডি ভিলিয়ার্স। শেষের তিন ছক্কা টানা। শেষ বলে ১ রান। এই ওভারে ২৯ রান! ডি ভিলিয়ার্সের ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি হয়ে গেলো ২৪ বলে। প্রোটিয়াদের সংগ্রহও লাফ দিয়ে বড় হয়ে গেলো। পরের ওভারে মোহাম্মদ নবিকেও প্রথম বলে ছক্কা মেরেছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু তৃতীয় বলে আরেকটি ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। ২৯ বলে ৫ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে ৬৪ রান করে ফিরেছেন এই ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান। চতুর্থ উইকেটে জা পল ডুমিনির সাথে তার জুটিটা ওভার প্রতি ১৩.০২ রানে ৭৬ এর।

ওপেনিংয়ে এদিনও ঝড় তোলেন ডি কক শেষ ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন। এবারও ডি কক ঝড় তুললেন। প্রথম দুই ওভারে ৫টি বাউন্ডারি মেরেছেন। কিন্তু তৃতীয় ওভারে পার্টনার হাশিম আমলাকে (৫) হারালেন। ডু প্লেসিসের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি হলো ডি ককের। এরপর ৭ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৭ বলে ৪১ রান করেছেন ডু প্লেসিস। আর ৩১ বলে ৪৫ রান করে ফিরেছেন ডি কক।

এই ধাক্কা সামলে জ্বলে উঠেছেন ডি ভিলিয়ার্স। আর শেষে ডুমিনি ২০ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেছেন। ডেভিড মিলার ৮ বলে ১৯ রান দিয়েছেন। বড় সংগ্রহ নিয়েও হুমকিতে পড়া প্রোটিয়দের জয় এনে দিয়েছেন বোলাররা।


মন্তব্য