kalerkantho

25th march banner

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

পাকিস্তানকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ভারত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পাকিস্তানকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ভারত

পাকিস্তান এই পিচে রানের জন্য মাথা খুড়ে মরেছে। ভারতও খুব স্বস্তিতে ব্যাট করতে পারেনি। কিন্তু পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারত। বৃষ্টির কারণে ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৫ উইকেটে ১১৮ রান করেছিল পাকিস্তান। বিরাট কোহলির অপরাজিত ৫৫ রানে এক ওভার হাতে রেখেই জিতেছে স্বাগতিকরা। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এই প্রথম সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারালো ভারত। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে কখনো জেতেনি পাকিস্তান। এবারও হারলো। এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে জিতেছিল তারা। ভারত প্রথম ম্যাচে হারার পর জয়ে ফিরলো।

ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার হাতে কোহলি বললেন, এই পিচে ব্যাট করা চ্যালেঞ্জ ছিল। নিজের ইনিংসটাকে অন্যতম সেরাও বললেন। ভারতের স্পিনাররা ভালো টার্ন ও বাউন্স পেয়েছেন। অদ্ভুত ছিল উইকেটের আচরণ। কিন্তু চার পেসার নেয়াই হয়তো ভুল ছিল পাকিস্তানের!

মোহাম্মদ আমির এশিয়া কাপে ৩ উইকেট নিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। এদিন প্রথম ২ ওভারে ৩ রানে ১ মেডেনে ১ উইকেট নিয়েছেন। তৃতীয় ওভারে রোহিত শর্মা (১০) আমিরের শিকার হয়ে ফিরেছেন। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসেই মোহাম্মদ সামি হ্যাটট্টিকের সুযোগ তৈরি করেন। শিখর ধাওয়ান (৬) প্লেড অন হয়েছেন। আর সুরেশ রায়না (০) সামির অফ স্টাম্পে পড়া বল ঠেকাতে গিয়ে লেগ স্টাম্প হারিয়েছেন! ৫ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট, চাপে ভারত।  

কিন্তু এরপর বিরাট কোহলির সাথে মিলে যুবরাজ সিং দারুণ এক পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে থাকেন। ভালো বল করলেও ভারতের সিঙ্গেল ঠেকাতে পারছিল না পাকিস্তান। এই জুটি ইনিংস মেরামত করেছে। রান রেট ঠিক রেখেছে। ম্যাচ জেতার পার্টনারশিপও গড়েছে। ৭.২ ওভারে ৮.৩১ গড়ে ৬১ রানের জুটি গড়েছেন যুবরাজ-কোহলি। এরপর ২৩ বলে ২৪ রান করে ওয়াহার রিয়াজের শিকার হয়ে ফিরেছেন যুবরাজ।

যুবরাজের বিদায়ের সময় ৩৬ বলে ৩৫ রান দরকার ভারতের। কোহলির ব্যাটে ছন্দ ততক্ষণে। হারার ভয়ও প্রায় উধাও। শোয়েব মালিক ২ ওভারে ২২ রান দিয়েছেন। তার স্পিনে কাজ হয়নি। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি। শেষ ভরসা ছিলেন আমির। কিন্তু শেষ ওভার করার সুযোগও আসেনি তার সামনে! তার আগেই ম্যাচ শেষ। এমএস ধোনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ৯ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন। ইন ফর্ম কোহলি কঠিন পরিস্থিতিতেও ৩৭ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত! এটা তার ১৪তম ফিফটি!

এর আগে এই উইকেটে পাকিস্তানের অবস্থাও ছিল খুব কঠিন। পাওয়ার প্লে ৫ ওভারের। মাত্র ২৪ রান পেলো পাকিস্তান। স্পিনারদের বলের লম্বা টার্ন ও হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা চমকে দিচ্ছিল ব্যাটসম্যানদের। বল ব্যাটে আনতে রীতিমতো লড়তে হচ্ছিল। প্রথম ৯ ওভারের মধ্যে দুই ওভারে সর্বোচ্চ ৭ করে রান হয়েছে। ১২তম ওভারে প্রথমবারের মতো দশের বেশি রান পেয়েছে পাকিস্তান। ১০ ওভারে ৫১ রান ছিল তাদের। যাতে চারের মার ছিল মাত্র ৬টি। ম্যাচের প্রথম ছক্কা হয়েছে ১৪তম ওভারে! সব মিলিয়ে পাকিস্তান চার মেরেছে ১১টি, ছক্কা মাত্র ২টি। ১৪ ও ১৫ ওভারে যথাক্রমে ১৫ ও ১৩ রান এসেছে। মাত্র তিন ওভারে দশের বেশি রান হয়েছে। শেষ ৩ ওভারে ২৩ রান পাকিস্তানের।

পাকিস্তানের দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও শারজিল খান ব্যাট করেছেন ৭.৪ ওভার। রান এসেছে ৩৮। আউটের ধরণগুলোতে বল বুঝতে না পারার ব্যর্থতা স্পষ্ট। শারজিল পুল করতে গিয়ে টাইমিং করতে পারেননি। সুরেশ রাইনার বলে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ধরা পড়েছেন। শারজিল করেছেন ২৪ বলে ১৭ রান।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯ বলে ৪৯ রান করার আত্মবিশ্বাসে শহীদ আফ্রিদি তিন নম্বরেই নেমে পড়লেন। কিন্তু তিনিও বল বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তার আগে অবশ্য শেহজাদ লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে অফ সাইডে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। ২৮ বলে ২৫ রান তার। আফ্রিদি পান্ডিয়ার অফ স্টাম্পের বাইরের বলকে টেনে তুলে মারতে গিয়েছিলেন। ব্যাটের সাথে বলের সমন্বয় করতে পারেননি। মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় ১৪ বলে ৮ রান তার।

ওভার চলে যাচ্ছে, রান আসছে না। এই অবস্থায় শোয়েব মালিক ও উমর আকমল তেড়েফুড়ে খেলার চেষ্টা করেছেন। ৪ ওভারে ৪১ রানের জুটি গড়েছেন তারা। পাকিস্তানের ইনিংস একটু বড় দেখাচ্ছে এই দুই ব্যাটসম্যানেরই কারণে। ১৬ বলে ২৬ রান করেছেন শোয়েব। ১৬ বলেই উমর করেছেন ২২ রান। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৩ ওভারে ১২ রান দিয়েছেন। ৪ ওভারে ২০ রান করে দিয়েছেন আশিস নেহরা ও রবিন্দ্র জাদেজা। বোলারদের পারফরম্যান্সে অল্প রানে পাকিস্তানকে বেধে রাখায়ই লাভ হয়েছে ভারতের। ব্যাটসম্যানদের কাজটা অসম্ভব হয়নি।    


মন্তব্য