kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

জয়ের পথেই আছে ভারত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৩৮



জয়ের পথেই আছে ভারত

ইডেন গার্ডেন্সের পিচে রান পেতে মাথা খুড়ে মরেছে পাকিস্তান। ১৮ ওভারের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১১৮ রান তুলেছে তারা। তবে ২৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে খেলাটা জমিয়ে তুলেছিল তারা। কিন্তু ইডেন গার্ডেন্সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটা ধরে রেখেছে ভারত। জয়ের পথ হারায়নি। তবে যুবরাজ সিংকে হারিয়ে একটা ধাক্কা খেয়েছে। ১৮ ওভারের ম্যাচ। ১২ ওভারের খেলা শেষ। ৪ উইকেটে ৮৪ রান ভারতের। জিততে ৩৬ বলে ৩৫ রান দরকার ভারতের। ৩৩ রান নিয়ে ব্যাট করছেন বিরাট কোহলি।

তার সাথে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক এমএস ধোনি।

মোহাম্মদ আমির এশিয়া কাপে ৩ উইকেট নিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। এদিন প্রথম ২ ওভারে ৩ রানে ১ মেডেনে ১ উইকেট নিয়েছেন। তৃতীয় ওভারে রোহিত শর্মা (১০) আমিরের শিকার হয়ে ফিরেছেন। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসেই সামি হ্যাটট্টিকের সুযোগ তৈরি করেন। শিখর ধাওয়ান (৬) প্লেড অন হয়েছেন। আর সুরেশ রায়না (০) সামির অফ স্টাম্পে পড়া বল ঠেকাতে গিয়ে লেগ স্টাম্প হারিয়েছেন! ৫ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট, চাপে ভারত।  

কিন্তু এরপর বিরাট কোহলির সাথে মিলে যুবরাজ সিং দারুণ এক পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে থাকেন। ভালো বল করলেও ভারতের সিঙ্গেল ঠেকাতে পারছিল না পাকিস্তান। এই জুটি ইনিংস মেরামত করেছে। রান রেট ঠিক রেখেছে। সাহস করে বলা যায় ম্যাচ জেতার মতো জুটিও গড়ে ফেলেন তারা! ৭.২ ওভারে ৮.৩১ গড়ে ৬১ রানের জুটি গড়েছেন তারা। এরপর ২৩ বলে ২৪ রান করে ওয়াহার বিয়াজের শিকার হয়ে ফিরেছেন যুবরাজ।

এর আগে অদ্ভুত এই উইকেটে পাকিস্তানের অবস্থাও ছিল তথৈবচ। কিছু ব্যাপার দেখুন। পাওয়ার প্লে ৫ ওভারের। মাত্র ২৪ রান পেলো পাকিস্তান। স্পিনারদের বলের লম্বা টার্ন ও হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা চমকে দিচ্ছিল ব্যাটসম্যানদের। বল ব্যাটে আনতে রীতিমতো লড়তে হচ্ছিল। প্রথম ৯ ওভারের মধ্যে দুই ওভারে সর্বোচ্চ ৭ করে রান হয়েছে। ১২তম ওভারে প্রথমবারের মতো দশের বেশি রান পেয়েছে পাকিস্তান। ১০ ওভারে ৫১ রান ছিল তাদের। যাতে চারের মার ছিল মাত্র ৬টি। ম্যাচের প্রথম ছক্কা হয়েছে ১৪তম ওভারে! সব মিলিয়ে পাকিস্তান চার মেরেছে ১১টি, ছক্কা মাত্র ২টি। ১৪ ও ১৫ ওভারে যথাক্রমে ১৫ ও ১৩ রান এসেছে। মাত্র তিন ওভারে দশের বেশি রান হয়েছে। শেষ ৩ ওভারে ২৩ রান পাকিস্তানের।

ইনিংসের মাঝে অবশ্য নিজেদের রানকে অনেক বড় করে দেখলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিক। বললেন, আবহাওয়ার কারণে হয়তো এমনটা হয়েছে। তবে তারা যে রান করেছেন তা টপকে যাওয়া সহজ হবেনা বলেও আশা তার।

পাকিস্তানের দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও শারজিল খান ব্যাট করেছেন ৭.৪ ওভার। রান এসেছে ৩৮। আউটের ধরণগুলোতে বল বুঝতে না পারার ব্যর্থতা স্পষ্ট। শারজিল পুল করতে গিয়ে টাইমিং করতে পারেননি। সুরেশ রাইনার বলে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ধরা পড়েছেন। শারজিল করেছেন ২৪ বলে ১৭ রান।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯ বলে ৪৯ রান করার আত্মবিশ্বাসে শহীদ আফ্রিদি তিন নম্বরেই নেমে পড়লেন। কিন্তু তিনিও বল বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তার আগে অবশ্য শেহজাদ লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে অফ সাইডে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। ২৮ বলে ২৫ রান তার। আফ্রিদি পান্ডিয়ার অফ স্টাম্পের বাইরের বলকে টেনে তুলে মারতে গিয়েছিলেন। ব্যাটের সাথে বলের সমন্বয় করতে পারেননি। মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় ১৪ বলে ৮ রান তার।

ওভার চলে যাচ্ছে, রান আসছে না। এই অবস্থায় শোয়েব মালিক ও উমর আকমল তেড়েফুড়ে খেলার চেষ্টা করেছেন। ৪ ওভারে ৪১ রানের জুটি গড়েছেন তারা। পাকিস্তানের ইনিংস একটু বড় দেখাচ্ছে এই দুই ব্যাটসম্যানেরই কারণে। ১৬ বলে ২৬ রান করেছেন শোয়েব। ১৬ বলেই উমর করেছেন ২২ রান। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৩ ওভারে ১২ রান দিয়েছেন। ৪ ওভারে ২০ রান করে দিয়েছেন আশিস নেহরা ও রবিন্দ্র জাদেজা।   


মন্তব্য