kalerkantho

26th march banner

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত জবাব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ২২:২৬



দক্ষিণ আফ্রিকাকে ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত জবাব

দক্ষিণ আফ্রিকার ২২৯ রান দেখেই ইংল্যান্ডের হার দেখে ফেলেছেন অনেকে। কিন্তু ইংল্যান্ড হার দেখেনি! তারা ২৩০ রানের লক্ষ্যে নেমে দাঁতভাঙ্গা জবাবই দিতে চেষ্টা করেছে। ৬ ওভারেই যে ৮৭ রান তুলে ফেলেছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা! তবে উইকেটও পড়ছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় ৭ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৬ রান ইংল্যান্ডের। জো রুট ৬ ও অধিনায়ক এউইন মরগ্যান ৪ রানে ব্যাট করছেন।

দুই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় ও অ্যালেক্স হেলস প্রথম বল থেকেই আক্রমণ করেছেন। ২.৩ ওভারে ৪৮ রান এনে দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন তারা। ৭ বলে ১৭ রান করে ফেরেন হেলস। মেরে গেছেন রয়। পঞ্চম ওভারে তাকে থামিয়েছেন কাইল অ্যাবট। ১৬ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৩ রান করে ফিরেছেন রয়। বেন স্টোকসও ৯ বলে ১৫ রান করে গেছেন। লড়াইয়ে টিকে ছিল ইংল্যান্ড।  

এর আগের অবস্থাটা দেখুন। একেই বুঝি বলে ফুটন্ত কড়াই থেকে জলন্ত উনুনে পড়া! তা নইলে কি! ক্রিস গেইলের তাণ্ডবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা হারলো ইংল্যান্ড ১৮২ রান করেও। আর দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার তো ইংলিশ বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দিলেন! কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলার নির্মম ব্যাটিংয়ে প্রথম ৭ ওভারেই ৯৬ রান দিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে! ডি কক ২৪ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় করেছেন ৫২। আর আমলা ৩১ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় করেছেন ৫৮। শেষদিকে তাণ্ডব চালিয়েছেন জেপি ডুমিনি ও ডেভিড মিলার। তারা ২৭ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন। ২৮ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থেকেছেন ডুমিনি। ৩টি করে চার ও ছক্কা মেরেছেন তিনি। ১২ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন মিলার। এই চার ঝড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলগত সংগ্রহ গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৪ উইকেটে ২২৯ রান করেছে তারা। এটি টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ দলগাত রান। প্রোটিয়াদের ইতিহাসের তৃতীয় দলগত সর্বোচ্চ। তারা খেলছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ।  

টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ দলগত রান ২৪১। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই গড়া। সেই ম্যাচে প্রথম ৬ ওভারে রান উঠেছিল ৬৯। এবার পাওয়ার প্লেতে উঠলো ৮৩ রান।

অথচ ম্যাচের প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান এলো। এরপর দেখতে না দেখতে ৩০ পেরিয়ে গেলেন কুইন্টন ডি কক। হাশিম আমলা তখনো ১ রানে দাঁড়িয়ে। আমলার তান্ডব চলে তারপর। ডি কক দেখলেন, দ্রুতই তার কাছে এসে দঁড়িয়েছেন আমলা। ইংলিশ বোলাররা তখন অসহায়।

যারা ম্যাচটা দেখেননি তারা আসলে টি-টোয়েন্টির ঐতিহাসিক ব্যাটিংই মিস করেছেন। ৭.১ ওভারের সময় ডি কক ২৪ বলে ৭ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫২ রান করে ফিরেছেন। এটা তার প্রথম ফিফটি। ডি কক ও আমলা যে গ্যাপে মেরেছেন, তাতেই চার হয়েছে। ছক্কা মারতে চাইলে ছক্কা। খুনে ব্যাটিং। রান কিভাবে ছুটেছে দেখুন!

টপলেকে দ্বিতীয় ওভারে ১টি ছক্কা ও দুটি চার মারলেন ডি কক। ওভারে ১৫ রান। উইলিকে পরের ওভারের শেষ চার বলে ৬+৪+৪+৬ মারলেন। এই ওভারে ২০। ডি কক যখন ৩৬ রানে তখন মঈন আলিকে দুটি চার মেরে ৯ এ গেলেন আমলা। এই রানেই জীবন পেলেন। আর এই ওভারেও এক বাউন্ডারি ডি ককের। আসলো ১৩ রান। ৫ম ওভারটি ক্রিস জর্ডানের। প্রথম তিন বলে বাউন্ডারি মারার পর একটি ছক্কা মারলেন আমলা। এরপর আরেকটি চার। ২২ রান এই ওভারে। বেন স্টোকস পরের ওভারে ১১ রান দিলেন। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে ২১ বলে ফিফটি পূরণ করলেন ডি কক। এই ওভারেও আমলা একটি ছক্কা মেরেছেন। এসেছে ১৩ রান। পরের ওভারের প্রথম বলে ডি কক আউট। ৭.১ ওভারে ৯৬ রানে (১৩.৩৯ গড়) পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম উইকেট।

মঈনের বলে ডি কক ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। এবি ডি ভিলিয়ার্স (১৬) এসে রশিদ আলিকে পরপর দুই ছক্কা হাঁকিয়ে বিদায় নিলেন। একটু স্বস্তি পেলো ইংল্যান্ড। প্রোটিয়াদের গতি একটু কমে। আমলা টি-টোয়েন্টির চতুর্থ ফিফটি করলেন ২৫ বলে, দশম ওভারের সময় ছক্কা মেরেই। ১২তম ওভারে মঈনের শিকার হয়ে ফিরেছেন আমলা।

এই ম্যাচে দলগত রেকর্ড হওয়ারই ছিল। তাতে বড় ভূমিকা ডুমিনির। অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসির (১৭) ৩৬ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি গড়েছেন। তবে শেষদিকে শুরুর মতো তাণ্ডব চালান ডুমিনি ও মিলার। পঞ্চম উইকেটে ৪.৩ ওভারে ১৩.৩৩ গড়ে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন। ডুমিনি নিজের নবম ফিফটি করেছেন। ওভার প্রতি ১৬'র বেশি রান দিয়েছেন দুই বোলার, দশের বেশি রান ৩ বোলারের। ইংলিশরা কি পারবে? ২৩২ রানের টার্গেট জয় করে জেতার রেকর্ডও আছে যে!


মন্তব্য