kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ডি কক-আমলা তাণ্ডবে দিশেহারা ইংল্যান্ড!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ২০:৫৮



ডি কক-আমলা তাণ্ডবে দিশেহারা ইংল্যান্ড!

একেই বুঝি বলে ফুটন্ত কড়াই থেকে জলন্ত উনুনে পড়া! তা নইলে কি! ক্রিস গেইলের তাণ্ডবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা হারলো ইংল্যান্ড ১৮২ রান করেও। আর দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার তো ইংলিশ বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দিলেন! কুইন্টন ডি কক (৫২) ও হাশিম আমলার (৫৮) নির্মম ব্যাটিংয়ে প্রথম ৭ ওভারেই ৯৬ রান দিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে! দুই ওপেনারই করেছেন ফিফটি। এরপর ৩ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়ারা একটু শান্ত হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩৯ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফাফ ডু প্লেসিস ৯ ও জেপি ডুমিনি ৪ রানে ব্যাট করছেন।

টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ দলগত রান ২৪১। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই গড়া। সেই ম্যাচে প্রথম ৬ ওভারে রান উঠেছিল ৬৯। এবার পাওয়ার প্লেতে উঠলো ৮৩ রান, কোনো উইকেট না হারিয়েই।

অথচ ম্যাচের প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান এলো। এরপর দেখতে না দেখতে ৩০ পেরিয়ে গেলেন কুইন্টন ডি কক। হাশিম আমলা তখনো ১ রানে দাঁড়িয়ে। এরপর শুরু আমলার তান্ডব। ডি কক দেখলেন, দ্রুতই তার কাছে এসে দঁড়িয়েছেন আমলা। ইংলিশ বোলাররা তখন অসহায়।

যারা ম্যাচটা দেখেননি তারা আসলে টি-টোয়েন্টির ঐতিহাসিক ব্যাটিংই মিস করেছেন। ৭.১ ওভারের সময় ডি কক ২৪ বলে ৭ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫২ রান করে ফিরেছেন। এটা তার প্রথম ফিফটি। ডি কক ও আমলা যে গ্যাপে মেরেছেন, তাতেই চার হয়েছে। ছক্কা মারতে চাইলে ছক্কা। রীতিমতো খুনে ব্যাটিং! রান কিভাবে ছুটেছে দেখুন!

টপলেকে দ্বিতীয় ওভারে ১টি ছক্কা ও দুটি চার মারলেন ডি কক। ওভারে ১৫ রান। উইলিকে পরের ওভারের শেষ চার বলে ৬+৪+৪+৬ মারলেন। এই ওভারে ২০। ডি কক যখন ৩৬ রানে তখন মঈন আলিকে দুটি চার মেরে ৯ এ গেলেন আমলা। এই রানেই অবশ্য জীবন পেয়েছেন তিনি। আর এই ওভারেও এক বাউন্ডারি ডি ককের। আসলো ১৩ রান। ৫ম ওভারটি ক্রিস জর্ডানের। প্রথম তিন বলে বাউন্ডারি মারার পর একটি ছক্কা মারলেন আমলা। এরপর আরেকটি চার। ২২ রান এই ওভারে। বেন স্টোকস পরের ওভারে ১১ রান দিলেন। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে ২১ বলে ফিফটি পূরণ করলেন ডি কক। এই ওভারেও আমলা একটি ছক্কা মেরেছেন। এসেছে ১৩ রান। পরের ওভারের প্রথম বলে ডি কক আউট। ততক্ষণে অনেক রেকর্ড হয়ে গেছে। পাওয়ার প্লের সর্বোচ্চ রান, দ্রুততম সময়ে ফিফটি।

মঈনের বলে ডি কক ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। এবি ডি ভিলিয়ার্স (১৬) এসে রশিদ আলিকে পরপর দুই ছক্কা হাঁকিয়ে বিদায় নিলেন। একটু স্বস্তি পেলো ইংল্যান্ড। প্রোটিয়াদের গতি একটু কমে। আমলা টি-টোয়েন্টির চতুর্থ ফিফটি করলেন ২৫ বলে, দশম ওভারের সময় ছক্কা মেরেই। তার ৩১ বলে ৫৮ রানের ইনিংস থামিয়েছেন মঈন। ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা মেরেছেন আমলা।  
 


মন্তব্য