kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

দিলশানের ব্যাটে জয় দিয়ে শুরু শ্রীলঙ্কার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৩৯



দিলশানের ব্যাটে জয় দিয়ে শুরু শ্রীলঙ্কার

জয় এনে দেয়া বাউন্ডারিটা মেরে বাতাসে ঘুসি মারলেন তিলকারত্নে দিলশান। বুক ভরে নিলেন হাওয়া।

অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে আলিঙ্গনে বাধলেন। যেন খুব বড় এক জয়ের স্বস্তি পেলেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়। তারপরও দিলশানের এই প্রতিক্রিয়ার কারণ আছে। হালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার অবস্থা ভালো না। এই টুর্নামেন্টে নিজেদের তো আন্ডারডগই বলছে। সেই ম্যাচে আফগানরাও তাদের ১৫৪ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস খেলে ফিরেছেন দিলশান। ৭ বল হাতে রেখে দল জিতেছে ৬ উইকেটে। বিশ্বকাপের শুরুটা জয় দিয়েই হলো। নিজের ফর্মটাও নিশ্চিত করা গেলো। দিলশান তো স্বস্তি পাবেনই! স্বস্তি শ্রীলঙ্কারও।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান করেছিল আফগানিস্তান। ছিল আসগার স্তানিকজাইয়ের ৬২ রানের ক্যাপ্টেন্স নক। কিন্তু ৫৬ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় খেলা দিলশানের ইনিংসে হাসিটা শ্রীলঙ্কার। ১৩তম ফিফটি করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ তিনি।

আসলে দিলশানই তো হারিয়ে দিলেন আফগানদের। তার সাবলীল ব্যাটিংয়ের কারণেই লঙ্কানদের সামনে চ্যালেঞ্জটা কখনো বড় হয়ে ওঠেনি। রান রেট ধরে রেখে শ্র্রীলঙ্কাকে রান তাড়া করার সময় একবারের জন্যও পথ হারাতে দেননি। নিজেও সুযোগ দেননি কোনো। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংসে দিলশান ফর্মে ফিরেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে রানই করতে পারেননি। এদিন প্রথম চার বলে ১ রান করলেন। তারপরই টানা দুই বলে পেসার দৌলত জারদানকে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। দিল স্কুপের ছক্কা ফিরে এসেছে আবার!

ওপেনিংয়ে দিনেশ চান্দিমালও ভালো খেলছিলেন। তবে দলের ৪১ রানের সময় ব্যক্তিগত ১৮ রানে ফিরেছেন তিনি। শেষে ম্যাথুসের (অপরাজিত ২১) সাথে ৪২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি হয়েছে দিলশানের। মাঝে কিন্তু তিনটি জুটি যথাক্রমে ১৭, ২৭ ও ২৮ রানের। তার মানে মাঝে আফগান বোলাররা স্বস্তি দেননি লঙ্কানদের।

তা অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও শ্রীলঙ্কার তাতে ক্ষতি হয়নি। দিলশান পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। ১০ ওভারে তাই ৭১ রান পেয়েছে দল। আফগানদের বাজে ফিল্ডিং কিছু বাড়তি রান দিয়েছে। তাতে দিলশানের কৃতিত্ব খাটো হয় না মোটে। পেসাররা মার খেয়েছেন বেশি। দুজন দশের বেশি রান দিয়েছেন। অন্যজন দশের কাছাকাছি। আফগানরা ব্যাট হাতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও বল হাতে হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি একদমই।

এর আগে আফগানরা লঙ্কানদের বোলিং তছনছ করেছে ইনিংসের মাঝে। তাতে কৃতিত্ব স্তানিকজাই ও সামিউল্লা শেনওয়ারির। মাত্র ৫.১ ওভার ব্যাট করেছেন তারা। পঞ্চম উইকেটে ১১.০৯ গড়ে তুলেছেন ৬১ রান। দলকে ভালো একটি সংগ্রহের দিকে ঠেলে দিয়েছেন তারাই।

১১ ওভারে ৪ উইকেটে ৫১ রান ছিল আফগানিস্তানের। সেখান থেকে বাকি ৯ ওভারে তারা ১০১ রান তুলবে তা কে ভেবেছিল! লঙ্কানরাও ভাবেনি। মিলিন্দা সিরিওয়ার্দানেকে পরপর দুই ছক্কা মেরেছেন স্তানিকজাই। ওই ওভারে ১৬ রান দেয়া সিরিওয়ার্দানে আর বলই পাননি! অভিজ্ঞ পেসার নুয়ান কুলাসেকারাও রক্ষা পাননি। ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়েছেন তিনি। ৩ উইকেট নেয়া থিসারা পেরেরা পরের দিকে মার খেয়েছেন। ২ উইকেট নেয়া স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকেও ছেড়ে কথা বলেননি আফগানরা। হেরাথকে একটি করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন স্তানিকজাই ও শেনওয়ারি।

শেনওয়ারির ১৪ বলে ৩১ রানের সাহসী ইনিংসে ২টি ছক্কা ও ৩টি চার। ১৭তম ওভারে তিনি আউট হলেও থামেনি আফগানরা। স্তানিকজাই ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন। তার ইনিংসে ৪টি ছক্কা ও ৩টি বাউন্ডারি। ১৯তম ওভারের শেষ বলে অধিনায়কের ফেরার সময় আফগানরা লড়ার মতো স্কোর পেয়ে গেছে। ৩ বলে নাজিবুল্লা জারদানের অপরাজিত ১২ রান সেই সংগ্রহটাকে আরো বড় করেছে। কিন্তু দিলশান এই সংগ্রহটাকে অজেয় হতে দেননি।


মন্তব্য