kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

গেইলের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহজ জয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৩৮



গেইলের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহজ জয়

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের শেষ কথা তাহলে কি ক্রিস গেইল! অলস সৌন্দর্য্যের ব্যাটসম্যান। শুরুতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা দেখলেন যেন! তারপর এমন তাণ্ডব শুরু করলেন যে ইংল্যান্ডের দেয়া ১৮৩ রানের টার্গেটও ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেলা ফেলায় পেরিয়ে গেলো! সহজ জয় তাদের! ইংলিশ বোলারদের পাড়া-মহল্লার বোলার বানিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন গেইল। ২০০৭ প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর আবার তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দেখা পেয়েছেন এই জ্যামাইকান ঝড়। ৪৮ বলে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থেকে হয়েছেন ম্যাচের সেরা। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আক্ষরিক অর্থেই গেইলের দানবীয় ব্যাটিং দেখা গেছে। ১১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় নিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করেছে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অথচ ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে ১৮২ রান করার পর তাদের সুযোগটাই বেশি দেখেছে অনেকে।    

৮০ থেকে ৯৬ পর্যন্ত গেইল গেছেন টানা তিন বলে একটি চার ও দুটি ছক্কা মেরে। এরপর এক রান করে পরের ওভারের জন্য স্ট্রাইক নিয়েছেন। ১৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৬৯ রানে ক্যারিবিয়ানদের হাতের মুঠোয় ম্যাচ। ৪৩ বলে ৯৭ ছিল। পরের বলে বাউন্ডারি মারলে ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরিটা হতো তার। একটু নার্ভাস নাইন্টিজে ভুগলেন। দুটি সিঙ্গেল নিলেন। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে আরেকটি সিঙ্গেলে সেঞ্চুরি টি-টোয়েন্টির আদর্শ বিজ্ঞাপন গেইলের। ৪৭ বলে ৫টি চার ও ১১টি ছক্কায় শতকে পৌঁছেছেন। স্পর্শ করেছেন তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি। আগের সেঞ্চুরিটি করেছিলেন ৫০ বলে। ওটা আছে চতুর্থ দ্রুততম হিসেবে।

প্রথম ওভারে পার্টনার হারিয়েছেন গেইল। এরপর মারলন স্যাময়েলস এসে ৩৭ রান করে আউট হলেন। ততক্ষণে গেইল ১২ বল খেলে করেছেন মোটে ১৫ রান। নবম ওভার থেকে ঝড় বইয়ে দিতে থাকেন গেইল। ছক্কাগুলো মেরেছেন জোড়ায় জোড়ায়! রশিদ আলি প্রথমে জোড়া ছক্কার শিকার। এরপর বেন স্টোকস পরপর দুই বলে দুই ছক্কা খেলেন! বল সব গ্যালারিতে গিয়ে পড়ে। কোনোটা ৯৬ মিটার, কোনোটা ৮৬! ফিল্ডারদের ধরার সুযোগই নেই! মঈন আলি বেচারা হয়ে গেলেন। তাকে টানা তিন বলে তিন ছক্কা মেরেছেন গেইল। তার আগে মেরেছেন আরেকটি। এরপর ডেভিড উইলিও জোড়া ছক্কার শিকার! ৫০ করেছিলেন ২৭ বলে। পরের ৫০ গেইল করেছেন ২০ বলে। চারের দিকে নজর ছিল কম। প্রথম পঞ্চাশে ৫ ছক্কা, পরের পঞ্চাশে ৬টি। গোটা ইনিংসে একবারের জন্য সামান্য সুযোগ দেননি গেইল। নিখাঁদ বিনোদন মিলেছে তার ব্যাটিংয়ে।   গেইলের দিনে বিশ্বের কোনো বোলিং কিছু না। প্রমাণিত আরেকবার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ শুরু হলো হাসতে হাসতে!   

এর আগে শান্ত একটা শুরু ছিল ইংল্যান্ডের। প্রথম দুই ওভারে ৫ রান। কিন্তু পরের দুই ওভারে লাফ দিয়ে ৩৬ এ পৌঁছে যাওয়া। জ্যাসন রয়কে (১৫) বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই থামিয়ে দিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। ৩৭ রানে প্রথম উইকেটের পতন। কিন্তু এরপর ৫৫ রানের জুটি গড়েন অ্যালেক্স হেলস ও জো রুট। রান রেট কখনোই ৮ এর নিচে নামতে দেননি তারা।  

হেলস ২৮ রানে আউট হলেও রুট আরো কিছুক্ষণ ভুগিয়েছেন ক্যারিবিয়ানদের। ২৬ বলে ২৮ রান করেছেন হেলস। রুট ৪৮ রান করেছেন ৩৬ বলে। প্রথম ১০ ওভারে ৮১ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। পরের ১০ ওভারে ১০১!

চতুর্থ উইকেটে জশ বাটলার ও অধিনায়ক এউইন মরগ্যান ঝড়ের কবলে ফেলেছিলেন প্রতিপক্ষকে। ২১ বলে ৩৮ রানের জুটি গড়েছেন তারা। মরগ্যান ছিলেন শেষ পর্যন্তই। ৩ ছক্কায় ২০ বলে বাটলার ৩০ রান করেছেন। ১৮তম ওভারে তাকে তুলে নিয়ে হাফ ছাড়ার চেষ্টা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ৭ বলেই ১৫ রান দিয়ে গেলেন বেন স্টোকস। শেষ চার ওভারে ৫৪ রান এসেছে। শেষ ওভারে ১৮। মরগ্যান ২০ বলে ৩ ছক্কায় ৩০ রানে অপরাজিত থেকেছেন। কিন্তু ইংলিশদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ এক গেইলের দানবীয় ব্যাটিংয়ে!


মন্তব্য