kalerkantho

26th march banner

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের রানের পাহাড়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৭:২৩



বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের রানের পাহাড়

শেষ ৫টি সীমিত ওভারের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুটি টি-টোয়েন্টি। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ওপর রানের পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ইডেন গার্ডেন্সে আহমেদ শেহজাদ (৫২) ও মোহাম্মদ হাফিজ (৬৪) ফিফটি করেছেন। ১৯ বলে ৪৯ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২০১ রান করেছে আফ্রিদির দল। টি-টোয়েন্টিতে এটা পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। ২০০৮ সালে করাচিতে ২০৩ রান করেছিল পাকিস্তান। সেটাও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে।

পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভঙ্গুর। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে আল-আমিন হোসেনকে দুটি ছক্কা মেরে চমকে দিয়েছিলেন ওপেনার শারজিল খান। ওই ওভারে খরচ হয় ১৮ রান। এই বিশ্বকাপে স্পিন একটা ফ্যাক্টর হবেই। বাঁ হাতি স্পিনার আরাফাত সানি প্রথম ওভারেই সেটা বোঝালেন। বোল্ড হয়ে ফিরেছেন শারজিল (১৮)। ২৬ রানে পাকিস্তান হারায় প্রথম উইকেট। সানি এই ম্যাচে খেলছেন পেসার আবু হায়দার রনির জায়গায়।

মোহাম্মদ হাফিজ এসেই আক্রমণ করেছেন। আহমেদ শেহজাদ এশিয়া কাপে না থাকলেও সরাসরি বিশ্বকাপে ফিরেছেন। এই দুজন চমৎকার একটি জুটি গড়তে শুরু করেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে পাকিস্তান ১ উইকেটে ৫৫ রান তুলেছে। আইপিএলে ইডেন গার্ডেন্স সাকিব আল হাসানের ঘরের মাঠ। কিন্তু প্রথম ওভারে তাকেও দিতে হয়েছে ১১ রান। মাশরাফি নিজেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না এই জুটিকে। ১১.২ ওভারে এই জুটি করে ৯৫ রান। ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি করে আরো বড় কিছুর হুমকি দিচ্ছিলেন শেহজাদ। শেষ বিশ্বকাপে ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। কিন্তু তাকে ৫২ রানে আউট করে ব্রেক থ্রু এনে দেন লেগ স্পিনার সাব্বির রহমান। তুলে মেরে মাহমুদ উল্লার ক্যাচ হয়েছেন শেহজাদ।

শহীদ আফ্রিদি নিজেকে ব্যাটিংয়ে প্রমোশন দিয়ে নেমে গেলেন। এবং ঝড় তুলতে থাকলেন। তাতে ১৫ ও ১৬তম ওভারে মাশরাফি ও আল আমিনকে সমান ১৮ রান করে দিতে হলো। হাফিজ নিজের নবম ফিফটি তুলে নিয়ে আরো বিপদ বাড়াচ্ছিলেন। এই সময়ে সৌম্য সরকার অসাধারণ ক্যাচে হাফিজকে ৬৪ রানে ফিরিয়ে দেন। সানিকে তুলে মেরেছিলেন হাফিজ। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হওয়ার কথা। কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে বাতাসে ভেসে বলটা ধরে ওপরে ছুড়ে দিয়ে বাইরে পড়েছিলেন সৌম্য। বল বাতাসে থাকতেই মাঠে ঢুকে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে দু হাত বাড়িয়ে ক্যাচটাকে তালু বন্দী করেছেন। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা এক ক্যাচ এটি।

ততক্ষণে মাত্র ১৭ বলেই আফ্রিদি-হাফিজ জুটি করেছেন ৪২ রান। দল ১৬৩ রানে। ৫ বল পরই তাসকিন আহমেদ তুলে নিয়েছেন উমর আকমলের (০) উইকেট। শেষ ওভারে আফ্রিদিকে শিকার করেছেন তাসকিন। ততক্ষণে সর্বনাশ যা করার করে ফেলেছেন আফ্রিদি। ১৯ বলে ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৪৯ রান করেছেন। শেষ ৫ ওভারে ৬২ রান করেছে পাকিস্তান। ২০১৪ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৯০ রান করেছিল তারা। জিতেছিল ৫০ রানে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলগত রান ১৯০। পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৭৫।

এই ম্যাচে ৩ ওভারে আল আমিন ৪৩ রান দিয়েছেন। ৩ ওভারে মাশরাফি দিয়েছেন ৪১ রান। সানি ৪ ওভারে ৩৪ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। তাসকিন ৪ ওভারে ৩২ রানে ২ উইকেট শিকার করেছেন। ৪ ওভারে সাকিবের খরচ ৩৯ রান।     


মন্তব্য