kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

এবার ইডেনে পাকিস্তান বধের অপেক্ষায় টাইগাররা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ২১:১৯



এবার ইডেনে পাকিস্তান বধের অপেক্ষায় টাইগাররা

ক্রিকেট আর রাজনীতি নাকি মিশিয়ে ফেলা ঠিক না। কিন্তু পাকিস্তানের সাথে যতবার জিতবে বাংলাদেশ ততবারই অন্য রকম বিজয়ের আনন্দে মাতবে ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। এই যেমন মার্চের গোড়ার দিকেও লাল সবুজের তেমন একটি উৎসব দেখেছে বিশ্ব। বহু বছর আগের এক কালো মার্চে বাংলার মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। এরপর লড়ে জিতে নেয়া একটি পতাকা, একটি দেশ। পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট লড়াই মানেও যেন রণাঙ্গণের কোনো প্রাণপণ যুদ্ধ! এবার আরো বড় মঞ্চে সেই লড়াই। বুধবার মাশরাফিরা ১১ ক্রিকেট যোদ্ধা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঝাপিয়ে পড়বে পাকিস্তানের ওপর। ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশের আরো একটি ইতিহাস গড়ার ম্যাচ। খেলা শুরু দুপুর সাড়ে তিনটায়। সুপার টেনে গ্রুপ টুতে এটি টাইগারদের প্রথম ম্যাচ।

এশিয়া কাপে গত ২ মার্চ পাকিস্তানকে ধ্বসিয়ে দিলো মাশরাফির দল। পাকিস্তানকে বিদায় করে দিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেললো। তখন এই দেশের একটি সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম ছিল, 'আমি বিজয় দেখেছি'। মাঝে ১২টা দিন গেলো। আবার সেই দলের বিপক্ষে খেলা। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী তখন লিখেছিলেন, "পাকিস্তানের চেয়ে এখন ভালো দল বাংলাদেশ"। দুই সপ্তারও কম সময়ে সেই সত্যটা তো আর বদলে যায়নি! আরো একটি লাল-সবুজ বিজয় তাই প্রত্যাশা করা যেতেই পারে।

মাঝের সময়টাতে বাংলাদেশ ছিল খেলার মাঝে। পাকিস্তান ছিল ভারতে যাবো কি যাবো না এই দোদুল্যমানতায়। এমন কিছু শহীদ আফ্রিদির দল এই সময়ে করে ফেলেনি যাতে তাদের নিয়ে শঙ্কা থাকতে পারে। কিন্তু মাশরাফি বলেন, অভিজ্ঞতায় এগিয়ে পাকিস্তান। তবে নিজেদের খুব পিছিয়ে তিনিও নিশ্চয় রাখবেন না। টি-টোয়েন্টির প্রথম পর্বে খেলে সুপার টেনে এসেছে বাংলাদেশ। ২০১৫'র ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর মাশরাফির নেতৃত্বে এই দলটির উত্থাণের শুরু। সেই ধারাবাহিকতা ফর্মে খুব স্পষ্ট। ক্রিকেট আবার ফর্মের খেলা। সাম্প্রতিক ফর্মেও তো পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ! আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ ধারাবাহিক এক দলের লড়াইও তো এটা।



গত বছর থেকে এই পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে ৫ বার দেখা হয়েছে টাইগারদের। প্রতিবারই বিজয়ের হাসি হেসেছেন মাশরাফি-তামিমরা। ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সাথে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে হারানোর অভিজ্ঞতা হয়েছিল ২০১৫ তে। আর ২০১৬'র একমাত্র দেখায় এশিয়া কাপেও তো পাকিস্তানকে গুড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগাররা এগিয়ে নয়?

খেলাটা ইডেন গার্ডেন্সে। ১৯৯০ সালে মিনহাজুল আবেদিন নান্নু প্রথম ও শেষবারের মতো বাংলাদেশকে এই ঐতিহাসিক মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এখন দলের সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য মাশরাফিও তখন শিশুকালে। বর্তমান দলের অনেক সদস্যের তখনো জন্ম হয়নি। তামিম ইকবাল তখন হয়তো কেবল গুটিগুটি পায়ে হাটতে শিখছেন! দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের এই মাঠে পা পড়েনি। দলের সবার মতো মাশরাফির নিজেরও খুব স্বপ্ন ছিল সেখানে খেলার। সেই স্বপ্নপূরণের সাথে আরেকটি পাকিস্তান বধ কাব্য লিখতে পারলে তো সোনায় সোহাগা!

কলকাতা বাংলা বলা মানুষের শহর। এই বাংলার প্রতি তাদের ভিন্ন টান। আর পাকিস্তানের বিরোধিতা তো আছেই। সেই হিসেবে বাংলাদেশ ম্যাচটা নিজেদের মাঠেই খেলছে, এমন একটা অনুভূতি পাবে। সমর্থন থাকবে মাশরাফিদের দিকে। আর বাংলাদেশ যখন দারুণ ফর্মে তখন প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়েই গলা ফাটাতে পারবেন সেখানকার সমর্থকরা।



ভারতের মানুষের মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং দেখার আগ্রহটা খুব। এই কাটার বিশেষজ্ঞ এখনো নাকি পুরো ঠিক হননি। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষেও তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে চলে আসা আল-আমিন হোসেন এই সময়ে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা বোলার। আরাফাত সানি, তাসকিন আহমেদ অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন। ফল আসেনি। তাদের খেলায় বাধা নেই। মুস্তাফিজ খেললে আবু হায়দার রনিকে বসতে হবে। আবার তিনি না খেললে আর সানি খেললেও রনিকে বাদ পড়তে হবে। ভারতের মাটিতে স্পিন ফ্যাক্টর। তিন পেসার সম্ভবত থাকবে। সাকিব স্পিনে পার্টনার পেতে পারেন।

তামিম আগের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে গড়েছেন ইতিহাস। তিন ম্যাচে অপরাজিত ৮৩, ৪৭ ও অপরাজিত ১০৩। ২৩৩ রান নিয়ে সুপার টেন শুরু করছেন এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। পিএসএল খেলে আসায় এই পাকিস্তানের সবটা একটু বেশি জানা তার। সেটা বাড়তি সুবিধা। সৌম্য এখনো পুরো ফর্মে নেই। সাব্বির রহমান এশিয়া কাপ থেকে মাতিয়ে চলছেন। সাকিবও ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর ৪ রান করলেই ৫০ উইকেট ও হাজার রানের 'ডাবল' এর অভিজাত ক্লাবে পা রাখবেন। আফ্রিদির পর সেখানে দ্বিতীয় সদস্য হবেন সাকিব। মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং নিয়ে সামান্য দুর্ভাবনা থাকলেও মাহমুদ উল্লাহ সেসবের উর্ধে। সব মিলিয়ে চমৎকার বোলিং ও ব্যাটিং আক্রমণ বাংলাদেশের। ফিল্ডিংয়েও দুর্দান্ত। সব বিভাগে যে দল ভালো, মাঠে তাদের সমন্বয় মানে পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি বিজয়। ইডেনের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ।          

 


মন্তব্য