kalerkantho


ভাগসু’র সৌন্দর্য প্রাণবন্ত করে তোলে মনকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ২১:১৪



ভাগসু’র সৌন্দর্য প্রাণবন্ত করে তোলে মনকে

ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে চলছে টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেট যুদ্ধে। আর এই স্টেডিয়াম থেকে বহু দূরে রয়েছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য।

ধর্মশালার অভিজাত শহর ম্যাকলয়েডগঞ্জ। ঐ স্থান থেকে ৩ কিলোমিটার পরে নদ্দি। আর ঐ নদ্দির ভাগসু স্থানটি হলো প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। পাহাড়ের অবিরাম উপস্থিতি ডিঙ্গিয়ে সুবিশাল জলপ্রপাত প্রাণবন্ত করে তোলে মনকে। আর সেই জলপ্রপাতে নিজেকে ডুবাতেই হাজির হন দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থী। তাতে মুখরিত হয়ে উঠে নদ্দির ভাগসু।
ধর্মশালা স্টেডিয়াম থেকে আকাঁ-বাকাঁ পথে যত উচুঁতে যাওয়া যাবে, ততই যেন বাড়তে থাকে প্রকৃতির সৌন্দর্য। চোখ-মন জুড়ানোর জন্য এর চেয়ে বেশি আর কিছু প্রয়োজন থাকে বলে মনে হয় না। রাস্তার পাশের গাছগুলো বরণ করে নেয় দর্শনার্থীদের। গাছগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধতা পেয়ে বসে তাদের। কিন্তু এই মুগ্ধতাই যে শেষ নয়, তা কে জানে।
আসলেই তা কেউ জানে না। জানা যায় যখন হাজারো উঁচু পাহাড় অতিক্রম করে পৌঁছানো যায় ধর্মশালার অভিজাত শহর ম্যাকলয়েডগঞ্জ থেকে ৩ কিলোমিটার পরে নদ্দি নামক জায়গার ভাগসু স্থানে। পাহাড়ের পাশ ঘিরে দর্শনার্থীদের চলা-ফেরার পথ। আর উল্টো দিকের পাহাড়ের নিচে বিশাল সব পাথর। তবে কি এই পাথর দেখেই চোখ জুড়াবে!!! এমন চিন্তা মাথায় ঘুড়াই স্বাভাবিক।
কিন্তু না, সামনে অপেক্ষা করছে আরও অনেক সৌন্দর্য। যাতে চোখ জুড়ানোই না, মন চাইবে আরও দেখতে। দর্শনার্থীদের চলা-ফেরার পথ বেয়ে ৩০ মিনিট উপরে উঠতেই চোখে পড়ে সুবিশাল জলপ্রপাত। যাতে ভুলে যেতে হয় গত ৩০ মিনিট পাহাড়ের পথ ধরে উঁচুতে উঠার কষ্ট।
সুবিশাল জলপ্রপাতের পানিগুলো ভেসে যাচ্ছে মাটির দিকে। আর তাতে হাত বুলাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ আবার ঐ জলপ্রপাতে দাড়িয়েই তুলছেন ছবি। স্মৃতির পাতায় এমন দৃশ্য না ধরে রাখলে কিভাবে হয়? এমন প্রশ্ন করে বসলেন এক দর্শনার্থী নিজেই। যার আগমন সুদূর জার্মানি থেকে। বন্ধুদের নিয়ে ভাগসুর এমন সৌন্দর্য দেখতেই এসেছেন জার্মান মিকাইল অ্যালবার্ট। এমন দৃশ্য দেখে তার ভাষ্য, ‘এতটা অপরূপ ভাবতেই পারিনি। পাহাড়ে চূড়ায় উঠার কষ্ট ভুলে গেছি। এত সুন্দরভাবে পাহাড়ের মাঝ দিয়ে পানি বেয়ে পড়া আমি কমই দেখেছি। ’
তারই বন্ধু মারিয়া আন্না বলেন, ‘এমন ঝর্ণা দেখে আমার মন ভরে গেছে। পুরো মন প্রাণবন্ত হয়ে গেছে। ’
শুধুই কি জার্মানি! অস্ট্রেলিয়া থেকেও এসেছে এক দল দর্শনার্থী। এরমধ্যে রয়েছে চারজন পুরুষ, তিনজন মহিলা। এরা সবাই পরিবারের সদস্য। এদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক রিচার্ড ডেভিডকে জিজ্ঞাসা করা হয় এখানে আসার কারণ কি? হাঁপাতে হাঁপাতে ৬৫ বছর বয়সী ডেভিড বলেন, ‘এই জায়গাটির কথা আমি আমার এক ভারতীয় বন্ধুর কাছে শুনেছি ৭ বছর আগে। এবার সুযোগ হলো আসার। তাই দেখতে আসলাম। দেখার পর এখন মনে হচ্ছে ঐ ভারতীয় বন্ধুকে জড়িয়ে ধন্যবাদ দিই। ’ বন্ধুর কথা বলেই ঐ ভারতীয়কে জড়িয়ে ধরলেন ডেভিড। কারণ ঐ ভারতীয় বন্ধুর সাথেই ভাগসুর জায়গাটি দেখতে এসেছেন ডেভিড ও তার দল।
এবারই প্রথম এসেই হয়তো ক্ষান্ত হবেন না অ্যালবার্ট-ডেভিডরা। যতদিন ধর্মশালায় থাকবেন, প্রতিদিনই এখানে আসার প্রতিজ্ঞা করে গেছেন তারা। দর্শনার্থীদের এমন প্রতিজ্ঞা হয়তো শুনতে পায় প্রকৃতি। তাই যত সময় যাবে ততই যেন আরও সুন্দর থেকে সুন্দর হবে নদ্দির ভাগসু স্থানটি।


মন্তব্য