kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পেস আক্রমণের উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান ফেবারিট হিসেবে শুরু করবে ভারত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ১৬:৫৬



পেস আক্রমণের উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান ফেবারিট হিসেবে শুরু করবে ভারত

টি-২০ বিশ্বকাপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে এ পর্যন্ত এশিয়ার দলগুলো ভাল করে আসছে এবং চলমান টুর্নামেন্টে উপমহাদেশের একমাত্র দল হিসেবে আশা-আকাংখার মূর্ত প্রতীক হিসেবে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা স্বাগতিক ভারতীয় দল।
ইতোপূর্বে পাঁচ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে সংক্ষিপ্ত ভার্সনের এ বিশ্বকাপ। যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা একবার করে শিরোপা জয় করেছে। কেবলমাত্র ২০১০ আসরেই এশিয়ার কোন দল ফাইনাল খেলতে পারেনি।
সাবেক খেলোয়াড় থেকে শুরু করে অভিজ্ঞজন এমনকি জোতির্বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত ভারতকেই ফেবারিট মানছেন। সকলেই মনে করছেন ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দারুণ ফর্মে থাকা ভারত নিজেদের ট্রফি কেবিনেটে টি-২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা তুলছেন।
এবার সরাসরি মূল পর্বে খেলা দলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা যাক :
পাকিস্তান:
স্পট ফিক্সিংয়ের কারণে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা বাঁ-হাতি ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমিরের অন্তর্ভুক্তিতে নি:সন্দেহে ২০০৯ আসরের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান দলের মূল শক্তি পেস আক্রমণ।
কিন্তু শহিদ আফ্রিদি নেতৃত্বাধীন দলটির টপ অর্ডারের সমস্যাটা বেশ পুরনো। যে কারণে নির্বাচকরা দুইবার দলে পরিবর্তন এনেছেন। নিরাপত্তা নিয়ে টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণই এক পর্যায়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার বিষয়ে ভারত সরকারের লিখিত নিশ্চয়তা প্রদান ও স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন হলে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নিশ্চিত হয় দলটির। কিন্তু তারপরও আনপ্রেডিক্টেবল দল হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান কতটা এগুতে পারবে সেটাই দেখার বিষয়।
ভারত:
স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়সহ এ বছর এ পর্যন্ত ১১টি-২০ ম্যাচের ১০টিতেই জয় পেয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারত এবং এক সময় বোলিংয়ে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেলেও বর্তমানে সেরা ভারসাম্যপূর্ণ দলে পরিণত হয়েছে।
দলের সকল ব্যাটসম্যানই রয়েছে দারুণ ছন্দে। কোলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল শেষে শিরোপা তুলে ধরতে মরিয়া থাকবে তারা।
শ্রীলংকা:
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আসরে শিরোপা জয়ের পর দুই ব্যাটিং স্তম্ভ কুমার সাঙ্গাকারা এবং মাহেলা জয়াবর্ধনে অবসর নেন। কিন্তু এখনো তাদের যথার্থ বদলি হিসেবে কাউকে পায়নি দলটি। উপড়ন্ত লাসিথ মালিঙ্গার ইনজুরির কারণে গত সপ্তাহে নতুন অধিনায়ক হিসেবে এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় নির্বাচকরা।
দ্বীপ রাষ্ট্রটি সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ হেরেছে এবং বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে হতাশাজনক পারফরমেন্সের পর পুরো নির্বাচক প্যানেলকে বরখাস্ত করেছে।
দল ও সমর্থকরা তাকিয়ে থাকবে হাঁটুর ইনজুরির কারণে সম্প্রতি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়া সেরা পেসার মালিঙ্গার ফিটনেসের দিকে। তবে এখনো তিনি দলের হয়ে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়া : সংক্ষিপ্ত ভার্সনে শিরোপার বন্ধাত্ব ঘোচাতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর নিজ মাঠে অর্জন করা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ট্রফির পাশে টি-২০ ট্রফিটি সাজাতে মরিয়া থাকবে অসিরা। এ জন্য নিজেদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাই-আপ দিয়ে স্পিন বোলিং দূর্বলতা কাটাতে চায় স্টিভেন স্মিথের দল।
অবশ্য বেশ কয়েক বছর যাবত আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতাটাও বাড়তি সুযোগ অসিদের।
দক্ষিণ আফ্রিকা:
অস্ট্রেলিয়ার মত দক্ষিণ আফ্রিকাও আইপিএল অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আশা করছে। বিশ্ব ইভেন্টে ‘চোকার’ বদনাম ঘোচাতে বদ্ধপরিকর থাকবে প্রোটিয়ারা।
বিশ্বের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত এবি ডিভিলিয়ার্স নিজের ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটিং কৌশল দিয়ে আইপিএলে বহুবারই ভারতীয় দর্শকদের আনন্দে ভাসিয়েছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আশা ৩২ বছর বয়সী এ মহাতারকা তাদের বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা ঘোচাতে পারবে।
ইংল্যান্ড:
ইংল্যান্ডের বিশ্বাস জস বাটলার, এ্যালেক্স হেলস এবং ইয়োইন মরগানের মত খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকার এ বি ডিভিলিয়ার্সের মত ঝড়োগতির ইনিংস খেলবেন। তবে ২০১০ চ্যাম্পিয়নদের বোলিং আক্রমণ খবি বেশি অভিজ্ঞ নয়।
দলটিতে রয়েছেন আগাসী স্ট্রাইকার বেন স্টোকস এবং নির্ভরতার প্রতীক জো রুট। তবে বোলিং দুর্বলতা কাটিয়ে তাদের ব্যাটিং ঝলক কতটা দেখাতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।
নিউজিল্যান্ড:
সংক্ষিপ্ত ভার্সনে বড় আসরের টুর্নামেন্টে দলটি বেশ কিছু দিন যযাতই ভাল করে আসছে। এবারের টুর্নামেন্টেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নিউজিল্যান্ডকে কতিপয় মনস্তাত্বিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। ফর্মের দিক থেকে কিউইরাও ফেবারিট হিসেবে ভাবতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক অধিনায়ক মার্টিন ক্রোর মৃত্যু এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অবসরের কারণে দলটির প্রস্তুতিতে খানিকটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মূলত ম্যাককালামের অনুপস্থিতি ভোগাতে পারে ওয়ানডে রানার্স-আপ দলটিকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ:
বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ঝামেলা থাকায় মাত্র দুই সপ্তাহ আগে টুর্নামেন্ট বয়কটের পরিকল্পনা করলেও অধিনায়ক ড্যারেন সামিকেও সামনে থেকে খর্বশক্তির ক্যারিবিয় দলটিকে অনুপ্রাণীত করতে হবে। ২০১২ চ্যাম্পিয়নরা একবার দাঁড়িয়ে যেতে পারলে দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের আশা করতে পারেই।


মন্তব্য