kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

তামিমের সেঞ্চুরির পর ধর্মশালায় বৃষ্টি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ২২:৩৮



তামিমের সেঞ্চুরির পর ধর্মশালায় বৃষ্টি

ওমানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ এটি। কিন্তু সেই তাদের বিপক্ষে তামিম ইকবাল করলেন ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অমরত্ব নিশ্চিত করা সেঞ্চুরি করে তামিম অপরাজিত থেকেছেন ১০৩ রানে। তার ৬৩ বলের বিস্ফোরক ইনিংসটি ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো। টি-টোয়েন্টিতে এটা বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের সপ্তম সেঞ্চুরি এটি। আর তামিমের এই সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ২ উইকেটে ১৮০ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এই রিপোর্ট লেখার সময় ওমান ৭ ওভারে ২ উইকেটে করেছে ৪১ রান। তাসকিন আহমেদ ও আল-আমিন হোসেন নিয়েচেন ১টি করে উইকেট। এই ম্যাচ জিতলে বিশ্বকাপের সুপার টেন বা মূল পর্বে চলে যাবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বৃষ্টি নেমেছে। খেলা বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে খেলা পরিত্যক্ত হলেও নেট রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে বাংলাদেশ চলে যাবে সুপার টেনে।

রাতের ম্যাচ। পরে ব্যাট করার সুবিধা বেশি। টস হারায় সেই সুবিধাটা পায়নি বাংলাদেশ। প্রথমবারে বিশ্বকাপে খেলতে এসে আয়ারল্যান্ডকে হারানো ওমান সেদিক দিয়ে এগিয়ে থাকবে। বাংলাদেশের দরকার ছিল চমৎকার শুরু। তামিম ফর্মে আছেন। কিন্তু একটু সেট হয়ে খেলেন। সৌম্য সরকার চাইছিলেন মারতে। পেসার বিলাল খান ও স্পিনার আমির আলির বিপক্ষে সুবিধা করতে পারেননি। তামিম পঞ্চম ওভারে অজয় লালচেতাকে বাউন্ডারি মেরে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এই ম্যাচে ১১ রান দরকার ছিল তার।
 
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে মাত্র ২৯ রান তোলে বাংলাদেশ। সৌম্যর ব্যাটিং চোখে লাগছিল। শেষ পর্যন্ত দলের ৪২ রানের সময় লালচেতার বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন। ২২ বলে ১২ রান করেছেন সৌম্য।

সাব্বির রহমান ও তামিমের জুটিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সাব্বিরকে শুরু থেকে মারতে হতো। সেটাই করেছেন তিনি। মালিঙ্গা অ্যাকশনের মুনিস আনসারিও হালে পানি পাননি। প্রায় প্রতি ওভারে দশের ওপর রান আসছিল। তাতে প্রথম ৬ ওভারের ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠছিল বাংলাদেশ। তরতরিয়ে ছুটে চলছিল রান। বাউন্ডারি মেরে এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন তামিম। পরের বলেই বোলারের মাথার ওপর দিয়ে মেরেছেন ছক্কা।

ফিফটি পেরোনোর পর বড় শটের দিকে আরো মন দিয়েছেন তামিম। সাব্বির ২৬ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৪৪ রান করে বোল্ড হলেন। তামিমের সাথে তার ৯৭ রানের জুটি হয়েছে ওভার প্রতি ১০.৫৮ রানে।

এরপর আনসারিকে ছক্কা মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তামিম। এতদিন তার অপরাজিত ৮৮ই ছিলো টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। ১৯তম ওভারে ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব নিশ্চিত করলেন তামিম। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হলেন। হলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। বাউন্ডারি মেরে ইতিহাস গড়ে বাতাসে ঘুষি মারলেন তামিম। উদযাপনের সময় বোঝা গেল, ব্যথা পেয়েছেন কিছুটা। ৬০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন তামিম। ১০টি বাউন্ডারি ও ৫টি ছক্কায় সাজানো তা। ৩৫ বলে করেছিলেন ফিফটি। নিশ্ছিদ্র এক চোখ জুড়ানো ইনিংস খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহটাকেও ওমানের নাগালের বাইরে নিয়ে গেলেন বুঝি! 


মন্তব্য