kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশের সামনে ওমান ও বৃষ্টি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মার্চ, ২০১৬ ২০:৫৪



বাংলাদেশের সামনে ওমান ও বৃষ্টি

ধর্মশালায় শনিবারও খুব কেঁদেছে আকাশ। সারাদিন মন খারাপ করা আবহাওয়া।

সূর্যের দেখা নেই। বাংলাদেশ দল অনুশীলন করবে না আগেই ঠিক ছিল। তবে এও ঠিক ছিল যে এই পাহাড়ী শহরের সৌন্দর্য্য অবগাহন করতে ঘুরতে যাবে কোথাও। কিন্তু বৃষ্টির কারণে হোটেল রুমেই বন্দী থাকতে হয়েছে টাইগারদের। সূর্যের দেখা পাওয়া গেছে বিকেলে। রবিবার আইসিসির সহযোগী দেশ ওমানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। জিতলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে। কিন্তু বাংলাদেশ-ওমান ম্যাচকেও হুমকি দিচ্ছে ধর্মশালার বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা আছে। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়।

শনিবার নেদারল্যান্ডস-ওমানের ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। বাদ পড়েছে ডাচরা। রাতে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটা হয়েছে মোটে ৮ ওভার। বাদ পড়েছে আইরিশরা। যে ওমানকে কেউ আগে গোনায় ধরেনি তারাই এখন মূল পর্বে যাবার দাবিদার। রূপকথার গল্প লিখে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা আয়ারল্যান্ডকে বধ করেছে। তাতেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচে তারা মুখোমুখি বাংলাদেশের। আপসেট ঘটিয়ে জিততে পারলে খেলবে বিশ্বকাপের সুপার টেনে। এই প্রথম আরব দেশটি কোনো টেস্ট দলের বিপক্ষে খেলবে। টাইগারদেরও দলটি সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাও নেই। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই দলের ম্যাচটি দেখেছিল তারা।

গ্রুপ থেকে একটি দল যাবে চূড়ান্ত পর্বে। জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে 'বি' গ্রুপ থেকে আফগানিস্তান চলে গেছে। তারা গ্রুপ ওয়ানে। এখন বাংলাদেশের পালা। 'এ' গ্রুপ থেকে তারা সুপার টেনে গেলে খেলবে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সাথে। গ্রুপ টুতে। তবে তার আগে ওমানকে হারাতে হবে।

বৃষ্টিতে ম্যাচটা ভেসে গেলে? তাতে ক্ষতি হবে না মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের। ওমানের মতো তাদেরও ৩ পয়েন্ট। কিন্তু নেট রান রেটে এগিয়ে। বাংলাদেশ যেখানে +০.৪০০, ওমান সেখানে +০.২৮৩। প্রথমবারের মতো কোনো বড় আসর খেলতে আসা ওমানের গল্পটা শেষ হতে পারে এখানেই।

আরাফাত সানি শনিবার অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে গেছেন চেন্নাইয়ে। তাসকিন আহমেদ ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে সেখানে যাবেন সোমবার। এই ম্যাচে তাই বাংলাদেশের একাদশ অপরিবর্তিত থাকার কথা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নাসির হোসেন ও সানির বদলে একাদশে এসেছিলেন মোহাম্মদ মিথুন ও আবু হায়দার রনি। ওমানের একাদশেও পরিবর্তন নাও আসতে পারে। জিশান মাকসুদ ও খাওয়ার আলির ব্যাটে দারুণ শুরু পেতে চাইবে তারা। জাতিন্দর সিং ও আমির আলি দিতে চাইবেন ফিনিশিং টাচ। আর অজয় লালচেতা ও মালিঙ্গা অ্যাকশনের মুনিস আনসারির ওপর নির্ভর করবে বোলিংয়ে।

বাংলাদেশ শনিবার ৮ ওভারের ব্যাটিংয়েই ঝড় তুলেছিল। ২ উইকেটে করেছিল ৯৪ রান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৩ রানের ফর্ম ধরে রেখেছেন তামিম ইকবাল। এই বাঁ হাতি ওপেনারের ২৬ বলে ৪৭ রানের তাণ্ডবে আইরিশরা দিশা হারিয়েছিল। সৌম্য সরকার ২০ রান করেছিলেন। সাব্বির রহমান অপরাজিত ছিলেন ১৩ রানে। ওমানের বিপক্ষে এই তিনের দায়িত্ব থাকবে নিচের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ পড়তে না দেয়া। তবে পরিস্থিতি তেমন হলে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের রানে ফেরার ম্যাচও হতে পারে এটি।

তিন সংস্করণেই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক তামিম। আর ১১ রান করলে হাজার রানের মাইলফলক ছোঁবেন। সাকিবের ৫০ উইকেট ও হাজার রানের 'ডাবল' ক্লাবে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ঢুকতে দরকার আর ২১ রান। বাংলাদেশ পেস আক্রমণের ওপর নির্ভর করছে সাম্প্রতিক সময়ে। তবে সানি ও নাসির না থাকায় অধিনায়ক মাশরাফিকে প্রয়োজনে সাকিবের পাশাপাশি মাহমুদ উল্লাহর দিকে হাত বাড়াতে হবে।

কিন্তু সব কথার বড় কথা ম্যাচ হবে তো? বৃষ্টি সেই অনুমতি দেবে তো? মাশরাফি চাইছেন, ম্যাচটা হোক। ওমানকে হাল্কা ভাবে নিচ্ছেন না। খেলার প্রয়োজনটা তো আছেই। ধর্মশালার আকাশ এবার একটু সদয় হলেই হয়।     


মন্তব্য