ধর্মশালায় বৃষ্টির জয়, বাংলাদেশের-334861 | খেলাধুলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


ধর্মশালায় বৃষ্টির জয়, বাংলাদেশের খেলা পণ্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ মার্চ, ২০১৬ ২৩:০৫



ধর্মশালায় বৃষ্টির জয়, বাংলাদেশের খেলা পণ্ড

ধর্মশালায় কার্টল ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশের বিস্ফোরক ব্যাটিং আয়ারল্যান্ড থামাতে পারেনি। থামিয়েছিল বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির কারণেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটা পরিত্যক্ত হলো। 'এ' গ্রুপ থেকে নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড বাদ পড়ে গেলো। তাদের আর সুপার টেন বা মূল পর্বে খেলার সুযোগ থাকলো না। ১৩ মার্চ একই ভেন্যুতে ওমানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশ চলে যাবে সুপার টেনে। আর হারলে ওমান। বৃষ্টিতে সেদিনও খেলা পরিত্যক্ত হলে বাংলাদেশই রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে খেলবে সুপার টেনে।

এদিন ধর্মশালায় দিনের প্রথম ম্যাচ ছিল ওমান ও নেদারল্যান্ডসের। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে তা। এই বৃষ্টি সন্ধার পর থামলো। ১২ ওভার করে খেলার সিদ্ধান্ত হলো। এরপর টি-টোয়েন্টিতে বিস্ফোরক শুরু বলতে যা বোঝায় তাই পেয়েছিল বাংলাদেশ। আইরিশরা তাদের ঠেকাতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি এসে থামায় টাইগারদের! ৮ ওভারে ২ উইকেটে টাইগাররা করেছিল ৯৪ রান। ১২ ওভারে নির্ধারিত ওই ম্যাচের তখনো ৪ ওভার বাকি। ২৬ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৭ রান করে মাত্রই ফিরেছেন তামিম ইকবাল। ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির রহমান। ১৩ বলে ২০ রান করে আগেই আউট হয়েছেন সৌম্য সরকার। এই সময় বৃষ্টির কারণে বন্ধ হলো খেলা। পরে আর শুরু হয়নি। জিতে গেছে বৃষ্টি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল টাইগাররা। ২০ ওভারের ম্যাচে সাধারণত ১০ ওভারে ৭০-৮০ এর ঘরে থাকে বাংলাদেশ। সেই হিসেবে আইরিশদের বিপক্ষে শুরুটা বিস্ফোরক বটে। পাওয়ার প্লের চার ওভারে তামিম-সৌম্যর ঝড়ে এলো ৫২ রান। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে সৌম্য স্টাম্পিংয়ের শিকার হওয়ার সময় দলের রান ৬১। পরের ওভারে তামিমেরও একই ভাগ্য বরণ করার কথা। নেমে খেলে বল মিস করেছিলেন। উইকেটকিপার নিয়াল ও'ব্রায়েন মিস করেছেন স্টাম্পিং।
 
তামিম তার আগের ম্যাচের অপরাজিত ৮৩ রানের আত্মবিশ্বাস নিয়েই খেলা শুরু করেছেন। প্রথম ওভারে দলের ৪ রান কপাল কুঁচকে দিয়েছিল অনেকের। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে তামিম রুদ্রমূর্তীতে। বয়েড র‌্যানকিনকে একটি করে ছক্কা ও চার মারলেন। পরের ওভারে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকেও একটি ছক্কা মারার পর বাউন্ডারি হাঁকালেন। দুই ওভারে ১৬+১৩=২৯ রান! সৌম্য চুপ থাকলেন না। চতুর্থ ওভারে কেভিন ও'ব্রায়েনকে তিনটি বাউন্ডারি মেরে দিলেন। নিজের প্রথম বলে লাইফ পেয়েছিলেন। আরো একটি পেলেন। এই ওভারে ১৯ রান!

দুই প্রান্তে স্পিন দিয়ে রানের গতি সামলাতে চেষ্টা করেছে আইরিশরা। তামিম তবু ছুটছিলেন। আরো দুটি ছক্কা মারলেন। একটি বাঁ হাতি স্পিনার জর্জ ডকরেলকেও। অষ্টম ওভারের শেষ বলটিতে ডকরেলকে তুলে মারতে চেয়েছিলেন। ক্যাচ হয়ে ফেরার সময় ২৬ বলে ৪৭ রান তার। একটুর জন্য টানা দুই ম্যাচে ফিফটি হলো না তামিমের। কিন্তু ৮ ওভারে দলের ৯৪ রান তোলায় তিনিই রেখেছেন প্রধান ভূমিকা। তামিমের বিদায়ের আগে বৃষ্টি হানা দিয়েছিল। তিনিও ফিরছেন, মাঠ কর্মীরাও কাভার নিয়ে ঢুকলেন ভেতরে। আবার ঢাকা পড়তে থাকলো মাঠ। সারাদিনটাই যেমন ঢাকা ছিল। টি-টোয়েন্টিতেও এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তামিমের (৯৮৯)। তিনি এদিন ছাড়িয়ে গেছেন বন্ধু সাকিব আল হাসানকে (৯৭৯)। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক তামিম। ম্যাচে কেউ না জিতলেও জিতেছেন তামিম!

মন্তব্য