স্নায়ু চাপের জয় দিয়েই শুরু টাইগারদের -334047 | খেলাধুলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই

স্নায়ু চাপের জয় দিয়েই শুরু টাইগারদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০৬



স্নায়ু চাপের জয় দিয়েই শুরু টাইগারদের

ধর্মশালায় বাংলাদেশের রানটা একটু কমই হয়ে গিয়েছিল! টাইগারদের স্নায়ুর ওপর দিয়ে তাই বেশ চাপ গেলো। শেষ পর্যন্ত মাশরাফি বিন মর্তুজার দল জয় দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই শুরু করলো। 'এ' গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৮ রানে হারালো তারা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান করেছিল টাইগাররা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ তামিম ইকবালের অপরাজিত ৮৩ রানে গড়া এই ইনিংস। চার বছর পর টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি পেয়েছেন তামিম। মাঝে ডাচদের ভয় ধরানো সময়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। ডাচদের ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৫ রানে রুখে দেয়া গেছে।

বাংলাদেশের বোলাররা দারুণ ফর্মে আছেন। বিশেষ করে পেস আক্রমণ। এশিয়া কাপ প্রমাণ। আর আল আমিন হোসেন এদিনও বরাবরের মতো ব্রেক থ্রু এনে দিলেন। ওয়েসলি বারেসি (৯) ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন পঞ্চম ওভারে। পিটার মাইবার্গ চোখ রাঙ্গাচ্ছিলেন। নবম ওভারে মাইবার্গকে (২৯) তুলে নিয়েছেন নাসির হোসেন। বেন কুপার ও অধিনায়ক পিটার বোরেন ২৪ রানের জুটি গড়েছেন। ১২তম ওভারে সাকিব আল হাসান বেন কুপারকে (২০) তুলে নিয়েছেন।

মাশরাফি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে নেদারল্যান্ডের সামনে পাহাড় হলেন। তারপরও ডাচরা সঠিক পথেই ছিল। চোখ রাঙ্গাচ্ছিল। ১৬তম ওভারে সাকিবের বলে নাসির বাউন্ডারি লাইনে বোরেনকে জীবন দিলেন। পরের বলেই অবশ্য বোরেনের (২৯) ক্যাচ নিয়েছেন নাসির। এই সময় দুই ওভারে ২২ রান দিয়ে হতাশ হয়েছেন সাকিব। তবে অষ্টম থেকে ১৭তম ওভার পর্যন্ত চার ওভার বল করেছেন মাশরাফি। ডাচদের রানের গতি আটকেছেন সাফল্যের সাথে।
 
শেষ ২৪ বলে জিততে ৪২ রান করতে হয় ডাচদের। যে কোনো দল জিততে পারে। ১৭তম ওভারটি ছিল মাশরাফির শেষ ওভার। ফন ডার মারউইকে (১) তুলে নিয়ে চাপটা আরো বাড়ালেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিলেন মাশরাফি। বিপজ্জনক টম কুপার ছিলেন। ১৮তম ওভারে তাকে ফেরালেন আল আমিন। কিন্তু ডাচদের ধোনি মুদাসসার বুখারি একটি চার ও ছক্কা মারলেন। ওই ওভারে এলো ১৬ রান। তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে ১৭ রান দরকার ডাচদের। বুখারি (১৪) রান আউট দ্বিতীয় বলে। রূপকথার গল্পটা আর লেখা হয়নি নেদারল্যান্ডসের। ৪ ওভারে ২২ রান দিয়েছেন তাসকিন। আল আমিন ৩ ওভারে ২৪ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। সাকিবও নিয়েছেন ২ উইকেট। দিয়েছেন ২৮ রান।  

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করা বাংলাদেশের ইনিংসটি আসলে তামিমময়। দলের ৫৪.২৫ শতাংশ রান করেছেন। ৫৮ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর এটি। সর্বোচ্চটি তামিমেরই অপরাজিত ৮৮। সেটি তার শেষ ফিফটি। এদিন শুরুতে তামিম হারিয়েছেন সঙ্গী সৌম্য সরকারকে (১৫)। সাব্বির রহমানের সাথে হয়েছিল ৪২ রানের জুটি। সাব্বিরও ব্যক্তিগত ১৫ রানে ফিরেছেন। তবে পুরো ইনিংসে দারুণ খেলেছেন তামিম। সিঙ্গেলস-ডাবলসে বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা। এই ম্যাচে রানিং বিটুইন দ্য উইকেট হয়েছে ভালো। বিশ্বের অন্যতম সেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান (৫) এদিনও কিছু করতে পারলেন না।

এক প্রান্তে তামিম দেখেছেন উইকেটের পতন। তাতে তার ছন্দে কিছুটা পতন তো হয়েছেই। কিন্তু চার ছক্কাগুলো মেরেছেন ডাচ বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়েই। ৩৬ বলে ৫০ করেছেন। শেষবার তামিম ফিফটি করেছিলেন ২০১২ সালে, ঢাকায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। মাঝে ২২ ইনিংসে একটিও ফিফটির দেখা পাননি দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক!

বাংলাদেশ বড় হোচট খেয়েছে ১৫তম ওভারে। ১৪ ওভার শেষ। বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ১০৯। তামিম ৬০ ও মাহমুদ উল্লাহ ৯ রানে ব্যাট করছেন। বাকি ৬ ওভারে নেদারল্যান্ডসের নাগালের বাইরে স্কোরটাকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ। কিন্তু পেসার ফন ডার গাগটেন ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করে দিলেন দারুণ ফর্মে থাকা মাহমুদ উল্লাহকে (১০)। পঞ্চম বলে নতুন ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমও (০) বোল্ড! চার ইনিংস পর আউট হলেন মাহমুদ উল্লাহ। মুশফিকের দুর্দশা চলছেই। আর এখানেই বিপদে বাংলাদেশ।

নাসির হোসেন নভেম্বরের পর আবার সুযোগ পেলেন নিজেকে প্রমাণের। কিন্তু প্রমাণ করতে পারলেন কই! পেসার ফন মিকেরেনের বলে চমকে উঠে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন নাসির (৩)। ১৮ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৯ রান। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এসে একটি ছক্কা হাকিয়ে বিদায় নিলেন ব্যক্তিগত ৭ রানে। শেষ ওভারের প্রথম বলে তামিম বল পাঠালেন গ্যালারিতে। পরের বলে ১ রান। দুই বল ডট। আরাফাত সানি মারলেন ছক্কা! পেরুলো ১৫০। শেষ ওভারে ১৫ রান। ব্যাটসম্যানরা একটু কম রান করলেও বোলাররা ঠিকই জয় এনে দিয়েছেন দলকে। তবে এই জয়ের মাঝে থাকলো পরের ম্যাচে আরো রান করার বার্তা।

মন্তব্য