kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবারও টাইগারদের স্বপ্নভঙ্গ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:২০



আবারও টাইগারদের স্বপ্নভঙ্গ

৪ বছর আগে কান্নায় ভেসেছিল গোটা জাতি। সেবার এশিয়া কাপের শিরোপাটা ২ রানের জন্য জেতা হয়নি।

আবেগী এই জাতি রবিবার তাকিয়ে ছিল মিরপুরে। দ্বিতীয় চেষ্টায় এশিয়ার সেরা হওয়ার স্বপ্নটা বাধ ভেঙ্গেছিল। কিন্তু স্বপ্নের শিরোপাটা ধরা দিলো না এবারও। সেবারের মতো কান্না হয়তো সঙ্গী হয়নি। কিন্তু হতাশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ক্রিকেট পাগল একটি দেশ। ঝড়-বৃষ্টিতে ১৫ ওভারে নেমে যাওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারালো ভারত। এই মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করলো তারা।

মাহমুদ উল্লাহর জন্য ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনাল ছিল কান্নাভেজা। সেবার অপরাজিত ছিলেন। এবারও অপরাজিত। কিন্তু বিস্ফোরক এবারের ইনিংসে দলকে জেতাতে না পারার হতাশা হলো সঙ্গী। সাব্বির রহমানও ইনিংস গড়েছিলেন চাপের মুখে। হতাশা তারও। হতাশা সবার। ভারতের দুটি ওভারে ৩৫ রান নিয়ে বাংলাদেশ লড়ার মতো পুঁজি পেয়েছিল। ৫ উইকেটে করেছিল ১২০ রান। বাংলাদেশের কাছ থেকেও তেমন দুটি ওভারে ম্যাচ জয়ের ভিত্তি গড়েছে ভারত। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক এমএস ধোনি গুড়িয়ে দিয়েছেন টাইগারদের শেষ আশা। ৭ বল হাতে রেখে জিতেছে তার দল। ষষ্ঠবারের মতো এশিয়ার সেরা তারা।

১৮ বলে ২৪ রান দরকার ভারতের। এমন সময় আক্রমণে এসে আশাটা নতুন করে জাগিয়ে তুললেন তাসকিন আহমেদ। সৌম্য সরকার পয়েন্টে চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচ নিলেন। ম্যাচের সেরা শিখর ধাওয়ান ৪৪ বলে ৬০ রান করে আউট। এই ওভারে আসে ৫ রান। কিন্তু ফিনিশার এমএস ধোনি ব্যাট হাতে নেমে পড়েন। আল আমিনকে প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে চাপটা নামিয়ে ফেলেন। চতুর্থ বলে আরেকটি চার ধোনির। পঞ্চম বলে ছক্কা! ২০ রান এই ওভারে। খেলা শেষ। বিরাট কোহলি ২৮ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত। ধোনি ৬ বলে ২০ রানে অপরাজিত। বাংলাদেশ পরাজিত। স্বপ্নভঙ্গ তাদের।

১২১ রানের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই ছিল। আল-আমিন হোসেন এদিনও নিজের প্রথম ওভারে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন। দলের ৫ রানের সময়ই রোহিত শর্মা (১) ফিরেছেন। কিন্তু দুটি ওভার চাপ থেকে বের করে আনলো ভারতকে। আবু হায়দার রনির পঞ্চম ও সাকিব আল হাসানের ষষ্ঠ ওভার। কোহলি ও শিখর ধাওয়ান মিলে এই দুই ওভার থেকে নিলেন ২৯ রান। চার পেসার খেলাতে বাজি ধরা হয়েছিল রনির ওপর। প্রথম ম্যাচ খেললেন ফাইনালে। তিনি ১৪ রান দেয়ার পর পরীক্ষীত সাকিব দিলেন ১৫ রান। কোহলির কিছুক্ষণ টিকে যাওয়া মানে বিপদ। সেটাই হয়েছে। ধাওয়ানও ফর্ম পেয়েছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ধাওয়ান।

২৫ হাজার বাঘা দর্শকের গ্যালারি ধীরে ধীরে নীরব হতে থাকে। ধাওয়ান তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিফটিটা তুলে নেন। ৩০ বলে দরকার ৫০। সাকিব আবার ১১ রান দিলেন। নাসির ১৫। এই ২৬ রানে টাইগারদের ফেরার পথ রুদ্ধ। ৯৪ রানের জুটি ভেঙ্গেছে। ধাওয়ান ফিরেছেন। তবু শেষ ৩ ওভারে ২৪ রান আর কঠিন কি! সেটা তো ধোনির ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে পানির মতো সহজই হয়ে গেলো।   
\"\"
এর আগে টস হারা বাংলাদেশ খুব সংশয়ে পড়ে গিয়েছিল। ১০০ হবে তো! ১১ ওভারে ৩ উইকেটে রান ৭১। পরের ওভারে দুই উইকেট নেই। এলো ৭ রান। কিন্তু মাহমুদ উল্লাহ এসে যে বিস্ফোরণের জন্ম দিলেন তাতে বদলে গেলো অনেক কিছু। আশিস নেহরার করা ইনিংসের ১৩তম ওভারে এলো ১৪ রান। আর তার পরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়াকে তো দুইবার উড়িয়ে সীমানার ওপারে পাঠালেন মাহমুদ উল্লা। এই ওভারে ২টি ছক্কার সাথে একটি চারও মারলেন। নিজে নিলেন ১৯ রান। আর ওভারটিতে এলো ২১ রান। ১৩ ও ১৪তম ওভারের এই ৩৫ রানে লড়ার মতো অক্সিজেন পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে জসপ্রিত বুমরাহ ৭ রান দিয়ে আটকে দিয়েছেন। নইলে আগ্রাসী মাহমুদ উল্লাহ ও ইনফর্ম সাব্বির রহমান সংগ্রহটাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারতেন।

মাহমুদ উল্লাহ কি করলেন! সাব্বিরের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ইনিংসের সেরা ৪৫ রানের জুটি গড়েছেন। মাত্র ৩.২ ওভারে আয়ু এই জুটির। ওভার প্রতি সাড়ে তেরো রান এসেছে। মাহমুদ উল্লাহ সংহারী মূর্তীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ১৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ রানে অপরাজিত তিনি। আড়াইশোর ওপর তার স্ট্রাইক রেট।

চতুর্থ ওভারে ক্রিজে পা রাখা সাব্বির তো দারুণ ফর্মেই আছেন। ২৯ বলে ৩২ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে ফিরেছেন। হার মানেননি। আছে তৃতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসানের (২১) সাথে ৩৪ রানের জুটিও। ১৬ বলে খেলা সাকিবের ইনিংসটাতে ছিল আগ্রাসণ। কিন্তু সম্পূর্ণতা পাননি। সাব্বির টিকে থেকে যা করছেন, তা দরকার ছিল এক প্রান্তে। ইনিংস গড়তে কাজে এসেছে যা। সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবালের উদ্বোধনী জুটিটা আশা জাগানোর মতোই ছিল। ২৭ রান এসেছিল। কিন্তু পরপর দুই ওভারে ফিরে গেছেন তারা। সৌম্য ১৪ ও তামিম ১৩ রান দিয়েছেন দলকে।

সাকিবকে হারানোর ১১ রান পর দুটি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম (৪) দ্বিতীয় রানের জন্য ডাইভ দিয়েও রান আউট। মাহমুদ উল্লাহর আগে নেমেছিলেন মারতে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সেটা করতে গিয়ে প্রথম বলেই আউট। এমন সময়ে বাংলাদেশের শতরান হওয়া নিয়ে জাগা শঙ্কা পরে মাহমুদ উল্লার ব্যাটে পেয়েছে লড়ার মতো পুঁজি। কিন্তু ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং সেটাকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে দাঁড়াতে দেয়নি।  


মন্তব্য