kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কোহলি ও ধাওয়ান ছিনিয়ে নিচ্ছেন স্বপ্ন!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৪৬



কোহলি ও ধাওয়ান ছিনিয়ে নিচ্ছেন স্বপ্ন!

মাহমুদ উল্লাহ ও সাব্বির রহমান ভারতের শেষ দিকের দুটি ওভার থেকে নিয়েছিলেন ৩৫ রান। এরকম দুটি বাজে ওভার এলো বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝামাঝিতে।

দিতে হলো ২৯ রান। এশিয়া কাপের শিরোপা থেকে বাংলাদেশের মুঠি আলগা হতে শুরু করলো। ৩০ বলে আর ৫০ রান লাগবে ভারতের চ্যাম্পিয়ন হতে। ১০ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৭১ রান তাদের। শিখর ধাওয়ান ৪৩ ও বিরাট কোহলি ২৭ রানে ব্যাট করছেন। এর আগে মাহমুদ উল্লাহ (১৩ বলে ৩৩) ও সাব্বিরের (২৯ বলে ৩২) ৫ উইকেটে ১২০ রান করে বাংলাদেশ।

মিরপুরে ১২০ রান ধরে রাখতে হবে। বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই ছিল। আল-আমিন হোসেন যা করেন তাই করলেন এদিনও। ব্রেক থ্রু এনে দিলেন নিজের প্রথম ওভারেই। দলের ৫ রানের সময়ই রোহিত শর্মা (১) ফিরেছেন। কিন্তু দুটি ওভার চাপ থেকে বের করে আনলো ভারতকে। আবু হায়দার রনির পঞ্চম ও সাকিব আল হাসানের ষষ্ঠ ওভার। বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান মিলে এই দুই ওভার থেকে নিলেন ২৯ রান। চার পেসার খেলাতে বাজি ধরা হয়েছিল রনির ওপর। প্রথম ম্যাচ খেললেন ফাইনালে। তিনি ১৪ রান দেয়ার পর পরীক্ষীত সাকিব দিলেন ১৫ রান।
কোহলির কিছুক্ষণ টিকে যাওয়া মানে বিপদ। সেটাই হয়েছে। ধাওয়ানও ফর্ম পেয়েছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ধাওয়ান।  

এর আগে টস হারা বাংলাদেশ খুব সংশয়ে পড়ে গিয়েছিল। ১০০ হবে তো! ১১ ওভারে ৩ উইকেটে রান ৭১। পরের ওভারে দুই উইকেট নেই। এলো ৭ রান। কিন্তু মাহমুদ উল্লাহ এসে যে বিস্ফোরণের জন্ম দিলেন তাতে বদলে গেলো অনেক কিছু। আশিস নেহরার করা ইনিংসের ১৩তম ওভারে এলো ১৪ রান। আর তার পরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়াকে তো দুইবার উড়িয়ে সীমানার ওপারে পাঠালেন মাহমুদ উল্লা। এই ওভারে ২টি ছক্কার সাথে একটি চারও মারলেন। নিজে নিলেন ১৯ রান। আর ওভারটিতে এলো ২১ রান। ১৩ ও ১৪তম ওভারের এই ৩৫ রানে লড়ার মতো অক্সিজেন পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে জসপ্রিত বুমরাহ ৭ রান দিয়ে আটকে দিয়েছেন। নইলে আগ্রাসী মাহমুদ উল্লাহ ও ইন ফর্ম সাব্বির রহমান সংগ্রহটাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারতেন।

মাহমুদ উল্লাহর কি করলেন? সাব্বিরের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ইনিংসের সেরা ৪৫ রানের জুটি গড়েছেন। মাত্র ৩.২ ওভারে আয়ু এই জুটির। ওভার প্রতি সাড়ে তেরো রান এসেছে। মাহমুদ উল্লাহ সংহারী মূর্তীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ১৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ রানে অপরাজিত তিনি। আড়াইশোর ওপর তার স্ট্রাইক রেট।

চতুর্থ ওভারে ক্রিজে পা রাখা সাব্বির তো দারুণ ফর্মেই আছেন। ২৯ বলে ৩২ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে ফিরেছেন। হার মানেননি। আছে তৃতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসানের (২১) সাথে ৩৪ রানের জুটিও। ১৬ বলে খেলা সাকিবের ইনিংসটাতে ছিল আগ্রাসণ। কিন্তু সম্পূর্ণতা পাননি। সাব্বির টিকে থেকে যা করছেন, তা দরকার ছিল এক প্রান্তে। ইনিংস গড়তে কাজে এসেছে যা। সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবালের উদ্বোধনী জুটিটা আশা জাগানোর মতোই ছিল। ২৭ রান এসেছিল। কিন্তু পরপর দুই ওভারে ফিরে গেছেন তারা। সৌম্য ১৪ ও তামিম ১৩ রান দিয়েছেন দলকে।

সাকিবকে হারানোর ১১ রান পর দুটি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম (৪) দ্বিতীয় রানের জন্য ডাইভ দিয়েও রান আউট। মাহমুদ উল্লাহর আগে নেমেছিলেন মারতে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সেটা করতে গিয়ে প্রথম বলেই আউট। এমন সময়ে বাংলাদেশের শতরান হওয়া নিয়ে জাগা শঙ্কা পরে মাহমুদ উল্লার ব্যাটে পেয়েছে লড়ার মতো পুঁজি।  


মন্তব্য