kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এবার লড়াইটা টাইগার বোলারদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৬ ২২:৫১



এবার লড়াইটা টাইগার বোলারদের

ব্যাটসম্যানরা তাদের কাজ করলেন। ১৫ ওভারের এমন পরিস্থিতিতে কি করতে হয় তা ছিল অজানা।

তারপরও টস হেরে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লড়ার মতো একটা স্কোর পেয়েছে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ১২০ রান করেছে টাইগার ব্যাটসম্যানরা। সাব্বির রহমানের অপরাজিত ৩১, মাহমুদ উল্লাহর ঝড়ো হার না মানা ৩৩ এই সংগ্রহে রেখেছে বড় ভূমিকা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এখন লড়াইটা বাংলাদেশের বোলারদের। শিরোপা বাংলাদেশের হাতে উঠবে, নাকি এবারো এশিয়া কাপের অপর নাম কান্নাই থেকে যাবে তা ঠিক হবে বোলারদের পারফরম্যান্সে। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের সামনে কঠিন পরীক্ষায় তারা।

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অফ স্পিনে আক্রমণ শুরু করেন ভারত অধিনায়ক। এরপর আনেন আশিস নেহরা ও জসপ্রিত বুমরাহকে। চতুর্থ ওভারে নেহরা তিনটি বাউন্ডারির শিকার। একটি তামিমের। দুইটি সৌম্যের। কিন্তু ওভারের শেষ বলে নেহরা তুলে নেন সৌম্যকে (১৪)। এই ওভারে এসেছে ১৩ রান। বুমরাহকে খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। পঞ্চম ওভারে তামিম (১৩) বুমরাহর বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন।

১৫ ওভারের খেলা বলে প্রতিটি রান হিরে মানিক্যের মতোন। সাব্বির রহামন ও সাকিব আল হাসান মারার সিদ্ধান্ত নিতেও সময় নেননি। স্ট্রাইকও রোটেট করেছেন শুরু থেকে। দুজন ইম্প্রোভাইজও করছিলেন। সপ্তম ও অষ্টম ওভারটা বেশ ভারো গেলো। ১২ ও ১১ রান। হার্দিক পান্ডিয়াকে এক ওভারে দুটি বাউন্ডারি মারলেন সাকিব।

ম্যাচের প্রথম ওভার করা অশ্বিন দশম ওভারে ফিরেছেন। এবং তার প্রথম বলে সুইপ করেছিলেন সাকিব। ঠিক মতো হয়নি। শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ নিয়েছেন বুমরাহ। সাব্বিরের সাথে ৩৪ রানের জুটি ভাংলো। ১ হাজার রান ও ৫০ উইকেটের ডাবলের মাইলফলক এই ম্যাচে স্পর্শ করতে পারলেন না সাকিব। ৪৭ রান দরকার ছিল। ১৬ বলে ২১ রান করে ফিরেছেন সাকিব। দল তৃতীয় উইকেট হারিয়েছে ৬৪ রানের সময়।

৯, ১০ ও ১১ ওভারে মাত্র ১৩ রান আসলো পিছিয়ে পড়লো বাংলাদেশ। ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭১ রান। ১২তম ওভারে দুই উইকেট হারালে টাইগারদের ভালো একটি সংগ্রহ পাওয়ার আশা শেষই হয়ে যায়। দ্বিতীয় রানের জন্য ডাইভ দিয়েও মুশফিকুর রহিম (৪) নিজেকে বাঁচাতে পারেননি। মাহমুদ উল্লাহর আগে এসেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। মারতে হবে। এবং প্রথম বলে মেরেই ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। পরিস্থিতি এমনই ছিল।

সাব্বির ও মাহমুদ উল্লাহ ক্রিজে। তাদের ওপরই নির্ভর করে তখন লড়ার জন্য কতো রান পাবে বাংলাদেশ। চার ওভার পর একটি চার এলো। নেহরাকে স্কুপ করে মেরেছেন সাব্বির। ড্রাইবে এক চার মাহমুদ উল্লাহর। এই ওভারের ১৪ রান অক্সিজেন এনে দিলো।

এরপর পান্ডিয়ার ওপর চড়াও হলেন মাহমুদ উল্লা। দানবীয় ব্যাটিং করছিলেন তিনি। গ্যালারিতে তখন বিস্ফোরণ। প্রথম চার বলে মাহমুদ উল্লার ৪+৬+২+৬ ১৮ রান। একটি ওয়াইডের পর নিয়েছেন সিঙ্গেল। ইনিংসের সেরা এই ওভারে এলো ২১ রান। শেষ ওভারে বুমরাহ ৭ রান দিয়ে ঝড় থামিয়েছেন। মাহমুদ উর্লা ১৩ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ রান করেছেন। সাব্বিরের ৩১ রান এসেছে ২৮ বলে। ছিল দুটি চারের মার।      

রাত ৯টা ১০ মিনিটে হলো টস। খেলা শুরু হয়েছে রাত সাড়ে নয়টায়। সন্ধার ঝড়-বৃষ্টিতে যে খেলা পণ্ড হবে বলেই মনে হচ্ছিলো। মাঠের নিস্কাশন ব্যবস্থা দারুণ বলে ১৫ ওভারের খেলা হচ্ছে। এই ম্যাচে চার পেসার নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। বাঁ হাতি পেসার আবু হায়দার রনিকে নেয়া হয়েছে আরাফাত সানির জায়গায়। দীর্ঘদিন পর নাসির হোসেন ফিরেছেন। শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন গত বছরের নভেম্বরে। ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। নাসির একাদশে ঢোকায় বাদ পড়েছেন মোহাম্মদ মিথুন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলানো একাদশ খেলাচ্ছে ভারত। ফিরেছেন আশিস নেহরা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবিন্দ্র জাদেজা।


মন্তব্য