kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবেগী এক ফাইনালের প্রতীক্ষায় সবাই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৪৮



আবেগী এক ফাইনালের প্রতীক্ষায় সবাই

নতুন এক ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে টাইগাররা। আর আবেগী এই জাতি প্রার্থনায়।

দরজাটা ভেঙ্গে যেন ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে ১১টি দামাল ছেলে। নতুন ইতিহাস গড়ে ক্রিকেট পাগল দেশ মেতে উঠতে পারে উৎসবে। কান পাতুন। চার পাশেই এই একই রব শুনতে পাবেন। ২০১২ সালে পাকিস্তানের জন্য স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। ফাইনালে সেই ২ রানের কান্নার শোধ এই এশিয়া কাপে নেয়া গেছে। দ্বিতীয়বার আর কান্না দেখতেও চায় না, কাঁদতেও চায় না কেউ। হবে কি প্রথম কোনো বড় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ? একটি জাতির স্বপ্নের ব্যাটন হাতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার দল।

ভারত টি-টোয়েন্টির সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। টি-টোয়েন্টিতে বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর দল। তারা শক্তি-সামর্থ্যে-ইতিহাসে অনেক এগিয়ে। এর আগের তিন ২০ ওভারের খেলায় একবারও হারানো যায়নি তাদের। কিন্তু মাশরাফির দলটি যে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো দলকে হারিয়ে ফাইনালে। এবং প্রত্যেকটি ম্যাচ স্নায়ুর চাপ সয়ে জেতা। টাইগাররা এর মধ্যে তো ইস্পাত কঠিন মানসিকতায় মন জিতেছে দূর বিশ্বের ক্রিকেট ভক্তদেরও। রবিবার কেন পারবে না! মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রতিটি ইট-পাথরও যে জেগে উঠবে মাশরাফিদের সমর্থনে। সারা দেশে টেলিভিশন থেকে চোখ সরবে না কারো।

ভারতীয়দের খুব অন্যরকম একটি অভিজ্ঞতা আবারো হবে। বিশ্বের যে প্রান্তেই খেলতে যায় না কেন তারা, মাঠে বড় রকমের সমর্থনই পায়। ভারতীয়রা যে বিশ্বের সব জায়গায় ছড়িয়ে। কিন্তু মিরপুরের ফাইনালে ২৫ হাজার দর্শক-সমর্থক শুধু একটি দলের জন্যই গলা ফাটাবে। এমএস ধোনিদের জন্য শিরোপার লড়াইটা তাই একেবারেই বিরুদ্ধ পরিবেশে। মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের জন্য এটাও যে অনেক বড় প্রেরণা।

গত বছর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই আবিস্কার করা গেছে মুস্তাফিজুর রহমানকে। তার অভাবটা ফাইনালেও বুঝবে বাংলাদেশ। কিন্তু কিছুদিন আগেও যে দলের মূল শক্তি ছিল স্পিন, তারা এখন পেস নির্ভর দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন পেসার খেলালেও আবার চার পেসারে ফেরার সম্ভাবনা ফাইনালে থাকছেই। রণ কৌশলে আরো পরিবর্তনও আসতে পারে। মোহাম্মদ মিথুনের জায়গা কি নুরুল হাসান নেবেন? এসব প্রশ্নের জবাব মিলবে মাঠে।

মাঠই তো লড়াইয়ের মঞ্চ। ওয়ানডেতে ৫টি বার ভারতকে হারানো গেছে। একটি আছে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয়া ম্যাচও। টি-টোয়েন্টিতে কেবলই শক্তির পরিচয় দিতে শুরু করা বাংলাদেশ ফাইনালে ভারতকে ফেভারিট মানছে। কিন্তু জানে, নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে টি-টোয়েন্টি বিশ্ব আসরের আগেই নতুন কাব্য লেখা সম্ভব। এটা সুযোগ। এমন সুযোগ ফস্কে যাক, তা চাইছে না টাইগাররা। মাঠে প্রতিপক্ষের ওপর তাই ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষা এখন।

মিরপুরে টিকিট নিয়ে শনিবার কি কাণ্ডটাই না হলো। মাশরাফিরা নিশ্চয়ই জানেন। একটি টিকিটের জন্য পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস, রবার বুলেটও সই। তবু টিকিট পাওয়া চাই। খেলা দেখা চাই। বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণশক্তি তো এই উন্মাদনায় ভরা সমর্থকরাই। তাদের হাতে প্রথমবারের মতো এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা তুলে দেয়ার পণটাও দলের মাঝে আছে। তবে সবশেষে এটা তো একটা খেলা। টি-টোয়েন্টি যে দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সেই তারাই লড়ছে এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শেষ লড়াই। চ্যাম্পিয়ন হলে তো খুব ভালো। কিন্তু না হলে? নতুন দিনের সূর্য তো তাতে অস্ত যাবে না মোটে!


মন্তব্য