kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সমর্থকদের কিছু ফেরত দিতে চান মাশরাফি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৮:০৬



সমর্থকদের কিছু ফেরত দিতে চান মাশরাফি

মিরপুর ১০ নম্বরে কি কাণ্ডটাই না হলো! শনিবার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সামনে শত শত ক্রিকেটপাগল দর্শক ছিলেন অপেক্ষায়। একটি টিকিট চাই ফাইনালের।

ভারতের বিপক্ষে রবিবার টাইগারদের এশিয়া কাপের ফাইনালের টিকিট। সেখানে বিশৃঙ্খলা। টিকিট প্রত্যাশী সমর্থকদের সাথে পুলিশের মারপিট। পুলিশের হাতে লাঠি আছে। রাবার বুলেট আছে। কাঁদুনে গ্যাস আছে। ব্যাংকে ঢিল ছোড়া, ভাঙচুর করা টিকিট প্রত্যাশীদের ওপর সবই ব্যবহার করেছে পুলিশ। চার ঘণ্টা পর ফের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
 
এই হলো এই দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ। লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, কাঁদুনে গ্যাসের শিকার হয়েও আবার ফিরে আসে। কারণ, মাঠে বসে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য টাইগারদের লড়তে দেখতে চায়। গলা ফাটিয়ে সমর্থন দিতে চায়। বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি দল ভারতের বিপক্ষে জয়ে শিরোপা উল্লাসে মাততে চায়। এমন দর্শক কোন দেশে আছে!

বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার পেছনেও ছিল এই দর্শকদের ভূমিকা। আইসিসি জেনেছিল, এই ছোট্টো দেশটির কোটি কোটি জনতা ক্রিকেটের জন্য পাগল। এখানে ক্রিকেটের প্রসার সম্ভব। এখানে ক্রিকেটের বাণিজ্য সম্ভব। বছরের পর বছর প্রিয় স্বদেশের হার দেখার যন্ত্রণা নিয়ে মাঠ ছাড়লেও এই দেশের মানুষ স্টেডিয়াম বা খেলাবিমুখ হয়নি। মিরপুরে আরো একবার প্রমাণিত তা।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও এই সমর্থকদের অনুপ্রেরণার অন্যতম কারণ মানেন। এটাই শক্তি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দর্শকরা দিনের পর দিন হার নিয়ে ফিরেছে। তাদের কাছে জাতীয় দলের অনেক দেনা। সাম্প্রতিক সাফল্যটা মাশরাফির চোখে সেই দেনা শোধের মতোই।

শনিবার মিরপুরে মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবে এলো দর্শক-সমর্থক প্রসঙ্গ। ফাইনালের আগের শেষ সম্মেলনে সমর্থকদের কিছু দেওয়ার তাগিদ স্পষ্টই উচ্চারিত হয়েছে মাশরাফির কণ্ঠে, "আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তি দর্শক। সব সময় ছিল। এখনো আছে। দর্শক না থাকলে আমরা এত অনুপ্রাণিত হতাম না। আমাদের ক্রিকেটের এই পর্যন্ত আসার পেছনে জনসাধারণের অনেক অবদান, অনেক ত্যাগ আছে। আমরা যদি ভালো খেলতে পারি, ভালো কিছু করতে পারি তাহলে অবশ্যই সবাই খুশি হবে। আমাদের জন্য এটা তাই দারুণ সুযোগ। "


মন্তব্য