kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এশিয়া কাপ

৬৬ বলে ৮০ রান দরকার বাংলাদেশের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৬ ২২:০২



৬৬ বলে ৮০ রান দরকার বাংলাদেশের

স্বপ্নের ফাইনাল হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ছুটছে বাংলাদেশ।

১৩০ রান করলেই পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে যাবে টাইগাররা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ৯ ওভারের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫০ রান। সৌম্য সরকারের দিন হতে পারে এটি। সৌম্য ২৬ ও মুশফিকুর রহিম ১ রানে ব্যাট করছেন। ৬৬ বলে ৮০ রান দরকার বাংলাদেশের। এর আগে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে ১২৯ রানে আটকে ফেলতে পেরেছে টাইগাররা। ফিল্ডাররাও দারুণ করেছেন।  

তামিম ইকবাল (৭) এই ম্যাচেই ফিরেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ ইরফানের বলে এলবিডাব্লিউর শিকার হয়েছেন। এরপর ৩৩ রানের জুটি হয়েছে সাব্বির রহমান ও সৌম্যের মধ্যে। তারা ঠাণ্ডা মাথায় খেলছিলেন। কিন্তু শহীদ আফ্রিদির একটি বল বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়েছেন সাব্বির (১৪)। খেলার ধারার বিপরীতে উইকেট পেয়েছে পাকিস্তান।

গত বছর এই স্টেডিয়ামেই পাকিস্তানের দেয়া ১৪২ রানের টার্গেট তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে ওটাই পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের একমাত্র জয়। তবে বরাবরের মতো এখনও পাকিস্তানের বোলিং ভালো। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১১ সালে ১৩৫ রান করেও জিতেছিল তারা।  

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামলো পাকিস্তান। ব্রেক থ্রু এনে দিতে জানেন আল-আমিন হোসেন! ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে এই পেসার নিজের প্রথম বলেই তুলে নিয়েছেন খুররম মাঞ্জুরের (১) উইকেট! উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি। ১ রানেই ১ উইকেট নেই পাকিস্তানের। টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয়বার প্রথম ওভারেই উইকেট পেলেন আল-আমিন। বাঁ হাতি স্পিনার আরাফাত সানি এই টুর্নামেন্টে আজই প্রথম সুযোগ পেয়েছেন। আর আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন নিজের পঞ্চম বলে শারজিল খানকে (১০) পরিস্কার বোল্ড করে। আল-আমিনকে একটি ছক্কা মারার পর সানিকে একটি বাউন্ডারি মেরেছিলেন শারজিল। পঞ্চম ওভারে নিজেই বল হাতে নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। পঞ্চম বলে মোহাম্মদ হাফিজ (২) হয়ে যান এলবিডাব্লিউর শিকার। ১৮ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ২০ রান পাকিস্তানের। প্রতিপক্ষকে টাইগার বোলাররা দারুণভাবে চেপে ধরেছিলেন। পুরোই ব্যাটিং উইকেটে খেলা। কিন্তু দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বোলিং পরিবর্তন করে যাচ্ছিলেন মাশরাফি। বোলাররাও আত্মবিশ্বাসী বোলিং করছিলেন। নবম ওভারে চতুর্থ উইকেট পায় টাইগাররা। তাসকিন আহমেদকে তুলে মারতে গেলেন উমর আকমল (৪)। ক্যাচটা সহজেই নিলেন সাকিব আল হাসান। ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আরো চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর শোয়েব ও সরফরাজ উইকেট পতন ঠেকিয়েছেন। খেলা থেকে প্রায় ছিটকে পড়া পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন তারা।

১৩ ওভারে পাকিস্তানের রান ছিল ৪ উইকেটে ৫৪। এরপর প্রতি ওভারে দুই অঙ্কের রান উঠছিল। তবে ১৭তম ওভারে শোয়েব-সরফরাজের ৭০ রানের জুটি ভেঙ্গেছেন সানি। সাব্বির রহমান শোয়েবের (৪১) ক্যাচ নিয়েছেন। পরের ওভারে আল-আমিন পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকে (০) তুলে নিলে আবার বাংলাদেশ চাপ দিতে থাকে। শোয়েব ও সরফরাজের কারণেই শেষ ৭ ওভারে ৭৫ রান তুলেছে পাকিস্তান। সরফরাজ ৫৮ রানে অপরাজিত থেকেছেন। আল-আমিন ২৫ রানে ৩, সানি ৩৫ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। তাসকিন ১৪ রানে ও মাশরাফি ২৯ রানে একটি করে উইকেট পেয়েছেন।  
     
এই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে কোনো হিসেব নিকেশের অপেক্ষায় আর থাকতে হবে না। টাইগাররা ৬ মার্চের ফাইনালে খেলবে ভারতের সাথে। তবে বাংলাদেশ হারলেও ফাইনালে খেলার আশা থাকবে। এই ম্যাচ জিতে শ্রীলঙ্কাকেও হারালে ফাইনালে যাবে পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তান এই ম্যাচ জিতলে এবং শ্রীলঙ্কার কাছে হারলে তখন সামনে চলে আসবে নেট রান রেট। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে যে দল এগিয়ে থাকবে তারা উঠবে ফাইনালে।


মন্তব্য