পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের-330905 | খেলাধুলা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


এশিয়া কাপ

পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার হাতছানি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৫৪



পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার হাতছানি

ম্যাচটা বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের। ফেভারিট বলবেন কাকে? ইতিহাস বলবে পাকিস্তান ফেভারিট। কিন্তু ক্রিকেটে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অনেক বড় ব্যাপার। সেই হিসেবে বাংলাদেশকেই তো ফেভারিট বলতে হচ্ছে! তাহলে কি বাজিটা বাংলাদেশের পক্ষেই যাবে? আরো একবার টাইগাররা পাকিস্তান বধ করবে? মঙ্গলবার ভারত যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায় তাহলে বুধবার জিতলেই স্বাগতিকরা উঠে যাবে এশিয়া কাপের ফাইনালে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধা সাড়ে সাতটায় শুরু খেলাটি।

এই ম্যাচে কেন বাংলাদেশকে ফেভারিট বলতে হবে সেটা আগে খোলাসা করে নেয়া যাক। পাকিস্তানের সাথে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের শেষ দেখা হয়েছে গত বছরের এপ্রিলে। ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামেই। সেবার তিন ওয়ানডের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করলো টাইগাররা। একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও জিতলে ৭ উইকেটে; ২২ বল হাতে রেখে। তাহলে বাংলাদেশ এগিয়ে নয়?

টি-টোয়েন্টিতে ওই একবারই পাকিস্তানকে হারিয়েছে টাইগাররা। তার আগে আরো ৭টি ম্যাচ খেলেছে এই দুই দল। সবগুলোতে পাকিস্তান জিতেছে। সাম্প্রতিক আরো ব্যাপার আছে যাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায়। এই এশিয়া কাপের কথাই ধরুন। বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে দাপটে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে। তার আগে জিতেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। হেরেছে কেবল ভারতের বিপক্ষে। পাকিস্তান দুই ম্যাচ খেলে একটিতে জিতেছে। ভারতের বিপক্ষে ৮৩ রানে অল আউট হয়েছিল তারা। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত সহজেই জিতেছে। কিন্তু তাদের ব্যাটিং যে সুবিধা মতো অবস্থায় নেই তা বোঝা গেছে। বোলিংয়ে আমিরাতকে কাঁপাতে পারেনি। ১২৯ রান করেছিল আমিরাত।

পাকিস্তানের বিপক্ষে গত এপ্রিলে টি-টোয়েন্টি অভিষেক দিয়ে কাটার বিশেষজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। এশিয়া কাপের প্রথম তিন ম্যাচ খেলার পর ইনজুরি সমস্যার কারণে আর খেলতে পারবেন না মুস্তাফিজ। কিন্তু রবিবার প্রথমবার বাবা হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরই তামিম ইকবাল থাইল্যান্ড থেকে উড়ে এসেছেন। ঢাকায় এসেই মিরপুরে অনুশীলনে নেমে পড়েন। মুস্তাফিজ না থাকায় চার পেসারের কম্বিনেশনে একটু ঝামেলা হলো। তবে তামিম ফেরায় ব্যাটিংয়ে ওপেনিংয়ে যে ঝামেলাটা চলছে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করা যেতেই পারে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মোহাম্মদ মিঠুন তাই বিশ্রামে যেতে পারেন। আর মুস্তাফিজের জায়গায়? এই কম্বিনেশনটা বাংলাদেশ দল চূড়ান্ত করেনি এখনো।

৫৪ বলে ৮০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে সাব্বির রহমান শ্রীলঙ্কাকে হারানোয় রেখেছিলেন বড় ভূমিকা। গত এপ্রিলে অপরাজিত ৫১ রানে পাকিস্তানকে হারানোর ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন সাব্বির। এই ম্যাচে তাই তার বাড়তি প্রেরণা পাবার কথা। সাকিব আল হাসান ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে ফর্মে ফিরছেন। মাহমুদুল্লা সব দিক দিয়ে ঠিক আছেন। মুশফিকুর রহিম কিপিংয়ে নেই। ব্যাটিংয়েও একটু নড়বড়ে। কিন্তু তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই। বোলিংয়ে মাশরাফি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পেস আক্রমণের। তরুণ তাসকিন আহমেদ ও আল-আমিন হোসেন ভালো করছেন। বিশেষ করে আল-আমিন ধারবাহিক। আর স্পিনে সাকিব ও মাহমুদুল্লা আঘাত হানতে পারছেন। সব মিলিয়ে দলটা লঙ্কানদের বিপক্ষে পাওয়া আত্মবিশ্বাসটা ধরে রাখতে পারলেই কেল্লা ফতে!

পাকিস্তানের পেস আক্রমণকে ইতিহাসের সব পর্যায়েই ভয় পেয়েছে সবাই। এখনো পেতে হচ্ছে। মোহাম্মদ আমির গতির ওপরে সুইংয়ে মাত করছেন। মোহাম্মদ সামি ফিরে এসে নির্ভর করার মতো বল করছেন। মোহাম্মদ ইরফান ও ওয়াহাব রিয়াজ পরীক্ষীত। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের সতর্ক থাকতেই হবে।

কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাটিং? এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের টপ অর্ডার ব্যর্থ। বাংলাদেশের বোলাররা তাই এই দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনে সাফল্য তুলে নিতে চাইবেনই। আর মাঠে টাইগাররা পাবে পুরো সমর্থন। নিজের মাঠে টাইগাররা তো দুর্দান্ত। ২০১২ সালের পর এশিয়া কাপের ফাইনাল যে আবার ডাকছে বাংলাদেশকে!     

মন্তব্য