kalerkantho

লে খা র ই শ কু ল

রুশ কবিতায় রোমান্টিসিজমের অগ্রদূত ঝুকোভস্কি

দুলাল আল মনসুর   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রুশ কবিতায় রোমান্টিসিজমের অগ্রদূত ঝুকোভস্কি

উনিশ শতকের রুশ কবি, সমালোচক, নাট্যকার ও অনুবাদক ভাসিলি ঝুকোভস্কির জন্ম ১৭৮৩ সালে। তাঁর সম্পর্কে রাশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলেজান্ডার পুশকিনের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন হলো, ‘আমি শুধু তাঁর উত্তরসূরি নই, তাঁর শিষ্যও। তাঁর মতো শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় কাব্যিক কণ্ঠ আর কারো অতীতে ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না।’ তাঁর গদ্য লেখার মধ্যে আছে নাটক ও প্রবন্ধ এবং কবিতার মধ্যে গীতিকবিতা থেকে শুরু করে মহাকাব্য পর্যন্ত।

ইউরোপের বিভিন্ন ভাষার কবিতা অনুবাদের মাধ্যমে তিনি ইউরোপীয় রোমান্টিসিজমের প্রাণশক্তি নিয়ে আসেন রাশিয়ায়। হোমার, ফেরদৌসি থেকে শুরু করে গ্যেটে, স্কট, বায়রন প্রমুখের কবিতা তিনি অনুবাদ করেন। তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘লুদমিলা’ ও ‘সুয়েতলানা’র উত্স মধ্যযুগের জার্মান লোককথা।

ঝুকোভস্কির বাবা আফানাসি বুনিন ভূসম্পত্তির মালিক ছিলেন। তাঁর অধীনস্থ এক ভূমিদাস তুরস্কের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এক যুদ্ধে অংশ নিতে যান। যাওয়ার সময় মালিক বুনিন রসিকতা করে বলেন, যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় তাঁর জন্য যেন একজন সুদর্শনা তুর্কি নারী নিয়ে আসেন। তাঁর ভূমিদাস যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় এলিজাবেথা নামে ষোলো বছরের এক বিধবা মেয়েকে নিয়ে আসেন। যুদ্ধে তাঁর স্বামী মারা যায়। এক তালুকে বুনিন এলিজাবেথাকে রেখে দেন। তবে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। এলিজবেথার তিন কন্যাসন্তান মারা যায়। বেঁচে থাকে শুধু এক ছেলে। সেই ছেলেই ভবিষ্যতের কবি ঝুকোভস্কি। পরিবারের এ রকম অবস্থায় বুনিনের স্ত্রী ঝুকোভস্কিকে নিজের ছেলের মতোই দেখতেন। পরিবারের সচ্ছল অবস্থা ও বড়দের তরফ থেকে স্নেহ পেলেও কিছুটা অতৃপ্তি নিয়ে বাইরের মানুষের মতো থাকতেন ঝুকোভস্কি। তবে পরিবারে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ ছিল; সংগীত ও নাটকের চর্চা হতো নিয়মিতই। ভবিষ্যতের কবির মানস এ রকম আবহের মধ্যেই বেড়ে উঠতে থাকে। ১৮০২ সালে ঝুকোভস্কি ইংরেজ কবি টমাস গ্রের ‘এলিজি রিটন ইন আ কান্ট্রি চার্চ ইয়ার্ড’ অনুবাদ করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিষণ্ন কবি মানসের ব্যাপক পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৮০৮ সালে রুশ লেখক নিকোলাই কারামজিন তাঁর পত্রিকা ইউরোপিয়ান মেসেঞ্জারের সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে বলেন ঝুকোভস্কিকে। নবীন কবি তখন রোমান্টিক কবিতার নানা দিক নিরীক্ষা করতে থাকেন। ১৮১২ সালে নোপোলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ করলে দেশপ্রেমিক কবি ঝুকোভস্কি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধের ময়দানে তিনি অনেক দেশপ্রেমমূলক কবিতা লেখেন। তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আ বার্ড ইন দ্য ক্যাম্প অব দ্য রাশান ওয়ারিয়রস’ সে সময়ে লেখা। পরে জাতীয় সংগীত ‘গড সেভ দ্য জার’ তাঁর কবিতা থেকে নেওয়া হয়। যুদ্ধের পর তিনি সরকারি উচ্চ পদে নিয়োগ পান। তখন মিখাইল লারমোতোভ, আলেজান্ডার হারজেন, তারাস শেভচেনকো, পুশকিনসহ অন্যান্য মুক্তচিন্তার মানুষের প্রতি জনসমর্থন প্রকাশ করার চেষ্টা করেন। তখন থেকেই পুশকিনের ওপর তাঁর প্রভাব জোরালোভাবে পড়ে। পুশকিনের অকালমৃত্যুর পর ঝুকোভস্কি তাঁর অনেক লেখা সংগ্রহ করে প্রকাশ করার ব্যবস্থা করেন। পুশকিনের যেসব লেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেগুলোও প্রকাশ করেন তিনি। ১৮৪১ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর জার্মানিতে বসতি স্থাপন করেন।

 

 

মন্তব্য