kalerkantho

মেলার তিন তরুণের বই
মায়ামুকুট

সৃষ্টির মুকুটে নতুন পালক

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ

১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৃষ্টির মুকুটে নতুন পালক

মায়ামুকুট : স্বকৃত নোমান। প্রকাশক : অন্যপ্রকাশ। প্রচ্ছদ : মোমিন উদ্দীন খালেদ। মূল্য : ৪০০ টাকা

‘হূদয়াবেগ ছাড়া কখনো খাঁটি শিল্প সৃষ্টি হয় না। কখনো হয়ওনি।’ রুশ সাহিত্যিক ইলিয়া এরেনবুর্গের এই মন্তব্য যথার্থ। কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমানের নতুন উপন্যাস ‘মায়ামুকুট’ এই পথেই দাগ কেটেছে। 

উপন্যাস রচনায় স্বকৃত নোমান বরাবরই গতানুগতিক ধারার বাইরে হাঁটেন। বিষয় নির্বাচনে ধ্যান-জ্ঞান, বিচার-বিবেচনা, আখ্যানের বয়ান-বয়ন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। ‘মায়ামুকুট’ সেই সৃষ্টির মুকুটে নতুন পালক, যা প্রতিশ্রুতিশীল এই লেখকের সৃষ্টিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। পৌঁছে দিয়েছে অন্য উচ্চতায়।

পাঠককে হাত ধরে লেখকের কল্পনাজগতে নিয়ে যাওয়ার সুনিপুণ কৌশল রপ্ত করেছেন স্বকৃত নোমান। ‘মায়ামুকুট’ উপন্যাসের বয়নেও এই মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। শুরুটা সম্পর্কে না বললেই নয়, ‘আসুন, স্মরণ করি। স্মরণ করি পৌষের সেই হিম রাতের কথা, টানা দেড় ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধের পর মুলুকচানকে যে-রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, তার গ্রেপ্তার সংবাদ ছড়াবার পর পাহাড়ি ঢলের মতো দিকে দিকে নেমেছিল আতঙ্কের ঢল।’

উপন্যাসের শুরুটা শব্দের গতিশীল বুনটের জানান দিচ্ছে। রহস্যের বাউকুড়ানি আবিষ্ট করছে পাঠককে। ২২৪ পৃষ্ঠার দীর্ঘ পাঠ ভ্রমণেও যে ঘোর কাটবে না, তা দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়।

মোহাম্মদ মুলুক হোসেন গোলদার ওরফে মুলুকচান গোলদার ওরফে মুলুক ডাকাত ‘মায়ামুকুটে’র কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাকে ঘিরে ঘটনার ডালপালা মেলেছে। অবধারিতভাবেই এসেছে মুলুকচানের প্রণয়নী শিউলী, পুলিশ কর্মকর্তা ওমর তাজেল, মতিউর রহমান ভূইয়া ওরফে মতি ভূইয়া। এ ছাড়া আছে ওয়াস আলী গোলদার, মেহের মেম্বার, রাঁড়িবুড়িসহ অসংখ্য চরিত্র।আখ্যান বর্ণনায় বিভুরঞ্জন সরকার ওরফে ভুবন সাধু নামের এক সাধকের রচিত গাথাকে আশ্রয় করেছেন লেখক। যার রচনার পথ ধরেই মুলুকচানের সুলুকসন্ধানে পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ পথ। আবার কখনো কখনো কারারক্ষীর বয়ানে ঔপন্যাসিক নিজেই অবতীর্ণ হয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর নানা ঘটনা অনুষঙ্গ হয়েছে মায়ামুকুটে। সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন ও ঘটনার পাশাপাশি প্রেম-ভালোবাসা, কাম, ক্রোধ, আবেগ, অনুভূতি, নৃশংসতা আর অ্যাডভেঞ্চারের সন্নিবেশ হয়েছে উপন্যাসের পাতায় পাতায়, যা পাঠককে দেবে গতিশীল ও রোমাঞ্চকর পাঠানুভূতি।  

মায়ামুকুটের সাবলীল বর্ণনায় উঠে এসেছে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পর দৃশ্যপটে আসা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ।

তেত্রিশজনের ফাঁসি কার্যকর করায় ধীরে ধীরে কমে আসে মুলুকচানের সাজা। কারাজীবন থেকে মুক্তি পায় সে। তাকে একনজর দেখতে মানুষের ঢল নামে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাফটকে। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পালগিরিতে ফিরে যায় মুলুক। কাঠিমারা ফিরে পায় যৌবন।

মন্তব্য