kalerkantho

লে খা র ই শ কু ল

কবিতা হলো তৃপ্তির মুহূর্ত—পল ভাহলেন

দুলাল আল মনসুর   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কবিতা হলো তৃপ্তির মুহূর্ত—পল ভাহলেন

উনিশ শতকের শেষের দিকের ফরাসি কবি পল ভাহলেন। ওই সময়ের ফ্রান্সসহ অন্যান্য অঞ্চলেরও সেরা কবিদের অন্যতম মনে করা হয় তাঁকে। তিনি মূলত ডেকাডান্ট ধারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। উনিশ শতকের শেষের দিকে ডেকাডান্ট ধারা প্রথমত ফ্রান্সে এবং এর পরে ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে ও যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। আত্মবিরাগ, জগতের প্রতি অনীহা, সাধারণ সংশয়বাদ, অস্বাভাবিকতার প্রতি টান এবং যুক্তি ও প্রাকৃতিক জগতের চেয়ে মানুষের সৃজনশীলতার উত্কর্ষে বিশ্বাস—এগুলো হলো ডেকাডান্ট ধারার কবিদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।  

তাঁর ‘আর্ট পোয়েটিক’ কবিতায় নিজের ডেকাডান্ট বা ক্ষয়িষ্ণু শৈলীর ব্যাখ্যায় কবিতার গীতল স্বভাব এবং বিলীয়মানতার প্রাধান্য বজায় রাখার কথা বলেন। বর্ণনার ওপরে দ্যোতনার আবরণ রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি কবিদের খোলা তলোয়ারের মতো নিষ্ঠুর চাতুরীপূর্ণ ভাষা ও অপবিত্র হাস্যরস ত্যাগ করতে বলেন। বর্ণনার উপরিভাগে শৈলীর আবরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কবিতা মানে কোনো তৃপ্তির মুহূর্ত।

পল ভাহলেন কবিতা লেখা শুরু করেন অল্প বয়স থেকেই। ভাহলেনের মা শান্ত স্বভাবের হলেও বাবা ছিলেন অস্থিরচিত্তের মানুষ। আবেগের দিক থেকে ছিলেন বাবার চেয়েও অস্থির। ছেলেবেলার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর মধ্যে ভবিষ্যতের কবির পরিচয় পাওয়া যায়।  কিশোরবেলার শেষের দিকে অসীমের সন্ধানী কবির স্বপ্নের মধ্যেই বিভোর থাকতেন তিনি। জগতের নানা বিষয়ে তাঁর নিজস্ব প্রশ্ন ছিল।

পার্নাসিয়ান ধারার প্রবর্তক লাকোঁতে দে লিসলের প্রভাব পড়ে তাঁর প্রথম দিকের কবিতায়। মার্কিস দে রিকার্ডের বাড়ির সাহিত্য আড্ডায় নিয়মিত হাজির হতেন ভাহলেন। কাতুলে মেন্দেস, শার্ল ক্রস, আনাতোল ফ্রাঁ, এমানুয়েল শাব্রিয়েল প্রমুখের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত্ হতো সেখানে। ১৮৬৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘পোয়েমাস সাতুরনিয়ানস’ প্রকাশের পর গুরুজনরা তাঁর মধ্যে ভবিষ্যতের কবির মৌলিকত্বের আভাস দেখতে পান।

র্যাবোঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পর ১৮৭২ সালে লন্ডন চলে যান। সেখান থেকে যান ব্রাসেলসে। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় র্যাবোকে গুলি করার কারণে তাঁকে জেলে যেতে হয়। এর পর থেকে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব আর আগের মতো অটুট থাকেনি। পরে তাঁর কবিতার কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন র্যাবোঁ। ১৮৭২ ও ১৮৭৩ সালে লেখা কবিতার সমন্বয়ে দ্বিতীয় বই ‘রোমান্সেস স্যান্স প্যারোলে’ প্রকাশ করেন ১৮৭৪ সালে। এখানকার কবিতাগুলো প্রধানত তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে। ভাহলেনের অনুরাগীদের মধ্যে নোবেলজয়ী কবি ঔপন্যাসিক বরিস পাস্তারনাক, গায়ক-কবি বব ডিলান প্রমুখ আছেন।   

জীবনের বৈচিত্র্যের অভাব ছিল না তাঁর। শেষের দিকে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তীব্র দারিদ্র্যের মুখেও তাঁকে পড়তে হয়। বস্তিতে এবং হাসপাতালেও রাত কাটাতে হয় তাঁকে। দিনের বেলা প্যারিসের কোনো না কোনো ক্যাফেতে বসে একটানা অ্যাবসিন্তে পান করতেন। তবে তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ফিরেও আসে একসময়। জনসমক্ষে তাঁর অদ্ভুত আচরণ এবং বিচিত্র জীবনযাপনের কারণে তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা জাগে। ১৮৯৪ সালে তাঁকে ফ্রান্সের ‘প্রিন্স অব পোয়েটস’ নির্বাচন করা হয়।

 

মন্তব্য