kalerkantho


ধারাবাহিক উপন্যাস মৎস্যগন্ধা

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

নরসিংহ জেঠা ব্যাকুল হয়ে বলল, ‘কী বলছ এসব!’

ভবানী মুখ নামিয়ে শরমে মরে যাওয়া গলায় বলল, ‘এক বিন্দু মিথ্যা নাই জেঠা। যা শুনলে তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য।’

‘আ হা হা! কী শোনালে তুমি ভবানী! এত বড় অপকর্ম!’ অপকর্ম কার, মৎস্যগন্ধার, না পরাশরের—জেঠার কথায় স্পষ্ট হলো না।

সিন্ধুচরণ আর ভবানী—দুজনে চট করে জেঠার দিকে তাকাল। জেঠা মৎস্যগন্ধাকে দায়ী করছে না তো।

জেঠা বলে উঠল, ‘এত বড় ঋষি! বশিষ্টের নাতি! এত বড় পাপকাজটি করতে বুক কাঁপল না তাঁর? ছি ছি! ছি...।’

ভবানী ও সিন্ধুচরণ—দুজনে এসেছে জেঠার কাছে। বিপুল, কদাকার সমস্যাটি থেকে কী উপায়ে পরিত্রাণ পাওয়া যায়, তার একটা সমাধানের জন্য।

একদিকে লোকনিন্দা, অন্যদিকে পাপবোধ—স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই উন্মূল করেছে। কুিসত এ কাজটি যিনি করেছেন, তিনি তো পাপ কাজ করেছেনই, আর যে এই কাজে নিষ্ক্রিয় ছিল, কোনোভাবেই সম্মতি ছিল না যে মৎস্যগন্ধার, তার কি পাপ হয়েছে? বিধাতা কি পাপীদের তালিকায় মৎস্যগন্ধার নামটি লেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন যমরাজকে? চিত্রগুপ্ত কি এই সহজ-সরল মেয়েটির নাম পাপীদের বালামে তুলেছেন? ভাবতে ভাবতে দুজনের হৃদয় কেঁপে ওঠে।

লোকনিন্দাও কি কম বড় সমস্যা? সমুদ্রমন্থনের পর উত্থিত গরলের চেয়েও মারাত্মক লোককুৎসা। মহাদেব শিব এ গরলকে কণ্ঠে ধারণ করে ধ্বংসের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচিয়েছেন, নিজে নীলকণ্ঠ হয়ে বিষের যন্ত্রণায় তিল তিল করে যন্ত্রণাহত হয়েছেন; কিন্তু পৃথিবীকে রেখেছেন সুজলা-সুফলা। লোককুৎসা এত ভয়ংকর আর মারাত্মক যে গরলের ধ্বংসক্রিয়াও এর কাছে হার মানতে বাধ্য। লোকসমাজ যখন মৎস্যগন্ধার ধর্ষণ ও গর্ভধারণের কথা জানতে পারবে, বিষে বিষময় করে তুলবে দাশরাজ পরিবারের জীবন। তাদের জিব যে বজ্রের চেয়ে ভারী, স্রোতস্বিনী পদ্মার চেয়েও খরতর।

কী করে, কোন উপায়ে দাশরাজার সম্মান আর মৎস্যগন্ধার জীবন বাঁচানো যায়? পথ দেখাও জেঠা—বলার জন্য এসেছিল ওরা। কিন্তু সব কথা শুনে নিজেই পাগলপ্রায় হয়ে গেল নরসিংহ জেঠা। তার সব চিন্তা এলোমেলো হয়ে গেল। সুবুদ্ধি লোপ পেল তার। বুড়ো বয়সের শিথিল শিরাগুলো ফুলে উঠল। মাথার দুই পাশে ধপ ধপ করতে লাগল। জেঠা হঠাৎ দুই হাত দিয়ে মাথার দুই পাশটা জোরে চেপে ধরল। যন্ত্রণাক্লিষ্ট ‘আহ’ শব্দটি বেরিয়ে এলো জেঠার মুখ থেকে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে—সে বিহ্বল, জাগতিক চেতনা রহিত।

অথচ সন্ধ্যার দিকে দুজনে জেঠার কাছে যখন গিয়েছিল, জেঠা ছিল শান্ত, স্বাভাবিক। সহজাত মমতা মাখানো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তোমরা! এই অবেলায়! কোনো সমস্যা!’ বলায় বিস্ময় থাকলেও তা ওদের বুঝতে দেয়নি নরসিংহ জেঠা।

দাওয়ায় যথা-অভ্যাসে বসে ছিল জেঠা। ঘরের ভেতর কলকোলাহল। নিকুম্ভ মারা যাওয়ার আগে এক পাল ছেলে-মেয়ের জন্ম দিয়ে গিয়েছিল। বড় হলে ওদের বিয়েথা করানো হয়েছে। ওদেরও সন্তানাদি অগণন। ওদের হৈচৈয়ে ঘরের ভেতরটা যেন মাছের বাজার।  হৈ-হল্লা মোটেই ভালো লাগে না জেঠার। দিনে এধার-ওধার গেলেও সন্ধ্যার দিকে এই দাওয়াতেই ঠাঁই নেয় নরসিংহ জেঠা।

ওই দাওয়া থেকেই ভবানী-সিন্ধুকে লক্ষ করে কথাগুলো বলেছিল জেঠা।

দ্বিধাভরা পায়ে দুজনে এগিয়ে গিয়েছিল জেঠার কাছে। সিন্ধুচরণ বলেছিল, ‘তোমার সঙ্গে আমাদের কথা আছে জেঠা।’

‘কথা! আসো আসো। দাওয়ায় এসে বসো।’ কোমল আহ্বান জেঠার।

ভবানী বলে, ‘বসব না জেঠা।’

‘কেন! কেন বসবে না?’

সিন্ধুচরণ বলে, ‘গোপনীয় কথা জেঠা।’

‘কী রকম গোপনীয়! জেঠার গলা কিছুটা অস্থির।

‘অত্যন্ত গোপনীয় জেঠা। এখানে বলা যাবে না।’ ভবানীর কথাগুলো কষ্টমাখা।

‘তো কোথায় বলবে!’

‘জেঠা, যমুনাপারে চলো। সেখানকার কোনো নির্জন জায়গায় বসে আমাদের দুঃখের কথাগুলো তোমাকে শোনাতে চাই।’ ধীরে ধীরে বলে গেল সিন্ধুচরণ।

‘দুঃখের কথা! নির্জন জায়গা! আমাকে শোনাতে চাও! তোমার কথার মাথামুণ্ডু তো কিছুই বুঝতে পারছি না সিন্ধু।’

‘সব শুনলে তুমি বুঝতে পারবে জেঠা। তুমি চলো আমাদের সঙ্গে।’ অনুনয় করল ভবানী।

এরপর ওই সন্ধ্যায় যমুনাপারের সেই বটবৃক্ষটির তলায় এসে বসেছিল ওরা।

অনেকক্ষণ পর মাথা তুলল নরসিংহ জেঠা। নরম চোখে সিন্ধুর দিকে তাকাল। ‘ভুসুকুকে ভূতে ধরার কথাটা প্রচার করার ব্যবস্থা করে বুদ্ধির কাজ করেছ ভবানী।’ ভবানীর দিকে মুখ ফিরিয়ে কথাটা শেষ করল জেঠা। ‘শুধু ভূতে ধরার ব্যাপারটি তো না, কামড়ানো-খামচানোর...।’ সিন্ধুচরণের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে নরসিংহ জেঠা বলল, ‘সেটাই সবচেয়ে বড় বুদ্ধির কাজ হয়েছে। পাড়াপড়শিরা যারা শুনবে, তারা দূর থেকে সমবেদনা জানাবে, কিন্তু ভয়ে কাছে ঘেঁষবে না।’ দম নেওয়ার জন্য থামল একটু জেঠা।

তারপর বলল, ‘মৎস্যগন্ধার শরীরের রকমসকমের যে পরিবর্তন হতে থাকবে, তা মানুষেরা দেখতে পাবে না। তোমরা নিত্যদিনের লোকযন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবে। কিন্তু মা ভবানী, একজন নারীর গর্ভবতী হওয়া, তার পেটে ধীরে ধীরে শিশুটির বড় হয়ে ওঠা চাট্টিখানি কথা! বড় কষ্টের কথা! মৎস্যগন্ধা শারীরিক ও মানসিক এই কষ্ট থেকে রেহাই পাবে? পাবে না। না তোমরা রেহাই পাবে, না মৎস্যগন্ধা রেহাই পাবে।’ ভবানী নরসিংহ জেঠার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলেও সিন্ধুচরণ শুনছিল না। সে তখন আনমনা-উদাসীন। সিন্ধুচরণ তখন মনে মনে বিধাতার সঙ্গে কথা বলছে। তার মনে অনেক বেদনা, অসহনীয় যন্ত্রণা জমা হয়ে ছিল। প্রবল, রক্তাক্ত, হৃদয়বিদারক বহু প্রশ্ন দিন-রাত কুরে কুরে খাচ্ছিল তাকে। নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলেছে বহুবার। কিন্তু তার ভেতরের সিন্ধুচরণ তার প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর দিতে পারেনি। তাই আজ, এই নদীপারের বটবৃক্ষতলে জেঠা যখন কথা বলে যাচ্ছে, সিন্ধুচরণ বিধাতার মুখোমুখি হয়েছে। বিধাতার কাছ থেকে তার প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নেওয়া চাই-ই, চাই।

আচ্ছা ভগবান, তুমিই বলো—আমাকে এই পৃথিবীতে পাঠালেই যদি, কৈবর্তবংশে পাঠালে কেন?

কী বললে ভগবান? কৈবর্তবংশ খারাপ কিসে?

খারাপই তো! খারাপ না হলে কী সবাই আমাদের হীন চোখে দেখে? নিন্দামন্দ করে আমাদের?

সবাই কারা? কাদের কথা বলছ তুমি?

আমি আর্যদের কথা বলছি বিধাতা। ওই ব্রাহ্মণ, ঋষি আর রাজাগজাদের কথা বলছি।

তো ওরা তোমাদের কী এমন ক্ষতি করল?

ক্ষতি করেনি! ওরা আমাদের নদীপারের স্যাঁতসেঁতে ভূমিতে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের মেয়েদের ইচ্ছামতো ব্যবহারের রীতি-বিধান তৈরি করেছে।

কী বললে বিধাতা? ওদের নারীদের আমরাও ওদের মতো ব্যবহার করি না কেন?

ব্যবহার করলে যে কী করবে, তারও প্রতিবিধান করে রেখেছে ওরা।

কী প্রতিবিধান জানতে চাইছ?

মৃত্যুদণ্ড প্রভু। ওদের নারীতে কোনো শূদ্র উপগত হলে একেবারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা। অথচ দেখো, আমার কুমারী মেয়েটাকে ঋষি পরাশর...। ব্রাহ্মণ নাকি তিনি! জ্ঞান তাপস!

কী বলছে ভগবান? ধৈর্য ধরতে বলছ?

ওই ধৈর্যই তো আমাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তোমার অমোঘ বাণী, প্রভু!

কী বললে? কৈবর্তসমাজে আমাকে সেরা পদটি দিয়েছ? তা মানি ভগবান। তবে এটাও তো অস্বীকার করতে পারবে না তুমি, নামে দাশরাজা আমি, আসলে ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সরদার। ঠুঁটো জগন্নাথও বলতে পারো আমায়। মহাপ্রভু জগন্নাথের জন্য পৃথিবীতে অঢেল ভক্তি-শ্রদ্ধার ব্যবস্থা করেছ; কিন্তু আঙুলগুলো কেড়ে নিয়েছ জগন্নাথের। কী বলছ? এত অভিমান করছি কেন?

অভিমান নয় ভগবান, রাগ করছি তোমার ওপর। বলছ, ‘দাশরাজা’ উপাধিটির ব্যবস্থা করেছ তুমি? কয়জনের ভাগ্যে এ উপাধি জোটে জিজ্ঞেস করেছ? মানলাম প্রভু, মহারাজাধিরাজ উপরিচর বসু আমাকে দাশরাজার সম্মানটা দিয়েছেন। কিন্তু ভুলে যাচ্ছ কেন প্রভু, তিনিও অন্যায়কারীদের একজন।

কেন উপরিচর বসু অন্যায়কারী, জানতে চাইছ? দুটি সন্তান জন্মাল মৎসীর পেটে। দাবি করলেন তিনি—ও দুটি তাঁরই সন্তান। রাজধানীতে নিয়ে গেলেন একজনকে। মৎস্যকে। কেন মৎস্যকে নিয়ে গেলেন? মৎস্য কে জানতে চাইছ? মৎস্য হলো মৎসী অদ্রিকার পেট থেকে বেরিয়ে আসা পুত্রসন্তান। অন্যটা মেয়ে মৎস্যগন্ধা। কালাকোলা। কৈবর্ত চেহারা। মৎস্য কিন্তু গৌর বর্ণের। রাজপুত্রের মতো। ওই মৎস্যকেই উপরিচর বসু বুকে টেনে নিলেন। রাজধানীতে নিয়ে গেলেন।

আর কন্যাটিকে?

কন্যাটিকে তিনি ত্যাগ করে গেলেন এই কৈবর্তপাড়ায়। বললেন, ওকে মানুষ করতে পারো কি না দেখো। তো, তুমিই বলো প্রভু—মহারাজ উপরিচর বসু ভালো মানুষ? চুপ করে থেকো না ভগবান। উত্তর দাও। এরপর কী করলে তুমি প্রভু? আমার নাও-জাল কেড়ে নিলে। পথের ভিখারি বানিয়ে ছাড়লে আমায়। আমার শরীরের বলটুকুও কেড়ে নিলে। মুখের অন্ন জোগাড় করার পথটি বন্ধ করে দিয়ে বড় সুখ পেলে তুমি! বাধ্য হয়েই কন্যাটিকে পারাপারের ঘাটে পাঠালাম আমি। পারানির কাজ করে যদি দুটি কড়ি আয় হয়।

তুমি কী করলে বিধাতা? আমাদের দুবেলা খাওয়াটা তোমার পছন্দ হলো না। মৎস্যগন্ধার সর্বনাশ করালে তুমি। আমার সামর্থ্য নেই বলে মেয়েটাকে অনাদরে-অস্বাচ্ছন্দ্যে বড় করে তুলেছি। সেই অসহায় মেয়েটির সর্বনাশ করালে গো তুমি। ভগবান, তোমার কাছ থেকে আজ আমার লুকানোর কিছু নেই। তোমাকে অকপটেই বলছি আমি—মেয়ের অপমানে আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি ঈশ্বর। আত্মহত্যা করতে চেয়েছি বারবার। যখনই মরতে চেয়েছি আমি, মৎস্যগন্ধার অসহায় করুণ চেহারাটা আমার দুই চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। আমি আত্মহত্যা করতে পারিনি প্রভু। ভেবেছি, আমি মরে গেলে আমার মেয়েটিকে দেখবে কে? তাকে সাহস জোগাবে কে? ভবানী যে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাবে ভগবান। তবে আমি তোমাকে বলে রাখছি বিধাতা—আমার প্রাণের পুতুলটার যদি কিছু হয়, তাহলে আমি নিজেকে আত্মাহুতি দেব ওই রাক্ষসী যমুনার জলে। ‘সেদিন আমি অবশ্যই আত্মহত্যা করব প্রভু।’ ভবানী আর নরসিংহ জেঠা সিন্ধুচরণের শেষ বাক্যটি শুনতে পেল। ভবানী অবাক চোখে তাকিয়ে থাকল স্বামীর দিকে। জেঠা বলল, ‘কী বলছ তুমি সিন্ধু! কেন আত্মহত্যা করবে! কার সঙ্গে কথা বললে তুমি? প্রভুই বা কে? সিন্ধুচরণ জেঠার কথা শুনল বটে, কোনো জবাব দিল না। সিন্ধুচরণের তখন ঘোরলাগা চোখ।

‘শোনো সিন্ধু, আর কয়েক মাস পরে মৎস্যগন্ধাকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। বলল জেঠা।

আমার এত বড় বাড়ি থাকতে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে হবে কেন?

এবার ভবানী কথা বলে উঠল, ‘কালীকে লুকিয়ে রেখেছি, সন্তানটিকে তো আর লুকিয়ে রাখা যাবে না।’ ‘তাহলে!’ জানতে চাইল সিন্ধু।

জেঠা বলল, ‘যমুনার মাঝখানে মাঝখানে অনেক দ্বীপ। বেশ কিছু দ্বীপে মানুষের যাতায়াত আছে। কিন্তু ওই দূরে এমন কয়েকটা দ্বীপ আছে, সেখানে মানুষ যায় না। নির্জন ওইগুলো। গাছপালা আর জঙ্গলে ভরা। সাপকোপ আর কুমিরের আস্তানা কোনো কোনোটা। একটা দ্বীপ আছে, যেটাতে শুধু পাখপাখালি। এসব দ্বীপের কোনো নাম নেই আসলে। যে দ্বীপটির কথা বলছি, ওটির নাম দিলাম চরণদ্বীপ। দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন। একেবারেই জনযাতায়াতশূন্য।

‘চরণদ্বীপ। চরণদ্বীপ কেন! অবাক হয়ে জানতে চায় সিন্ধুচরণ। ‘কী জানি! নামটা মনে এলো হঠাৎ। হয়তো একদিন এই দ্বীপটি কোনো মহাপুরুষের চরণ ধুলায় ধন্য হয়ে উঠবে। বলতে বলতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল জেঠার মুখমণ্ডল।

উত্তরে কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না দাশদম্পতি। জেঠা আবার বলল, ‘তুমি, মানুষের চোখ এড়িয়ে ওই চরণদ্বীপে যাবে। একটা পর্ণকুটির বানাবে।’

‘তারপর? জিজ্ঞেস করে ভবানী।

প্রসবের কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে ওখানে নিয়ে যাবে মৎস্যগন্ধাকে। ওখানেই তার সন্তান হোক—চাই আমি।’

‘মানুষরা জানবে না?’

‘জানালেই জানবে। যাওয়ার আগে প্রচার করবে মৎস্যগন্ধাকে সুস্থ করে  তোলার জন্য বাপের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। কয় দিনে ফিরি ঠিক নেই। আর সিন্ধু ওই দ্বীপে মাঝে মাঝে যাতায়াত করবে। কী, পারবে না তোমরা? সিন্ধুচরণ নির্বাক। ভবানী বলল, পারব জেঠা। আমাদের যে পারতেই হবে।’

 

চলবে



মন্তব্য