kalerkantho


লে খা র ই শ কু ল

ফরাসি রোমান্টিক আন্দোলনের পথিকৃৎ ভিক্টর হুগো

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ফরাসি রোমান্টিক আন্দোলনের পথিকৃৎ ভিক্টর হুগো

ফরাসি ঔপন্যাসিক, কবি, নাট্যকার ও রাজনীতিক ভিক্টর হুগোর জন্ম ১৮০২ সালে। ‘লা মিজারেবল’ এবং ‘নটর ডেম দ্য প্যারিস’ গ্রন্থের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। ফ্রান্সের দ্বিতীয় রিপাবলিকের সময় তিনি ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে কাজ করেন। পরে তৃতীয় নেপোলিয়নের শাসনামলে স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান ব্রাসেলসে। সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সারা বিশ্বে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকেও সবার কাছে ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। 

হুগোর মা-বাবার মধ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দ্বন্দ্ব ছিল। খোদ ফ্রান্সেও মানুষের মধ্যে এ দুটি বিষয়ে দৃশ্যমান দ্বন্দ্ব ছিল। হুগো আজীবন সেসব দ্বন্দ্বের প্রত্যক্ষ রূপ দেখেছেন। নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীতে উঁচু পদের অফিসার ছিলেন হুগোর বাবা। বাবার বদলির কারণে হুগো বিভিন্ন দেশ দেখার সুযোগ পান। ছেলেবেলার এক পারিবারিক ভ্রমণে নেপলস যাওয়ার পথে তিনি আল্পস পর্বতমালা, পর্বতের ওপরে জমাটবদ্ধ তুষার, চোখ জুড়িয়ে দেওয়া ভূমধ্যসাগরীয় নীল জলরাশি এবং রোমের উত্সব দেখার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। 

মাত্র ১৩ বছর বয়সে বুঝতে পারেন, তাঁর মধ্যে সাহিত্য প্রতিভা আছে। ১৮২০-এর দশকেই তিনি ফরাসি রোমান্টিক আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিতে পরিণত হন। ১৮৩০ সালে নাটক ‘ক্রমওয়েল’ এবং ‘হারমিনি’ তাঁর অবস্থানকে আরো পরিণত করে দেয়। ‘হারমিনি’তে নতুন রোমান্টিক চিন্তা-চেতনা এবং ক্লাসিক্যাল ফরাসি থিয়েটারের মধ্যকার দ্বন্দ্বকেই প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে যথারীতি বিতর্কও তৈরি হয়ে যায়। উত্তরকালে তাঁর এই নাটককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ফরাসি সাহিত্য ইতিহাসের বাঁকবদল বলে গণ্য হয়েছে।

জীবনের প্রথম দিকে তিনি রয়েলিস্টদের সমর্থক ছিলেন। তিনি লুই বোনাপার্টের পক্ষে ছিলেন তখন। কিন্তু বাস্তবে দেখলেন, তাঁর আদর্শের প্রতি রয়েলিস্টদের সমর্থন নেই। যথারীতি তাঁদের সঙ্গে হুগোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হয়। তিনি রিপাবলিকানিজমের জোরালো সমর্থকে পরিণত হন।  ফলে ক্ষমতাসীন শাসকের আদেশে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায়ই তিনি ১৮৫১ সালের ডিসেম্বরের ২ তারিখে দেশ ত্যাগ করেন। অবশ্য লুই বোনাপার্টের পতনের পর  ১৮৭০ সালে তিনি বীরের বেশেই দেশে ফেরেন। আবারও রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং সবার প্রিয় ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। 

তাঁর প্রথম পরিপক্ব কথাসাহিত্যের অন্যতম ‘লা দারিনিয়ার ইউর দু’আন কনদামনে’ (‘অভিশপ্ত মানুষের শেষ দিন’) লেখকের সামাজিক চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন দেখায়। তাঁর এ লেখা দ্বারা প্রভাবিত হন ডিকেন্স, দস্তয়েভস্কি, কামু প্রমুখ। ১৮৩১ সালে প্রকাশ করেন উপন্যাস ‘নটর ডেম দ্য প্যারিস’। খুব দ্রুতই এ উপন্যাস ইউরোপের বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়ে যায়। উপন্যাসটি প্যারিস নগরীর অবহেলিত নটর ডেম ক্যাথেড্রালের প্রতি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। ‘লা মিজারেবল’ প্রকাশ করেন ১৮৬২ সালে। ফ্রান্সের ইতিহাসের ওপর লেখা এ উপন্যাসকে উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের অন্যতম মনে করা হয়।

►দুলাল আল মনসুর



মন্তব্য