kalerkantho


ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

কালী সুস্থ হয়ে উঠল না। দুই মাসের মধ্যেই গর্ভধারণের চিহ্ন তার দেহে ফুটে উঠতে শুরু করল।

মত্স্যগন্ধার দেহকাঠামো ছিল সুসজ্জিত। যৌবন ছিল উদ্ধত। রূপ ছিল লাস্যময়ী। নেত্র ছিল চারু। চোখে ছিল মদির কটাক্ষ। ওষ্ঠ দুটি ছিল লজ্জায় রক্তিম। দেহে ছিল উন্মত্ত আবেগ। যমুনার মতো ছিল বাঁধনহারা। দেহ বল্লরি ছিল ধনুকের ছিলার মতো টান টান। আজ মত্স্যগন্ধার তীক্ষ-তীব্র সতেজ দেহে শিথিলতা। তার কুচ যুগলে আগের মতো অনিন্দ্য সৌন্দর্য নেই, তার ওষ্ঠাধর যেন কুঁচকে যাচ্ছে। দুই চোখ মেলে পৃথিবীকে দেখার যে স্পৃহা ছিল তার, তা যেন দিন দিন ঝিমিয়ে পড়ছে।

যত দিন যাচ্ছে, তত সে সব কিছুর প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠছে। মোহময় পৃথিবী তার কাছে অর্থহীন বলে মনে হচ্ছে। আগে পাখির ডাক শুনে, ফুল-নদী-বৃক্ষের ঐন্দ্রজালিক মায়াবিনী রূপ দেখে আকুল হয়ে উঠত সে, আজ ওই সব কিছুকে লালিত্যহীন মনে হচ্ছে তার; এমনকি যে মা-বাপকে স্বর্গসম মনে হতো তার, মায়ের কালী ডাক বাবা সিন্ধুচরণের ‘মা, ওমা মত্স্যগন্ধা’ সম্বোধন তার মধ্যে যে বিপুল শিহরণ জাগাত, প্রবল আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠত সে, আজ সেই মধুসিক্ত সম্বোধন তার কাছে বিষময় লাগে। মুখগহ্বরটা সর্বদা তেতোতে ভরে থাকে।

মা ভবানী বলে, ‘মা, সামনে আমাদের বড় দুর্যোগ।’ কোনো উত্তর করে না কালী। ফ্যাল ফ্যালে চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।

কালীর এ রকম চাহনি দেখে ভবানীর হূদয় চুরমার হতে থাকে। বেশ কিছু কথা বলার জন্যই আজ সকালে মেয়ের কাছে এসে বসেছে ভবানী; কিন্তু মেয়ের অসহায় বিপর্যস্ত চেহারা দেখে তার কোনো কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না। শুধু গলা ভাসিয়ে কান্না আসতে চাইছে তার। এই সোনার পুতলিকে কী করে সর্বনাশের কথা শোনায় ভবানী? কী করে বলে—তুই গভবর্তী হয়ে পড়েছিস কালী। ধীরে ধীরে তোর উদর স্ফীত হবে, স্তনযুগল আরো ভারী হয়ে উঠবে, মেজাজ তোর রুক্ষ হয়ে উঠবে। সবচেয়ে দুর্ভর যেটা হবে, তা জননিন্দা। পড়শিরা যখন জানবে—তুই গর্ভিতা হয়েছিস, ওরা জন্মদাতাকে খুঁজবে। যতই আমরা ঋষি পরাশরের কথা বলি, প্রাণ গেলেও ওরা তা বিশ্বাস করবে না। তারা জানে—নারী জাতিকে পরাশর মাতৃবৎ জ্ঞান করেন, এই এত বয়স হয়ে গেছে তাঁর, তিনি বিয়ে করেননি। তাঁর ধ্যানের আধার ঈশ্বর, তাঁর জ্ঞানের আধার পঠন-পাঠন-অধ্যাপনা। এ রকম একজন মহাপুরুষ তোমার মেয়েতে দেহক্ষুধা মিটিয়েছেন, তা বিশ্বাস করতে বলো আমাদের? অপবাদ দেওয়ার আর লোক খুঁজে পেলে না? এমন একজনের নাম করে বসলে, যিনি সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ লোক হলে তোমার কথার সত্যতা বিচার করা যেত ভবানী। যদি আমাদের এই কৈবর্তপাড়ার কেউ হতো, তাকে ধরে বেঁধে আনা যেত, যদি রাজার রক্ষী-পাইক কেউ হতো, রাজা মহাশয়ের কাছে নালিশ দেওয়া যেত। তা না। একেবারে জগৎ কাঁপানো ঋষি পরাশর! এ অবাস্তব। আর তোমার কথাও অবিশ্বাস্য। তো এই রকম কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়েই মা তোকে ১০ মাস ১০ দিন কাটাতে হবে। হায় ঈশ্বর! তার পরও কি দুর্নাম তোর পিছু ছাড়বে মা? ছাড়বে না রে, ছাড়বে না! কন্যা কালীর সামনে বসে ভবানী এসব কথা ভাবে, আর ভেতরে ভেতরে চূর্ণবিচূর্ণ হতে থাকে।

একসময় মত্স্যগন্ধা জিজ্ঞেস করে, ‘কোন দুর্যোগের কথা বলছ মা?’

ভবানী ইতস্তত করে। যা বলবে বলে মনের মধ্যে গুছিয়ে এনেছিল, মেয়ের সামনে এসে তা এলোমেলো হয়ে যায়। কী প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করবে, কিভাবে শুরু করবে, বুঝে উঠতে পারে না ভবানী।

মত্স্যগন্ধা ডাকল, ‘মা’।

ভবানী মুখ তুলল। তার চোখ দুটি জলটলমল। ভবানী কাঁদছে। তবে হেঁচকি তুলে নয়। কাঁদছে নিঃশব্দে।

মা, জানি—তুমি কিছু একটা বলতে এসেছ। বুঝি—তোমার কথা এতই যাতনাময় যে আমাকে বলতে তুমি দ্বিধা করছ।

ভবানীর বুক থেকে বিশাল একটা বাতাসের চাপ বেরিয়ে গেল। কালী তার কথা বলার ব্যাপারটিকে সহজ করে দিল।

এই সময় কালী সহজ গলায় বলে, ‘বলো মা, কী বলতে চাইছ।’ ভবানী ত্বরিত কন্যার হাত ধরল। ডান হাতের পাতাটি নিজের মুঠোর মধ্যে নিয়ে ফ্যাকাশে গলায় বলল, ‘তুই গর্ভবর্তী হয়ে পড়েছিস কালী। পরাশরের ঔরসে তোর পেটে বাচ্চা এসেছে রে মা।’ ভবানীর ধারণা ছিল—তার কথা শুনে কালী তড়িতাহত হবে। বিহ্বলতা কাটিয়ে সে উন্মাদের মতো হৈচৈ করবে। অথবা এমন নিথর হয়ে যাবে যে ও যে শ্বাস ফেলছে, তা বোঝা যাবে না। নতুবা গণ্ড ভাসিয়ে এমন অশ্রুধারা নামবে, যা মোছাতে গিয়ে ভবানীর আঁচল ভিজে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কিছুই করল না কালী। মায়ের দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। আনমনে নিজের পেটের দিকে তাকাল একবার।

সহজ গলায় মত্স্যগন্ধা বলল, ‘আমি বুঝতে পারছি মা। আমার শরীর ভারী ভারী লাগছে। আমার মধ্যে যে অদ্ভুত চঞ্চলতা ছিল, তা মরে গেছে মা।’

থমথমে মুখে ভবানী বলতে চাইল, ‘এত বড় ঋষি! এ রকম দুষ্কর্ম...।’ থাক মা। পুরুষরা এমনই। আমাদের সমাজের পুরুষদের ন্যায়-অন্যায় জ্ঞান আছে, ওই ক্ষত্রীয় আর ব্রাহ্মণদের সেই হিতাহিত জ্ঞানটুকু পর্যন্ত নেই।

‘তুই ঠিক কথাই বলেছিস কালী।’

‘একটা মেয়েকে অসহায় অবস্থায় পেয়ে তার সর্বনাশটা করে গেল। শাস্ত্রজ্ঞানটি এইটুকু ভাবল না যে এই কুমারী মেয়েটির ভবিষ্যৎ জীবন কী হবে? সমাজের মানুষেরা যে তাকে নিন্দায় নিন্দায় জর্জরিত করে তুলবে, বিন্দুমাত্র ভাবল না।’ মেয়ের মুখে এ রকম কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেল ভবানী। তার কালী এ রকম করে ভাবে! বিশ্বাস করতে মন চাইছিল না।

এ সময় মত্স্যগন্ধা অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলল, ‘আমার সতীত্ব! আমার দেহের পবিত্রতা!’

হূদয় নিংড়ানো এ কথাগুলো দিয়ে কী বোঝাতে চাইল কালী? এটা তার আফসোস, না আর্তনাদ বুঝতে পারল না ভবানী। শুধু পরম মমতায় কালীকে নিজের বুকের একবারে কাছে টেনে নিল।

সেই সকালে দুই মা-মেয়ের মধ্যে আর কোনো কথা হলো না। দুজন দুজনকে জড়িয়ে থাকল শুধু। মায়ের গায়ের ওমে মত্স্যগন্ধার মনের সরল গ্লানি গলে গলে যেতে লাগল।

হঠাৎ উঠানে ভুসুকু পাগলার কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘অ সর্দার, অ রাজা, কালী কই? কালীর গা থেকে নাকি এখন আর মাছের গন্ধ বের হয় না। শুধু নাকি ফুলের গন্ধ বের হয়? শুঁকতে এসেছি। কী মজা! মাছ ফুল! দুর্গন্ধ সুগন্ধ!’ বলতে বলতে কোমরে দুই হাত দিয়ে ধেই ধেই করে খোলা উঠানটিতে নাচতে শুরু করল ভুসুকু। তারপর ঘরের দিকে নাক বাড়িয়ে জোরে জোরে শ্বাস টানতে লাগল।

কালীর শরীর থেকে যে ফুলের সুবাস বের হয়, তিনজন ছাড়া অন্য কেউ জানে না। মাতা জানে, পিতা জানে আর জানে মত্স্যগন্ধা নিজে। তাহলে এই ভুসুকু পাগলা জানল কিভাবে!

চট করে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো ভবানী। দাওয়া থেকে উঠানে নামল। সত্যিই তো, নিকটে বসে কালীর শরীর থেকে সে যে সুগন্ধটা পেয়েছে, এই দাওয়া, এই উঠানেও তো সেই পুষ্পগন্ধ ম ম করছে! আগে যে সুবাসটা একটা নির্ধারিত গণ্ডির মধ্যে ছিল, এখন তা গণ্ডি ছাড়িয়ে দাওয়া, দাওয়া ছাড়িয়ে উঠান, উঠান ছাড়িয়ে না জানি আরো কত দূরে বিস্তৃত হয়ে পড়েছে মত্স্যগন্ধার দেহনিঃসৃত সুরভি! কালী একবার বলেছিল—তার দেহ সুরভি নাকি যোজনব্যাপী বিস্তৃত হবে। এ নাকি মুনির আশীর্বাদ। একটা ঘটনা তো তাদের আগেই বিস্মিত করেছে। কালীর শরীর থেকে মাছের গন্ধ একেবারেই তিরোহিত হয়ে গেছে। এখন দ্বিতীয় ব্যাপারটি তাকে বিহ্বল করল। গোট বাড়ির চৌহদ্দি মনোহর পুষ্পগন্ধে আমোদিত হচ্ছে।

কিন্তু ভুসুকু পাগলা বুঝল কী করে, এ সুবাস কালীর শরীর থেকে বের হচ্ছে? গন্ধের ব্যাপারটা না হয় সে শুঁকে বুঝেছে, কিন্তু উত্সস্থলের আন্দাজটা সে করল কী করে! কী জানি বাপু! কোনটার সঙ্গে কোনটা মিলিয়েছে ভুসুকু! ভবানী ভাবে, কিন্তু বিশ্বাস্য কোনো যুক্তি খাড়া করতে পারে না।

উঠানজুড়ে বাহু তুলে নেচে যাচ্ছে ভুসুকু। মাঝেমধ্যে চিত্কার করে বলছে—‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। ফুলের গন্ধে...।’

এই সময় কালীর বাপও ঘরে নেই। ফেরিঘাটে গেছে। ওই ঘটনার পর নৌকা পারাপার বন্ধ। এতে পারকামীদের যেমন অসুবিধা, তার চেয়ে বেশি অসুবিধা সিন্ধুচরণের পরিবারের। পরিবার যে আর চলে না! আয় বন্ধ তো রান্না বন্ধ। বাধ্য হয়ে সিন্ধুচরণ বৈঠা হাতে তুলে নিয়েছে। যদি দুই কড়ি ঘরে আসে! আজ সকালেই কালীর বাপ ঘাটে চলে গেছে। এখন এই পাগলাকে সামাল দেবে কে?

: অ সর্দার বউ, অ রানি মা! ঘটনাটা কি ঠিক! মাছ নাকি ফুল হয়ে গেছে! থোকা থোকা ফুল! ঝাঁকে ঝাঁকে সুগন্ধ!’ ভুসুকু কোমর দোলায় আর বলে।

ভবানী বোবা, পাথর যেন। এ রকম অবস্থায় কী করতে হয় জানে না ভবানী। এ রকম পরিস্থিতিতে কোনো দিন পড়েনি সে। মাঝে সাঝে যা সামান্য সামাজিক ঝঞ্ঝাট হয়েছে, দাশরাজা কালীর বাবা তা মিটিয়েছে। দাশরাজার স্ত্রী হিসেবে ভবানীর অবস্থান এমন যে দাশপাড়ার কেউ, শুধু দাশপাড়ার কেন, কুমোরপাড়ার, কামারপাড়ার, তাঁতিপাড়ার কেউই তার সামনে দাঁড়িয়ে দুই কথা বলার সাহস করেনি। আজ ভুসুকু তা করছে। ও পাগল বলেই এসব কথা বলার সাহস করছে। পাগলের তো হিতাহিত বোধ নেই। বউয়ের আত্মহত্যার পর ও একেবারেই বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেছে।

কিন্তু এখন কী করে সামাল দেয় ভবানী! ওর মুখ যদি এখনই বন্ধ না করে সে, তাহলে পাড়াময় ঘুরে ঘুরে এসব কথা বলে যাবে ভুসুকু। যে কথাটা আঁচলের তলায় লুকিয়ে রেখেছে, তা যে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়বে! কী করি! কী করি এখন আমি!

ভাবতে ভাবতে একটা বুদ্ধি খেলে গেল ভবানীর মাথায়। ভবানী দ্রুত পায়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে গেল। শিগগির এক ধামা খই নিয়ে বেরিয়ে এলো। ভুসুকুর দিকে বাড়িয়ে ধরে কৃত্রিম মমতায় বলে উঠল, ‘আহারে ভুসুকু, তোমার যে এত খিদে পেয়েছে, বুঝিনি রে বাপ। খিদের চোটে সেই থেকে আবোল-তাবোল বকে যাচ্ছ! খাও বাবা, খাও। পেট ভরে খাও। মুঠো মুঠো খাও।’

ধা করে খইয়ের ধামাটা কেড়ে নিল ভুসুকু। ঝুপ করে মাটিতে বসে পড়ল। ডান হাতে, বাঁ হাতে খই মুখে পুরতে শুরু করল। ভুসুকুর মুখের কথা বন্ধ হয়ে গেল। ওই সময় ঘুপঘাপ ঘোঁতঘোঁত আওয়াজ শোনা যাচ্ছে শুধু। এ ভুসুকুর মুখ নিঃসৃত শব্দ রাশি।

দ্রুত এক ঘটি জল নিয়ে এলো ভবানী। ভুসুকুর মুখের কাছে ধরে বলল, ‘খা বাপ, জল খা।’

ভুসুকু ঘটিটির ওপর হামলে পড়ল। ঢক ঢক করে গলায় জল ঢালতে লাগল।

জল খাওয়া শেষ হলে খসখসে কণ্ঠে ভবানী বলল, ‘যখন তোর খিদে পাবে, চলে আসবি। যা খেতে চাস দেব।’

‘সত্যি রানি মা! দেবেন!’ খুশিতে আটখানা হয়ে জিজ্ঞেস করে ভুসুকু।

‘হ্যাঁ, দেব তো।’ ভেতরের ক্রোধ না দেখিয়ে ভবানী বলে।

‘তবে একটি শর্ত আছে।’ কণ্ঠস্বর কঠিন হয়ে উঠল ভবানীর।

‘কী শর্ত রানি মা। প্রতিদিন নাচ দেখাতে হবে তোমার উঠানে এসে?’ পাগল বলেই তার সম্মান জ্ঞাপন বোধের মাত্রাও বিলুপ্তপ্রায়।

‘পাগলামি রাখ এবার ভুসুকু।’ রূঢ় মুখে বলল ভবানী।

রানি মা ভবানীর হিসহিসানো গলা শুনে থমকে গেল ভুসুকু। ভয় খাওয়া চোখে ভবানীর দিকে তাকিয়ে থাকল।

নিজেকে সংযত করল ভবানী। কণ্ঠে আবার কোমলতা ঢালল। মিষ্টি একটু হাসলও। এক কদম সামনে এগিয়ে বলল, ‘শোন ভুসুকু, তুই যে গন্ধের কথা বলছিস, খিদে পেয়েছিল বলে তোর মনে হয়েছিল। আসলে গন্ধফন্ধ কিছু না। কালীর গা থেকে তো মাছের গন্ধ বের হয়, ফুলের গন্ধ আসবে কোথা থেকে! তুই ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিলি বলে এ রকম লেগেছিল।’ আগের বলা কথাটিকে আবার বলল ভবানী।

নাকটাকে ওপর দিকে তুলে শিয়ালের মতো জোরে জোরে বারকয়েক বাতাস টানল ভুসুকু। তারপর দুই হাতের ১০ আঙুল দিয়ে নাকটাকে বীভত্সভাবে ঘষে নিল।

বলল, ‘তা-ই তো। আরে তা-ই তো! এখন তো আর ফুলের গন্ধ পাচ্ছি না।’

‘এই তো বুঝতে পেরেছিস বাপ। পুষ্প গন্ধটন্ধ কিছুই না। ক্ষুধা। ক্ষুধাই তোর সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।’

ভবানীর কথা শুনে ঝিমিয়ে পড়ল ভুসুকু। এই সময় ভবানী বলল, ‘এসব ফুলের গন্ধের কথা আর কাউকে বলিস না কখনো। তাহলে যা খেতে চাইবি, খেতে দেব।’

ঠাস ঠাস করে দু-হাত দিয়ে নিজের দুই গালে চাপড় খেতে শুরু করল ভুসুকু। ‘আর না রানি মা। কখনো না। কাউকে বলব না। কিছুতেই বলব না।’

‘তাহলেই খাবার পাবি।’ বলল ভবানী।

‘তা রানি মা, কালী কোথায়? তাকে যে অনেক দিন ধরে দেখছি না!’

ভুসুকুর এই প্রশ্নের কী উত্তর দেবে, তাত্ক্ষণিকভাবে ঠিক করতে পারল না ভবানী।

►  চলবে



মন্তব্য