kalerkantho


কলম্বাস পাতাটি হারিয়ে ফেলিছেলেন

জাহেদ মোতালেব

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কলম্বাস পাতাটি হারিয়ে ফেলিছেলেন

অঙ্কন : মানব

বাবা আমাকে কখনো কোনো গল্প বলেছেন কি না মনে পড়ছে না। তিনি কখনো রবিনসন ক্রুসো, কলম্বাস, ভাস্কো দা গামা কিংবা দেশের কোনো নাবিকের কথাও বলেননি। আমাকে পড়ালেখা করাতেও চাননি। বলতেন, পরালেখা করি কী অইবু? কিন্তু মা বললেন, না, তা হবে না। আমার ছেলেকে পড়ালেখা করাব। পড়ালেখা হলো চোখ। চোখ না থাকলে চলবে কী করে!

সেই চোখ দিয়েই সন্ধ্যায় টেলিভিশনে দেখলাম, গভীর সমুদ্রে বিক্ষুব্ধ ঢেউ। ঢেউয়ের তালে নাচছে আগেরকালের পালতোলা কয়েকটি জাহাজ। মনে হলো, এগুলো কলম্বাসের জাহাজ। মামার গল্পে এ রকম দৃশ্য হয়তো ছিল।

সন্ধ্যা আমার চারপাশে ঝাপসা স্বপ্নের মতো কিছু কুয়াশা ছড়িয়ে দিল। কুয়াশায় হারিয়ে যেতে যেতে মনে পড়ল, মামার সঙ্গে আমার দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার কথা ছিল।

মাঝেমধ্যে মনে হয়, স্বপ্ন ও বাস্তবের মধ্যে আসলে কোনো পার্থক্য থাকে না। একটা কক্ষ। কক্ষের ডান পাশে ধানের ডোল। বাঁ পাশে নড়ছে একটা তেনা। তেনার পেছনে আমি। কে যেন বলল অথবা কোনো কারণে বুঝে নিলাম তেনার ভেতর একটা সাপ। সাপটা নড়ছে; কিন্তু বেরোতে পারছে না।

আমি যাচ্ছিলাম টয়লেটে। ভুলে এসে গেলাম এই ঘরে। দাঁড়িয়ে আছি। পা নড়ছে না। সাপটা কাপড়সহ গড়িয়ে ডোলের নিচে লুকাল।

স্বপ্নটা দেখার পর ঘুম ভেঙে গেল। কয়েকটি মসজিদ থেকে মাইকে ভেসে আসছে ফজরের আজান। একজনের কণ্ঠ খুব সুরেলা। কেমন বিষণ্ন করে দেয়। ইচ্ছা হলো, মসজিদে যাই। তখন মনে পড়ল, আমি হাঁটতে পারি না। দুই চোখ বেয়ে পানি ঝরে। বিছানার পাশেই জানালা। কান্না চাপতে জানালা খুলে ভোরের আলো দেখি। একঝলক বাতাস এসে চোখের পানিতে গলে যায়। আমিও গলে যাই।

মা ঠেলেঠুলে বিএ পর্যন্ত নিয়েছেন। বিএ পাস করতে পারিনি। এখন আমার বয়স চল্লিশ। এ বয়সে অচল হয়ে বসে আছি। প্রায় দুই বছর হলো আমার স্ট্রোক হয়েছে। ডান হাত ও পা প্যারালাইজড। শরীরে শক্তি এসেছে; কিন্তু নিয়ন্ত্রণক্ষমতা এখনো আসেনি। ডাক্তার অনেক ব্যায়াম দিয়েছেন। ব্যায়াম করছি; কিন্তু কাজ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। মাথার ডান পাশ, হাত, ডান পা সব সময় ভার থাকে।

ডাক্তার নিতাই বলেছেন, মস্তিষ্কের যে জায়গা থেকে শরীরের সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হয়, সেখানেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা নাকি রেয়ার। নিয়ন্ত্রণক্ষমতা কবে ফিরে পাব তিনি জানেন না।

হাসপাতালে ছিলাম প্রায় ২০ দিন। ওখান থেকে আসার পর একদিন মামা দেখতে এলেন। বললেন, শোন, কিছু বিষয়ে ঘৃণা থাকতে হয়। তাহলে কিছু বিষয়ে ভালোবাসা গাঢ় হয়। ঘৃণা না থাকলে স্বাধীনভাবে বাঁচা যায় না।

আমার মধ্যে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা বাড়ানোর জন্যই কি মামা এ কথা বলেছিলেন? হয়তো চেয়েছিলেন অচলতাকে ঘৃণা করি। সচল হই। বাবা যখন পড়ালেখা না করানোর কথা বলছেন, মামা তখন ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখান থেকে বাবাকে চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে লিখলেন : দুলাভাই, নেলসন ম্যান্ডেলা কী বলেছিলেন জানেন? তিনি বলেছেন, শিক্ষা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যার মধ্য দিয়ে বদলে ফেলা যায় পৃথিবীকে। উনি যেমন-তেমন লোক নন। দেশের জন্য সাতাশ বছর জেল খেটেছেন।

চিঠি পড়ে বাবা গজরাতে গজরাতে আপন মনে কী বলেছিলেন এখন আর মনে নেই।

মনে পড়ল মামার চিঠির একটা লাইন। চিঠিটা বাবা ফেলে দিয়েছিলেন। মেঝে থেকে কুড়িয়ে নিয়েছিলাম। শেষ লাইন ছিল : মোরশেদা, আনিসকে পড়ালেখা করাতেই হবে।

মোরশেদা আমার মা। একটু আগে ঘুমিয়েছেন।

যে কোনো কিছুতে ভীত নয়, সে নয়; বরং যে ভয়কে জয় করে সেই হচ্ছে প্রকৃত সাহসী। কথাটা কি মামার চিঠিতে ছিল, নাকি অন্য কোথাও পড়েছি, মনে পড়ছে না। কিন্তু আমার খুব ভয় করে। যে হাঁটতে পারে না, অচল, তার সবই তো হারিয়ে যাওয়া। সেখান থেকে আর কখনো ফিরে আসতে পারব? আমার খুব কষ্ট হয়। কান্না হয় ভেতরে।

শেষবার যখন আফ্রিকা থেকে এলেন, তখন আমি টেনে পড়ি। দেশে আসার পরের দিন মামা এলেন আমাদের বাড়ি। রাতে খাওয়াদাওয়া করলেন। থাকলেন আমার সঙ্গে এক বিছানায়। তাঁর কথা কিংবা গল্পের তো কোনো শেষ নেই। সমুদ্রপথে একবার চব্বিশ ঘণ্টার একটা জার্নি ছিল। জীবনের স্মরণীয় সমুদ্রযাত্রা। সেবার নাকি তিনি সমুদ্রকে চিনেছিলেন।

সমুদ্রযাত্রার কথা থেকে ভাস্কো দা গামার কথা উঠল। বললাম, তাঁর কথা তো পড়েছি।

মামা বললেন, সমুদ্রপথে ও প্রথম ইউরোপ থেকে ভারতে আসে। আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ভারত মহাসাগরে ঢোকে। সেদিক থেকে সে পশ্চিমের সঙ্গে পুবের সেতুবন্ধ গড়ে তোলে। কিসের সেতু, জানিস? থাক, এখন বলব না। ভাবতে থাক। বলে তিনি হাসেন।

দ্বিতীয় সমুদ্রযাত্রার সময় মাদায়িতে কালিকট থেকে মক্কায় যেতে থাকা একটি জাহাজ আটক করে গামা। জাহাজে ছিল চার শ যাত্রী। এর মধ্যে পঞ্চাশজন মহিলা ও একজন মিসরীয় রাষ্ট্রদূত ছিলেন। গামা জাহাজে লুটপাট চালায়। মহিলারা তাদের সন্তানদের প্রাণভিক্ষা চাইছিল। কিন্তু সে কাউকে নিষ্কৃতি দেয়নি। সবাইকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেয়।

গামা আর কী করেছে, জানিস? কিছু ভারতীয় জাহাজ আটক করে কর্মীদের হাত, কান ও নাক কেটে দেয়। তারপর রাজা জামরিনের কাছে পাঠায়। একবার তো একজনের কান কেটে সেই জায়গায় কুকুরের কান লাগিয়ে দেয়।

বাইরে কুকুর ডাকে। মামা বলেন, যারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করে, তাদের পূর্বপুরুষরা কী ছিল, ভেবে দেখ।

আমি হয়তো ঘুমের কবলে। ধাক্কা মেরে জাগিয়ে দিয়ে ক্রীতদাসের কথা বলেন। ক্রীতদাস থেকে কলম্বাস। মামা কলম্বাসের সাগরযাত্রার কথা বলতে শুরু করেন।

ঝিমুনি তো তখন লাইনচ্যুত ট্রেন। আমি স্তব্ধ হয়ে আছি। মামা যেন রাতের সঙ্গেই কথা বলছেন : গভীর আর অফুরন্ত সাগর। ওরা যাত্রা করেছে। ওদের তিনটি জাহাজ ঢেউয়ের দোলায় দুলছে। ঢেউয়ের পর ঢেউ উঠছে, নামছে। ঢেউয়ে ঢেউয়ে কত কথা! কে তার ইশারা পায়! কলম্বাস কী পেয়েছিল! ওর সঙ্গীরা কিছু বুঝতে পেরেছিল?

কলম্বাস তাকিয়ে আছেন দূর জলরাশির দিকে। সূর্যের আলো পড়ে সেখানে চিকচিক করছে। তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। চোখ বন্ধ করে তিনি কী ভাবছেন?

মোটা, থলথলে চর্বি ভরা একটা লোক। শুধু চোখ দুটি ধারালো। সেই চোখে সে দেখেছে সম্পদ। আদিম কোনো প্রবৃত্তি তার চর্বির মধ্যে হয়তো নেচে উঠেছে। না হয় ঘর ফেলে কেন সে অজানার উদ্দেশে যাত্রা করবে?

ধীরে ধীরে এগোচ্ছে জাহাজ। কাঠের জাহাজ। পালতোলা জাহাজের রশিতে হাত দিয়ে সে দাঁড়িয়ে দেখছিল সাগরের মতিগতি। হঠাৎ অবাক হয়ে তাকাল। তার বুকে ধুকপুক। দেখল, পানিতে ভাসছে একটা পাতা।

ধুকপুকানির মধ্যে আমরা শুনে নিই আরেকটি গল্প। সেই গল্পও বলেছিলেন মামা। তিনি আফ্রিকা থেকে একেবারে এসে গেছেন। তখনো বেঁচেছিলেন প্রিয় নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। অবসর জীবন যাপন করছেন। আমি তখন বিএ ফেল করে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করছি। মা হা-হুতাশ করছেন।

মামা সুযোগ পেলেই ম্যান্ডেলার কথা বলেন। মামাবাড়িতে গেলে দেয়ালে বড় বড় অক্ষরে লেখা নেতার কথা পড়ি : আমি সাদাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমি কালোদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছি...

মামা বলেন, রোহিঙ্গা আর ফিলিস্তিনিদের দেখ, সিরিয়া, ইরাক, আফ্রিকাকে দেখ; তাহলে বুঝবি সময়টা নৃশংসতা আর ঘৃণার, নরমকে পিষে ফেলার, সরলকে বাঁকিয়ে দেওয়ার। দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাতে সাপের ফণা দেখিয়ে বলেন, দুনিয়া বিগ স্নেকদের দখলে।

কলম্বাসের সাগরে ভাসার প্রায় দুই মাস আগের ঘটনা এটা। একটা দ্বীপদেশ আছে। সেই দেশের মানুষ খুব নরম মনের, আর ভালোবাসাময়।

সেই দেশ কোথায় ছিল তা জানত না পৃথিবীর অনেক মানুষ। সেখানকার দুই প্রেমিক-প্রেমিকা; তারা প্রেমে পড়েছে অনেক দিন; কিন্তু প্রকাশ করতে লজ্জা পাচ্ছিল। একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে তাদের দেখা হয়। তারা দৌড়ে সাগরপারে যায়। বৃষ্টিতে তাদের লাজ ভেঙে যায়।

সাগরের পারে গিয়ে দেখে, মন খুলে গেছে। একজন আরেকজনের ভেতরটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। তারা একে অপরের দিকে গভীরভাবে তাকায়। তাদের মনে হয়, একজনকে ছাড়া আরেকজন বাঁচতে পারবে না। উহ! কী গভীর আকুলতা। মনে যে অনেক কথা জমা আছে।

ছেলেটা মেয়েটার আর মেয়েটাও ছেলেটার হাত ধরল। ছেলেটা মেয়েটাকে বলল, আরেকটু কাছে আসো। মেয়েটাও ছেলেটাকে বলল, আরেকটু কাছে আসো।

ওরা কাছে এলো। একজন আরেকজনের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনছে, গায়ের ঘ্রাণ পাচ্ছে। ছেলেটার ভেতরে কী যে হলো, সে করল কী—মেয়েটার ঠোঁটে এঁকে দিল সাগরের বড় ঢেউয়ের মতো ভালোবাসা। সেই ঢেউয়ে মিলিয়ে গেল মেয়েটা। এরপর দুজনেই মিলে গেল সাগরের সঙ্গে। সাগরের বিশালতা টের পেল। তাদের চোখমুখে বিশালতার আবেশ।

ওরা একজন আরেকজনকে ছাড়ল না। বুঝতে পারল, এক হওয়ার মধ্যে সুখ আছে। একা থাকার চেয়ে তা অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী।

হঠাৎ মেয়েটার নজরে পড়ল, বালির ওপর অবহেলায় পড়ে আছে একটি পাতা। সে পাতাটা হাতে নিল। টিয়ে পাখির মতো সবুজ তার রং। পাতাটা কোন গাছের, চেনে না। পাতায় হাত বোলাল, মুছে দিল বালি।

ছেলেটা হাত বোলাল মেয়েটার হাতের পিঠে। দুজন দুজনের দিকে তাকাল। তারপর হাসল। একটা ঢেউ তাদের পায়ের ওপর আছড়ে পড়ল। নিজেদের মনে হলো সমুদ্রের মানব-মানবী। এবার মেয়েটা ছেলেটাকে চুমো খেল। সে নুনের গন্ধ পেল ছেলেটার ঠোঁটে। তার মনে হলো, এই ঠোঁট হয়তো সাগরের মতো।

মেয়েটা বলল, আহা পাতা! বড় একা। গাছ থেকে পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার এখন কেউ নেই।

ছেলেটা বলল, এক কাজ করো, ওটাকে ভাসিয়ে দাও। ও আর একা থাকবে না।

পাতার উদ্দেশে হাওয়ায় একটা চুমো উড়িয়ে দিল মেয়েটা। তারপর ভাসিয়ে দিল সাগরের জলে। হাত ধরাধরি করে তারা চলে গেল বাড়িতে।

এদিকে জাহাজ থেকে কলম্বাস দেখল, ঢেউয়ের সঙ্গে দুলছে একটি পাতা। পাতাটা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিল এক নাবিককে। কোমরে রশি বেঁধে নাবিক লাফ দিল সাগরে। সে অনেক কসরত করে; কিন্তু পাতাটা ধরতে পারে না। বাঁয়ে হাত দিলে পাতাটা ডানে যায়, ডানে হাত দিলে বাঁয়ে যায়। ওপর থেকে রেগেমেগে কলম্বাস বলে, ইফ ইউ ফেইল, আই উইল কিল ইউ।

সেই মুহূর্তে রশির গিঁট খুলে যায়। সাগরে হাবুডুবু খায় নাবিক। ঝাঁপ দিয়ে কলম্বাস নাবিক ও পাতা দুটিই উদ্ধার করে।

জাহাজে উঠে কলম্বাস পাতাটা ভালো করে দেখল। একবার আকাশের দিকে তাকাল। বিষণ্ন মেঘ। কেমন ঝিমঝিম সন্ধ্যা। সে পাতাটা শুঁকল। আশ্চর্য এক গন্ধ। এ কিসের গন্ধ? সে নিশ্চিত নয়। পাতার দিকে তাকাল। দেখে মনে হলো, সামনে কোথাও দ্বীপ কিংবা বসতি আছে। আশায় মনটা পূর্ণ হলো। নাবিকদের জানাল সেই কথা। উৎসাহে সবাই চিত্কার করল। ভালো করে খাওয়াদাওয়া হলো। অনেকে মাতালও হলো।

কলম্বাস করল কী, সাগরে ভাসার সময় যেদিকে মুখ ছিল ওই পাতার, সেদিকে জাহাজ চালানোর নির্দেশ দিল।

জাহাজ চলছে। কয়েক দিন পর এক সকালে ঘুম থেকে উঠে কলম্বাসের মনে হলো, ওই দূরে তীর দেখা যাচ্ছে। সে ভালো করে তাকাল। লাফিয়ে উঠল। বন্দুকটা হাতে নিয়ে ছুড়ল গুলি। গুলির শব্দে সবাই সচকিত। তাদের কাছাকাছি ছিল আরেকটা জাহাজ। সেই জাহাজের নাবিকরাও মনে হয় তীর দেখেছে। তারাও গুলি ছুড়ল।

জাহাজ এগোচ্ছে। ভূমির আভাস দেখা যাচ্ছে। ওরা নাচছে, গুলি ছুড়ছে।

আনন্দের প্রথম ধকল যাওয়ার পর কলম্বাস পকেটে হাত দেয়। পাতাটা ওখানেই রেখেছিল। এই পকেট, ওই পকেট—সব পকেট হাতড়ায়; কিন্তু কোথাও খুঁজে পায় না। গেল কোথায় পাতাটা? তবে খুঁজে পেয়েছিল অশেষ সম্পদ আর মানুষ। সেই মানুষদের তারা নিয়ে আসে।

অধিবাসীদের জাহাজে তোলা হচ্ছে। ওদের মধ্যে সাগরপারে প্রথম চুমো খাওয়া তরুণ-তরুণীও আছে। তত দিনে তারা স্বামী-স্ত্রী। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। তাদের হাত পেছনে বাঁধা। জাহাজে তোলার সময় মেয়েটি দেখল, পানিতে ভাসছে একটা ছেঁড়া পাতা। সে চিনতে পারল এটি ওই পাতা। পাতাটা হয়তো তাদের কিছু বলার জন্যই তীরের কাছে এসেছিল। তার বুকটা মুচড়ে উঠল। সে আস্তে করে বসে পেছনে বাঁধা দুই হাতের তালুতে পাতাটা নিল।

এ সময় এক শ্বেতাঙ্গ এসে তাকে চাবুকের বাড়ি মারে। আঘাতে জর্জরিত শরীর। ডান স্তন কেটে রক্ত ঝরছে। বুক ফেটে কান্না আসছে। কান্না আর চাপতে পারে না। চোখের পানি সাগরের পানির সঙ্গে মিশে যায়।

নিজ দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় মেয়েটি শুধু ওই পাতাটিই নিতে পেরেছিল।



মন্তব্য