kalerkantho


বিশ্বসাহিত্য

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নেইল সিমন

নাট্যকার সিমন আর নেই

পুলিত্জার পুরস্কারজয়ী মার্কিন নাট্যকার নেইল সিমন আর নেই। নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভুগে গত ২৬ আগস্ট নিউ ইয়র্কের প্রেসবাইটারিয়ান হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। সিমনকে বলা হয় ‘কিং অব কমেডি’ বা কমেডির রাজা।  ৩০টির বেশি নাটক, ২০টি চিত্রনাট্য ও পাঁচটি গীতিনাট্য রচনাকারী সিমনকে টাইম ম্যাগাজিন ‘হাসির সন্ত পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে অভিহিত করে। সিমন যতগুলো অস্কার ও টনি মনোনয়ন পেয়েছেন, শোবিজজগতের কোনো লেখক তা পাননি। মঞ্চ ও চিত্রনাট্য উভয়ের মধ্য দিয়ে সিমন ১৯৬০-এর দশকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। ওই সময়ে তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে ‘দ্য অড কাপল’ ও ‘বেয়ারফুট ইন দ্য পার্ক’ ছিল উল্লেখযোগ্য।  তিনি ১৯৯১ সালে ‘লস্ট ইন ইয়ংকারস’ নাটকের জন্য পুলিত্জার পুরস্কার পান। সিমনের বেশির ভাগ কাজেই মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন সংগ্রাম ও পারিবারিক সংঘাত উঠে এসেছে, যে সংগ্রামের ভেতর দিয়ে তাঁর নিজেকেই আসতে হয়েছে মহামন্দার দিনগুলোতে। ১৯২৭ সালের ৪ জুলাই ব্রনস্কে জন্ম নেওয়া সিমন বেড়ে উঠেছেন ম্যানহাটানের উত্তর দিকে। তাঁর ‘দ্য সানরাইজ বয়েজ’ নাটকটিও সমালোচকদের আকৃষ্ট করেছে। তাঁর নাটক অবলম্বনে ‘দ্য গুডবাই গার্ল’ নামে হলিউডে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যা সেরা অভিনেতার অস্কারও জয় করে। ‘দ্য অড কাপল’ অবলম্বনেও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

হারুকি মুরাকামি

নোবেলের বিকল্প : তালিকায় মুরাকামি

যৌন কেলেঙ্কারির জেরে এ বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার স্থগিত করার পর সুইডিশ একাডেমি যখন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে লড়াই চালাচ্ছে, তখন সুইডেনের লেখক-বুদ্ধিজীবীসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শতাধিক কর্ণধার মিলে নোবেলের বিকল্প এবং এর সমমর্যাদার একটি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন। তাঁরা একটি নতুন একাডেমি গঠন করেন এবং সুইডিশ লাইব্রেরি ও প্রধান প্রধান লেখক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত লেখকদের নাম আহ্বান করেন। সেই মতে, ৪৭ জন লেখক নির্বাচিত করে পাবলিক ভোট আহ্বান করা হয়। এবং অভিজ্ঞ জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তে পুরস্কারের জন্য মনোনীত চার লেখকের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকার লেখকরা হচ্ছেন—ব্রিটিশ লেখক নেইল গাইম্যান, জাপানের হারুকি মুরাকামি, ফ্রান্স নিয়ন্ত্রিত ক্যারিবীয় দ্বীপ গুয়াদেলুপে জন্ম নেওয়া মেরিস কোদেঁ এবং ভিয়েতনামে জন্ম নেওয়া ও কানাডায় বেড়ে ওঠা কিম থুই।

নোবেল পুরস্কারের চিরায়ত সময়সূচি অনুযায়ী অক্টোবরে পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। ডিসেম্বরে পুরস্কার প্রদান করার পর নতুন একাডেমিও বিলুপ্ত করা হবে। কারণ আগেই সুইডিশ একাডেমি ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, ২০১৯ সালে একসঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হবে।

 

কেভিন জ্যারেড হোসেন

কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজ জিতলেন কেভিন জ্যারেড হোসেন

ত্রিনিদাদের ক্রিওল ভাষায় লেখা গল্প জিতে নিয়েছে এ বছরের কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজ। কেভিন জ্যারেড হোসেনের গল্পটির নাম ‘প্যাসেজ’। ত্রিনিদাদের প্রত্যন্ত অনাবাদি এলাকায় বসবাসরত এক পরিবারের মৃত শিশু দাহ করার সত্য ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে হোসেন এ গল্প লেখেন। ঘটনাটি হোসেন শোনেন ১৫ বছর বয়সে। হোসেনকে ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং সার্বিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি সাইপ্রাসে এক অনুষ্ঠানে হোসেনের হাতে পুরস্কারের পাঁচ হাজার পাউন্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি এই পুরস্কারে ক্যারিবীয় অঞ্চলের সেরা নির্বাচিত হন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর লেখকদের অপ্রকাশিত গল্পের ওপর এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর ৪৮টি দেশ থেকে বাংলা, চীনা, ইংরেজি, মালয়, পর্তুগিজ, সামোয়ান, সোয়াহিলি, তামিলসহ বিভিন্ন ভাষার পাঁচ হাজার ১৮২টি গল্প জমা পড়ে পুরস্কার কমিটির কাছে। এ যাবৎ কেভিন জ্যারেড হোসেনের তিনটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘দ্য বিস্ট অব কুকুইয়ো’ উপন্যাসটি ক্যারিবীয় সাহিত্যের বার্ট অ্যাওয়ার্ড জয় করে। এ বছর অন্যান্য অঞ্চল থেকে যেসব গল্প কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি বিজয়ী হয়েছে সেগুলো হচ্ছে—আফ্রিকা থেকে নাইজেরীয়-জার্মান লেখক এফুয়া ট্রায়োরের ‘ট্রু হ্যাপিনেস’, প্যাসিফি অঞ্চল থেকে সামোয়ার জেনি-বেনেট টুইয়োনেটোয়ার ‘ম্যাটালাসি’, ইউরোপ ও কানাডা অঞ্চল থেকে ব্রিটেনের লিন্ডা ক্লার্কের ‘গিলিস মাম’।

রিয়াজ মিলটন



মন্তব্য