চারদিকে শুধু পানি। কোথাও বুকসমান, কোথাও গলা ছুঁই ছুঁই। প্রবল স্রোতে ডুবে গেছে পাহাড়ি জনপদের চলাচলের পথ। কোনো কোনো ঘরের চাল পর্যন্ত উঠে এসেছে বন্যার পানি। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি মানুষের অনেকের ঘরে নেই পর্যাপ্ত খাবার, বন্ধ হয়ে গেছে কাজকর্ম। এমন দুর্যোগের মধ্যেই দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বন্যার্ত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তা নিয়ে পৌঁছেছেন বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকেরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম মেরিংচর পাড়ায় বন্যাদুর্গত বেশকিছু পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা শাখা।
যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই পাহাড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকেরা নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মেরিংচর পাড়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংগ্রহ করা অনেক পরিবারের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন।
ত্রাণ পেয়ে স্বস্তির কথা জানান উপকারভোগীরা। এক বন্যার্ত ব্যক্তি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আমরা পানিবন্দি। কাজকর্ম বন্ধ, আয়-রোজগার নেই। বন্যায় ফসলও নষ্ট হয়ে গেছে। এমন কঠিন সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সহজ কাজ নয়। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকেরা ঝুঁকি নিয়েই মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের মতে, সংকটের এই সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
ত্রাণ বিতরণকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ আলীকদম উপজেলা শাখার সভাপতি এস. এম. জিয়াউদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই বসুন্ধরা শুভসংঘের মূল লক্ষ্য। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এটি আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। যত দিন প্রয়োজন হবে, তত দিন আমরা অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব। সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদেরও মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’
ত্রাণ বিতরণে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শাখার উপদেষ্টা নুরুছাফা ভূঁইয়া বাবু, সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, সদস্য আরাফাতুল ইসলাম, সেথং ম্রো, মেনচং ম্রোসহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক।
খাদ্যসহায়তা বিতরণের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরা বন্যাকবলিত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিরাপদ পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও বন্যাকালীন বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন।
স্থানীয়দের আশা, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষও যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বন্যাকবলিত পরিবারগুলো দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। আর এমন মানবিক উদ্যোগই দুর্যোগের সময় মানুষের মনে আস্থা ও সাহস জোগায়।





