kalerkantho

বেশির ভাগ পথচারী যাত্রী চালক গাছাড়া

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেশির ভাগ পথচারী যাত্রী চালক গাছাড়া

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ প্রতি শনিবার ট্রাফিক সচেতনতা দিবস পালন করে। জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারীদের সড়ক পারাপারে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা। ছবি : রবি শংকর

দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। দিনে গড়ে ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সড়কে। রাজধানী ঢাকার পর গতকাল শনিবারও চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করছে। একই সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত প্রতি শনিবার ট্রাফিক সচেতনতা দিবসও পালন করেছে। এই দিনে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দেখা গেল সড়কে পথচারী, যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সচেতন করতে।

সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কের জেব্রা ক্রসিং বাদ দিয়ে যেখানে সেখানে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। কারো কারো কানে মোবাইল ফোন। সড়কের পাশের ফুটপাতে হকাররা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে ফুটপাত দখল করায় বাধ্য হয়ে পথচারী হাঁটছেন সড়কে। যেন পথচারী ও গাড়ির জন্য একটিই সড়ক। সেই সড়কে পথচারী, রিকশা, ঠেলাগাড়ি ও দ্রুত গতির গাড়ি-সবই চলছে।

এরই মধ্যে নগরের মোড়ে মোড়ে দেখা গেল ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বপালন করছেন। হাতে সিগন্যাল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছেন যানবাহন। কিন্তু সেদিকে খুব বেশি ভ্রুক্ষেপ নেই পথচারী, যাত্রী কিংবা গাড়ি চালকদের। যে যার মতোই চলছেন পথ। যেন পুরো পথটি তাঁদের বিচরণক্ষেত্রে। যেখানে নিয়মনীতি মেনে চলার বালাই নেই। অথচ এই ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে সড়কে। এই কারণে ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করছে ট্রাফিক পুলিশ।

গতকাল শনিবার নিউমার্কেট ও টাইগারপাস মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে সচেতনামূলক কার্যক্রম চালায় ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ ব্যস্ত ছিলেন পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং দিয়ে সড়ক পার হওয়ার অনুরোধ জানাতে কিংবা হাত ধরে জেব্রা ক্রসিং পার করিয়ে দিতে। আবার কেউ বা ব্যস্ত ছিলেন গাড়ির কাগজপত্র তল্লাশি করতে।

নগর ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) হারুন-উর-রশিদ হাযারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের নির্দেশে প্রতি শনিবার ট্রাফিক সচেতনতা দিবস পালন করে ট্রাফিক পুলিশ। এর বাইরে চট্টগ্রাম নগরীতে চলতি সপ্তাহে ট্রাফিক সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত ট্রাফিক সপ্তাহ চলবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পথচারীরা কম সচেতন। তাই জেব্রা ক্রসিং অনুসরণ করেন না সড়ক পারাপারের ক্ষেত্রে। আবার চালকরা বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয় গাড়ি। এসবের মূল কারণ অসচেতনতা। তাই সর্বাগ্রে সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করে তোলার ওপর ট্রাফিক পুলিশ গুরুত্বারোপ করছে।’

যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষার ছবিটি টাইগারপাস এলাকা থেকে তোলা।               ছবি : রবি শংকর

‘এর পাশাপাশি যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশি করা হচ্ছে। অনেক গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। বেশ কিছু গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে।’-যোগ করেন হারুন-উর-রশিদ হাযারী।

নিউমার্কেট মোড় এলাকায় দেখা গেছে, উপ-কমিশনার হারুন-উর-রশিদ হাযারী নিজেই জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পথচারীকে সড়ক পার করিয়ে দিচ্ছেন। আবার গাড়ির কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছেন। এরই মধ্যে কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসের কাগজপত্র সঠিক মনে হয়নি ট্রাফিক পুলিশের। ফলে গাড়িগুলো ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়। এ সময় অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক পশ্চিম) নাজমুল হাসানসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

ইতোপূর্বে ২১ মার্চ নগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতারা। ওই সময় মতবিনিময় সভা হয় পুলিশের সঙ্গে।

সভায় ফুটওয়ার ব্রিজ ব্যবহার না করা, মোবাইল ফোন কানে দিয়ে কথা বলতে বলতে সড়ক পার হওয়া, ফুটপাতে দোকানপাট থাকা, স্কুল কলেজের সামনের সড়কে স্পিডব্রেকার না থাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনারোধে জনগণকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে হবে, সড়ক পারাপারের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা যাবে না, যত্রতত্র পার্কিং না করা, ফুটপাতে দোকান না বসানো এবং গাড়ির মালিক-চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি নগরবাসীকেও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসতে পারে।’

মন্তব্য