kalerkantho

বাসার দরজায় সোনা রেখে গেল চোর!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের তৎপরতার মুখে চোরের দল নিজেদের ধরা না দিয়ে সোনা রেখে গেছে বাসার দরজায়! ২১ মার্চ চুরি হওয়া সোনা বাসার দরজায় পাওয়া গেল ২৩ মার্চ ভোরে।

এতে বিস্মিত হন ওই বাসার বাসিন্দারা।  কী এমন শক্তি পুলিশের-যে তৎপরতায় চোরের দল বাসার দরজায় সোনা রেখে গেল! তবে চোর ধরা না পড়ায় প্রকৃত চোর রয়ে গেল অচেনা। আপাতত সোনা পেয়েই খুশি চুরির শিকার বাসার লোকজন।

সোনা চুরির ঘটনাটি ঘটেছে সদরঘাট থানার মোগলটুলী বারকোয়াটার এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী অনিমেশ রায় চৌধুরীর বাসায়। তাঁর ছেলে শিক্ষানবিশ আইনজীবী শুভ রায় চৌধুরীর বিয়ে হয় দুই মাস আগে। এরই মধ্যে ২১ মার্চ দিনে আইনজীবী শুভ রায় চৌধুরী দেখেন, বাসার দরজা ও আলমিরার তালা ঠিক আছে, কিন্তু আলমিরার ভেতরে রাখা নতুন বউয়ের গয়না নেই। চুরি যাওয়া গয়নার মধ্যে দুটি সোনার চেইন, দুটি নেকলেস ও পাঁচটি আংটিসহ ১৩ ভরি গয়না।

এর পরই তিনি সদরঘাট থানায় চুরির বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানের শুরুতেই সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জানতে পারেন, ওই বাসার লোকজন সামাজিক অনুষ্ঠান ও দাওয়াতে যাওয়ার সময় বাসার চাবি রেখে যান একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে। যে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ভালো। কিন্তু কয়েকদিন আগে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও অন্য একটি দাওয়াতে যাচ্ছেন-এমন অজুহাতে বাসার চাবি রাখতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ওসি নিজাম বলেন, ‘এর মধ্যে সোনা চুরির কোনো ক্লু প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া যায়নি।

তবে পরবর্তীতে পুলিশ সোনা উদ্ধারের নানামুখী তৎপরতা শুরু হলে ২৩ মার্চ সকাল কে বা কারা চুরি যাওয়া সোনা রেখে যায় অনিমেশ রায় চৌধুরীর বাসার দরজার কাছে। ভোরে বাসার লোকজন দরজা খুলে সেই সোনা পান।’

সদরঘাট থানার উপ-পরিদর্শক ইখতেয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চুরির রহস্য উন্মোচন ও সোনা উদ্ধারে পুলিশ নানামুখী তৎপরতা শুরুর পর ওই ভবনে গয়না পাওয়া যায়। ওই বাসার দরজা, আলমিরা অক্ষত ছিল। আলমিরার চাবি সাধারণত, যেখানে থাকে, সেখানেই ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছিল, বাসায় যাতায়াত আছে এমন কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে সোনা উদ্ধারের পর অনিমেশ রায় চৌধুরীর পরিবার কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হননি। এ কারণে, উদ্ধারকৃত সোনা তাঁদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’ সোনা উদ্ধারের পর ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘বাসার চাবি অন্য কারো বাসায় বা ব্যক্তির হেফাজতে দেওয়া উচিত নয়। কারণ, এতে চুরিসহ নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

মন্তব্য