kalerkantho

প্রথম বিয়ের কথা গোপন করায় ক্ষোভ

বাবুর্চি শামীমকে হত্যার দায় স্বীকার দ্বিতীয় স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেসবুকে প্রেমের সময় প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে ফেসবুক প্রেমিকাকে দ্বিতীয় বিয়ে করায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীর গলায় ছুরি চালিয়েছেন স্ত্রী। প্রথম দফা ছুরি চালানোর পর দ্বিতীয় দফা আবারও ছুরিকাঘাত করেন স্বামীর শরীরে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যান বগুড়ায়।

গত ১৬ জানুয়ারি বিকেলে নগরের পাহাড়তলী থানার আব্দুল আলী নগরের নেছারিয়া মাদরাসার সামনে প্রয়াত ইউসুফ মিয়া কলোনির একটি বাসা থেকে মো. শামীম (৩০) নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বাসিন্দা শামীম ছিলেন পেশায় বাবুর্চি। কর্মসূত্রে তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানার ডেবারপাড় এলাকায়। তাঁর সংসারে স্ত্রী সন্তান ও মা-বোন থাকত।

ঘটনার বিষয়ে পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ সদীপ কুমার দাশ বলেন, যে বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই বাসায় ঘটনার দিন সকালেই নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন তাঁরা। শামীম ও স্ত্রী আশা আক্তার স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসায় উঠার দিনই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর পুলিশ প্রথমে শামীমের পরিচয় নিশ্চিত করে। এরপর স্ত্রী আশা আক্তারকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানের সূত্র ধরে বগুড়া থেকে আশা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন। এরপর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সদীপ কুমার দাশ জানান, শামীম ফেসবুকে এক মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলত এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত চালিয়ে আশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আশা বগুড়ার ঠনঠনিয়া নতুন পাড়ার আবদুল আজিজের মেয়ে। এসএসসি পরীক্ষার্থী আশা বগুড়া শহরের একটি বায়িং হাউসে চাকরিও করেন।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আশা আক্তার জানান, ফেসবুকে পরিচয়ে সূত্র ধরে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় শামীম আগের বিয়ে ও সংসারের কথা অস্বীকার করেন। বিয়ের পর আশা আক্তার প্রথম বিয়ে ও সংসারের কথা জানতে পারেন। এ ছাড়া বিয়ের পর আশা আক্তার তাকে একটি টমটম কিনে দিয়ে বগুড়া থাকার জন্য বলেন। কয়েকদিন টমটম চালানোর পর শামীম চট্টগ্রামে চলে আসেন। পরে আশা আক্তারকেও চট্টগ্রামে আনেন।

চট্টগ্রাম আসার পথেই আশা আক্তার একটি ছোরা কিনে নিয়ে এসেছিলেন। এই ছোরা দিয়েই চট্টগ্রামের বাসায় উঠার দিনই শামীমকে খুন করেন। খুনের সময় শামীম ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন।

মন্তব্য