kalerkantho

সীতাকুণ্ডে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের ‘ডিফেন্স টিম’

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের ‘ডিফেন্স টিম’

সীতাকুণ্ডে ডাকাতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ চার ইউনিয়নে ‘ডিফেন্স টিম’ নামে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। কমিটিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১০০ জন সদস্য থাকবে। কমিটি সক্রিয় হলে ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ। এদিকে ডাকাতিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এখন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা গভীর রাতে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হানা দিয়ে অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ঘরে থাকা মূল্যবান সরঞ্জাম, টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ইত্যাদি লুট করছে। ডাকাতিতে বাধা পেলে বাড়ির লোকজনকে কুপিয়ে জখম থেকে শুরু করে হত্যাও করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় হঠাৎ ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। ডাকাতি প্রতিরোধ এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছি। সবাইকে প্রশাসন, মসজিদের ইমামসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ফোন নম্বর দিয়ে ডাকাতের অস্তিত্ব টের পাওয়ার সাথে সাথে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এলাকাবাসী এখন এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।’

মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন বাবু বলেন, ‘এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধে আমরা প্রত্যেক ওয়ার্ডে সভা করছি। রাত ১০টার পর থেকে এলাকা পাহারার ব্যবস্থা করেছি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘চুরি-ডাকাতি কেউ সমর্থন করে না। তবে ঘটনার পর যাঁরা পুলিশকে সাহায্য করতে যান অনেক সময় তাঁরাই উল্টো হয়রানির শিকার হন।’

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (অপারেশন) মো. জাব্বারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ডাকাতি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। প্রত্যেক এলাকার চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতাদের নেতৃত্বে ১০০ সদস্যের একটি করে দল গঠন করা হচ্ছে। ডিফেন্স টিম নামক ওই কমিটির সদস্যরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতি প্রতিরোধে কাজ করবেন। সার্বিক সহযোগিতা করবে পুলিশ।’ এই পদক্ষেপে ডাকাতি বন্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি।

এলাকাবাসী জানিয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর ডাকাত বাহিনীর হাতে খুন হন সীতাকুণ্ড পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি দাউদ সম্রাট। ৭ জানুয়ারি গভীর রাতে নিজ ঘরে ডাকাতদের হাতে খুন হন বাড়বকুণ্ডের বাসিন্দা সীতাকুণ্ড আলীয়া মাদরাসার শিক্ষক ইমরান হোসেন রিয়াদ। একই রাতে মুরাদপুর ইউনিয়নের ঢালিপাড়া এলাকায় দুটি ঘরেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ডাকাতি হয়েছে মুরাদপুর, বারৈয়াঢালা, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের একাধিক বাড়ি ও পৌর এলাকায়। পুলিশের তৎপরতা চললেও অজ্ঞাত কারণে ধরা পড়ছে না ডাকাতরা। এমনকি দাউদ সম্রাট হত্যার ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটলেও সেই ঘটনার মূল হোতা ডাকাত শহীদসহ অধিকাংশ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। একইভাবে বাড়বকুণ্ডে শিক্ষক হত্যার ঘটনায় জড়িত একজন গ্রেপ্তার হলেও অন্যরা গ্রেপ্তার হয়নি। সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ফেদাইনগর গ্রামে পুলিশ, শিক্ষকসহ তিনজনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় এক ডাকাতকে কুপিয়ে জখম করে এলাকাবাসী। এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।

মন্তব্য