kalerkantho


আনোয়ারায় গাড়িচালককে ট্রাফিক পুলিশের মারধর

থানায় মামলা, ৫ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



থানায় মামলা, ৫ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

আনোয়ারায় কাভার্ডভ্যান চালককে ট্রাফিক পুলিশের মারধরের পর উত্তেজিত জনতা-চালকের হাতে পুলিশবক্সে হামলা ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে। এতে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। আর ট্রাফিক পুলিশের অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যকে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

তবে ঘটনায় জড়িত ট্রাফিক পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয়দানকারী মুন্নার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চালক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আনোয়ারা থানা সূত্র জানায়, বুধবারের ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে পুলিশবক্সে ভাঙচুর, লুটপাট ও পুলিশের মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় আইয়ুব (২৭), মো. সাদ্দাম (২৬), জেবল  হোসেন (৪০), সেলিম (৩৬), মো. কাশেম সওদাগর (৪০), মো. কামাল (৩৫), মো. দুলাল (২৮), নুর কবির (৩০) ও মো. মোরশেদ (২৪) ছাড়াও অচেনা ৪০-৫০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘চৌমুহনী বাজারের সংঘটিত ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নুর কবির, যুবদল নেতা মো. কামাল, ছাত্রদল নেতা মোরশেদসহ কয়েকজনকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে তাঁরা ছিলেন না।’

জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে পাঁচ ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার জড়িত নয় এমন কাউকে পুলিশ হয়রানি করবে না।’ ট্রাফিক সোর্স মুন্নার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। রাস্তায় ট্রাফিকের সাথে আর সোর্স দেখা যাবে না।’

সরেজমিন দেখা যায়, এ ঘটনায় এখনো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি এবং স্থানীয় চালকদের মাঝে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, ওই ঘটনার পর অভিযুক্ত টিএসআই নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, এটিএসআই মো. জহিরুল ইসলাম, এটিএসআই নজরুল ইসলাম, এটিএসআই সৈয়দ আনোয়ারুল হক ও এটিএসআই মোশারফ হোসেনকে পুলিশ সুপারের এক আদেশে বৃহস্পতিবার তাত্ক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বেলা ১১টায় আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনীতে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই সৈয়দ আনোয়ারুল হক ও পুলিশের ‘সোর্স’ মুন্না চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাওয়া একটি কাভার্ডভ্যানের (ঢাকামেট্রো-ট-২২-৪৯৩৯) চালক মো. রুবেলকে থামার সংকেত দেন। গাড়ি থামানো হলে চালককে পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে কাগজপত্র তল্লাশিকালে দুপক্ষে তর্কাতর্কি এবং চালককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় ও চালকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।



মন্তব্য