kalerkantho


ভোটের রাজনীতি

নজর এবার আচরণবিধিতে ২৭ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচনী আচরণবিধির প্রতিপালনে এবার কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে চট্টগ্রামে জেলার জন্য বুধবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নিয়োগ পেয়ে তাঁরা কাজও শুরু করেছেন। কিন্তু এর মধ্যেও থেমে নেই সম্ভাব্য প্রার্থী কিংবা তাঁদের পক্ষে পোস্টার সাঁটানোর উৎসব। ১৪ নভেম্বরের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের পোস্টার-ব্যানারসহ সব নিজ খরচে অপসারণের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই বুধবার সকাল থেকে নগরজুড়ে নতুন নতুন পোস্টার দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম-১০ হালিশহর-পাহাড়তলী আসনে বুধবার সকাল থেকে নৌকার পক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির

উপকমিটির সহসম্পাদক কলিম উল্লাহ, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) পক্ষে মহানগর আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজাদ দোভাষের পোস্টার দেখা গেছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে পোস্টারগুলো লাগানো হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বুধবারের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচন সামগ্রী নিজ খরচে ও নিজ উদ্যোগে অপসারণের নির্দেশনা ছিল। সে লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পোস্টার-ব্যানার অপসারণের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এর মধ্যেও নগরের দেয়ালজুড়ে নতুন নতুন পোস্টার লাগিয়ে আচরণবিধি বুঝে না-বুঝে লঙ্ঘন করছেন কিছু নেতা।

জানতে চাইলে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা নিজ নিজ এলাকা ঘুরে এসেছেন। যাদের পোস্টার কিংবা ব্যানার চোখে পড়েছে তাদের ফোনে জানিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া বুধবার ২৭ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ফলে মনিটরিং আরও জোরদার হবে।’

নির্বাচনের দিন এক সপ্তাহ পেছানোর কারণে পোস্টার অপসারণের সময়ও তিন দিন বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে চট্টগ্রামে মাঠে নামছেন ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ১৬টি সংসদীয় আসনে এসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টি দেখাশোনা করবেন। বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ এই নিয়োগ দেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুরো চট্টগ্রামকে নগর ও জেলা-এই দুভাগে ভাগ করে ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরে এবং ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন উপজেলায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, সংসদ নির্বাচনের সময়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের সাজা দেবেন।

তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তাঁকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক দল লঙ্ঘন করলে তাদেরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে।



মন্তব্য