kalerkantho


আনোয়ারায় গাড়ির চালককে ট্রাফিক পুলিশের মারধর, সড়ক অবরোধ

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আনোয়ারায় গাড়ির চালককে ট্রাফিক পুলিশের মারধর, সড়ক অবরোধ

আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী বাজারে গতকাল বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

আনোয়ারায় কাভার্ডভ্যানচালককে ট্রাফিক পুলিশের মারধরের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিকবক্স ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১ টায় চাতরী চৌমুহনী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই সড়কে ২ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় স্থানীয় পুলিশ ও জনতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বেলা ১১ টায় চট্টগ্রাম শহরমুখী (ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৪৯৩৯) গাড়ি নিয়ে চালক মোহাম্মদ রুবেল (৩২) চাতরী চৌমুহনী বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক পুলিশের এসআই আনোয়ার ও তাঁর  সোর্স মুন্না গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। পরে তাঁকে ট্রাফিকবক্সে নিয়ে গিয়ে কাগজপত্র দেখাতে বলে। ওই সময় চালকের সাথে পুলিশের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও সোর্স মিলে চালককে মারধর শুরু করলে চালকের চিৎকারে আশপাশের চালক ও জনতা ছুটে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয়রা ও বিভিন্ন গাড়ির চালকেরা মিলে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ সদস্যরা স্থান  ত্যাগ করেন। আহত চালক

মোহাম্মদ রুবেলকে উদ্ধার করে আনোয়ারা হাসপাতালে পাঠায় জনতা।

আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশবক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ব্যবহূত মোটরসাইকেলে আগুন দিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নেভান।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার শত শত মানুষ রাস্তায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত ট্রাফিক পুলিশ ও সোর্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চট্টগ্রাম শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ২ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জনতার হামলায় অভিযুক্ত পুলিশের এসআই আনোয়ার আহত হন।

এদিকে, সড়ক অবরোধ করলে রাস্তার দুপাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার মানুষ যানজটের ভোগান্তিতে পড়ে। এ সময় আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ ও পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ তুলে নিলে দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ট্রাফিক পুলিশের টোকেন বাণিজ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মীর নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি অবহিত নই। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ জানান, পুলিশবক্সে ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।



মন্তব্য